প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের প্রক্রিয়া শেষে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সোমবার ইউনিক হোটেল এ্যান্ড রিসোর্টসের লেনদেন শুরু হয়েছে। উচ্চহারে প্রিমিয়াম নিয়ে আইপিও’র অনুমোদন দেয়া শুরু থেকেই এ কোম্পানির পুঁজিবাজারে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। পরে তা স্থগিত করে নতুন করে ৬৫ টাকা প্রিমিয়াম নির্ধারণ করে দেয়া হয়।
ডিএসই’র ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, লেনদেন শুরুর দিন থেকে পরবর্তী বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এ কোম্পানির শেয়ার ‘এন’ ক্যাটাগরির অধীনে লেনদেন হবে। নিয়মানুসারে সোমবার থেকে পরবর্তী ৩০ কার্যদিবস এ শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা কোন প্রকার মার্জিন লোন সুবিধা পাবেন না।
সকালে ইউনিক হোটেল এ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড ডিএসই’র সঙ্গে তালিকাভুক্তির চুক্তি করে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নূর আলী, পরিচালক এমএস চৌধুরী, ডিএসইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোশাররফ এম হোসেন, কোম্পানি সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মাদ উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারে ১০ টাকা ফেস ভ্যালুর ৬৫ টাকা প্রিমিয়াম নেয়া হয়েছে। ফলে প্রতিলটের জন্য বিনিয়োগকারীদের দিতে হয়েছে ৭ হাজার ৫০০ টাকা। কোম্পানি পুঁজিবাজারে ২ কোটি ৬০ লাখ শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে মোট ১৯৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। ৩১ ডিসেম্বর (জানু-ডিসেম্বর’১১) সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক নিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির কর পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১০৪ কোটি ৭৩ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪.৫৫ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল যথাক্রমে ১১৯ কোটি ২৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ৫.৫২ টাকা।
পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করা ১৯৫ কোটি টাকা দিয়ে কোম্পানি ওয়েস্টিন-২, লা মেরিডিয়ান ও লাক্সারিয়ান মেরিডিয়ান নামে আরও তিনটি ফাইভস্টার হোটেল নির্মাণ করবে। এ ছাড়া অবশিষ্ট অর্থ কোম্পানি ব্যাংকঋণ পরিশোধ ও প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বাবদ খরচ করবে।
সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ, ৩ জুলাই, ২০১২