Tag Archives: new bo

৮ মাসে ২ লাখ ২১ হাজার বিও হিসাব বেড়েছে

গত পাঁচ দিন ধরেই পুঁজিবাজারে টানা পতন ঘটলেও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি এবং প্রত্যাশিত মুনাফার আসায় বাজারে আবারও আসছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। গত ৮ মাসে পুঁজিবাজারে বেনিফিশারি ওনার্স হিসাব (বিও হিসাব) বেড়েছে প্রায় দু’ লাখ। গত জুন মাসে বিও নবায়ণ করায় তার সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২৩ লাখ। রবিবার পর্যন্ত এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ২১ হাজার ৩২৮টি। বাংলাদেশ সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ (সিডিবিএল) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
বর্তমানে বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা, অধিকাংশ কোম্পানিতে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ থাকা, সেই সঙ্গে বেশি বেশি আইপিওর অফার থাকায় এমনটি হয়েছে বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। গত জুন মাসে বিও এ্যাকাউন্ট নবায়ন না কারার কারণে ৬ লাখ বিও বাতিল হয়ে যায়। প্রতিনিয়তই কমতে থাকে বিওর সংখ্যা। এক পর্যায়ে তা কমতে কমতে ২৯ লাখ থেকে বিও নেমে আসে ২৩ লাখে। এর পর গত ৮ মাসের ব্যবধানে নতুন বিও বেড়েছে ২ লাখের বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিও খোলা হয় গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে। এই দুই মাসে বিও খোলা হয় ১ লাখ ২ হাজার। গত কয়েক মাসে বাজারে কয়েকটি কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের কারণে বিও বেড়েছে।
সিডিবিএল সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে বিও বেড়েছে প্রায় ৩২ হাজার। বর্তমানে বাজারে যে ২৫ লাখ বিও রয়েছে তার মধ্যে পুরুষ বিনিয়োগকারীর বিও রয়েছে ১৮ লাখ ৬৫ হাজার ২৮৪টি। অন্যদিকে নারী বিনিয়োগকারীর বিও সংখ্যা ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫৯৪টি। আর কোম্পানি বিও রয়েছে ৮ হাজার ৮৯৯টি। উল্লেখ্য, মোট বিওর মধ্যে প্রবাসীদের এ্যাকাউন্ট রয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯১৪টি।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি মোট বিও এ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৮৪ হাজার। সেই বছরের ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ লাখ ২০ হাজার ৩৯৮টিতে। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের বাজারে আসার খবরে বাড়ে ৪ লাখ বিও। ২০১০-এর মার্চে গিয়ে এর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ২৪৬ টিতে। পরবর্তীতে বাজার আরও ফুলে ওঠায় পুঁজিবাজারে নতুন মুখের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। এরপরে ২০১১ তে বিও সংখ্যা ৩৪ লাখ অতিক্রম করে। পরবর্তীতে বাজারে ধস নামলে ২০১১ সাল ৫ লাখ এবং ২০১২ সালে মোট ৬ লাখ বিও বাতিল হয়ে যায়। অর্থাৎ দুই বছরে প্রায় ২ লাখ বিও বাতিল হয়। এর পর সরকার এবং বাজার সংশ্লিষ্টদের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বাজারমুখী হতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। ফলে বিও সংখ্যা বাড়তে থাকে। বিষয়টি জানতে যোগাযোগ করা হলে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট মোঃ শাকিল রিজভী বলেন, দীর্ঘ মন্দা পরিস্থিতি মোকাবেলা করার পর বাজার কিছুটা হলে স্বাভাবিক হচ্ছে। আর সেই কারণেই বাজারের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। ফলে বাড়ছে বিও সংখ্যা। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে ভিন্নমত পোষণ করেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা বলেন, বিও বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়ার দরকার। অনেক হাউসে তা নেই বলে তারা অভিযোগ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য একটি ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তা জানান, আমাদের হাউসে জায়গা স্বল্পতাসহ অন্যান্য সমস্যা রয়েছে অনেক দিন থেকে। এ ব্যাপারে মালিককে কয়েকবার জানালেও এখন পর্যন্ত সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কোন উদ্যোগ তিনি নেননি। এত ছোট ঘরে বসে লেনদেন করতে আমাদেরও ভাল লাগে না। আমরা এখানে চাকরি করি। আমরা তো আর নীতিনির্ধারক নই। নিয়ম নীতি পাল্টাতে হলে মালিক পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। এর জন্য আর্থিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি তাদের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার।

 

দৈনিক জনকন্ঠ