Tag Archives: IPO

ফার কেমিক্যালে সাড়ে ৭১ গুণ টাকা জমা

প্রাথমিক গণ প্রস্তাবে (আইপিও) ফার কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডে সাড়ে ৭১ গুণ টাকার আবেদন জমা পড়েছে। সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ফার কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজের আইপিওতে ৮৫৯ কোটি ৯৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকার আবেদন জমা পড়েছে। যা উত্তোলনকৃত টাকার চেয়ে ৭১.৬৬ গুণ। এর মধ্যে সাধারণ, ক্ষতিগ্রস্ত ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৮৪৪ কোটি ৭৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকার আবেদন এবং ২৪ মার্চ পর্যন্ত প্রবাসি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১৫ কোটি ২৫ লাখ টাকার আবেদন জমা পড়েছে।

গত ১০ মার্চ থেকে কোম্পানিটির আইপিওতে আবেদন শুরু হয়ে শেষ হয় ১৬ মার্চ। প্রবাসি বিনিয়োগকারীরা আজ ২৫ মার্চ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে।

ফার কেমিক্যাল শেয়ারবাজার থেকে ১২ কোটি টাকা উত্তোলন করার জন্য ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ার ছেড়েছে। এ জন্য কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা এবং মার্কেট লট ৫০০ শেয়ারে নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি ক্যাপিটাল মেশিনারি ক্রয় এবং বর্তমান মূলধন বাড়ানো কাজে ব্যয় করবে।

৩০ জুন ২০১৩ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫.০১ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভি) হয়েছে ১৫.৫৫ টাকা।

কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে ফার্স্ট সিকিউরিটিজ সার্ভিসেস লিমিটেড।

 
শেয়ারনিউজ২৪

আইপিও অনুমোদনে বিএসইসিকে কঠোর হতে হবে- রকিবুর রহমান

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে কোনো কোম্পানিকে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন প্রদানের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) আরো কঠোর হওয়ার আহবান জানিয়েছেন ডিএসই’র প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান।সোমবার ডিএসই’র ওয়েবসাইটের বাংলা ভার্সন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

রকিবুর রহমান বিএসইসি’র প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কোম্পানির সকল তথ্য যাচাই করে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দিতে হবে। যাতে করে যেনতেন কোম্পানি বাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ না পায়।

অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। যেটা বাজারের স্বার্থে অব্যাহত রাখতে হবে। আর তা সম্ভব হলেই বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। আর বাজার স্থিতিশীল হলেই তারল্য সঙ্কট থাকবে না বলে জানান ডিএসই প্রেসিডেন্ট।

শেয়ারনিউজ২৪ডটকমের সঙ্গে আলাপকালে রকিবুর রহমান বলেন, অনেক কোম্পানি তালিকাভুক্তির আগে ভালো পারফরমেন্স দেখায়; কিন্তু পরে ধারাবাহিকতা থাকে না। এর পিছনে কারণ কি তা খুঁজে বের করা দরকার। আর এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা আছে কোম্পানির আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিএসইসি স্টক এক্সচেঞ্জের পরামর্শকে গুরুত্ব দেয় না। যে কারণে অনেক অযোগ্য কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের অর্থ লোপাট করেছে। তাই বাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং স্টক এক্সচেঞ্জকে সম্মিলিতভাবে পরামর্শ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

উল্লেখ্য, এপোলো ইস্পাতের আইপিও অনুমোদন নিয়ে এরই মধ্যে কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে বিএসইসিকে। তবে এক্ষেত্রে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ এপোলো ইস্পাতের কার্যক্রম ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল বিএসইসির কাছে।

Textile firms line up to raise funds from public

Textile companies opt to raise funds from the capital market instead of the banking sources as banks have taken a cautious stance in disbursing industrial credits.

The recent loan scams, mounting classified loans in banks and the possible volatility centring the upcoming national election have made the banks more careful, bankers said.

Recently, around 50 companies from different sectors submitted prospectuses for initial public offerings to the Bangladesh Securities and Exchange Commission (BSEC).

Of the companies, 15 from the textile sector want to raise Tk 1,670 crore, according to the BSEC.

Some of the companies asked for a premium of up to Tk 40 for each share of Tk 10.

Most of the IPO requests were from the textile sector, according to the regulator and the Dhaka Stock Exchange.

A DSE official said it is urgent to ensure proper enforcement of IPO rules and regulations, particularly about the uses of funds.

“The textile companies want to raise funds from the capital market due to low interest rates,” said Syed Mahbubur Rahman, managing director of BRAC Bank.

Cost of capital increased in the banking sector, which in turn hiked interest rates for lending to 15-16 percent, Rahman said, adding that bankers always prefer companies with good performances to disburse industrial credits, he said.

Some banks have adopted a go-slow policy in disbursing credits because of the upcoming national election, he said.

The textile companies now prefer the capital market, as they will not need to worry about high interest rates, said Md Fakhrul Alam, deputy managing director of Eastern Bank.

Textile firms were attracted to the stockmarket, as the market is getting stronger slowly, he said.

Among the 242 listed companies of 18 different sectors, 28 are from the textile sector, according to the DSE.

Banks eat up a significant portion of the profit of the textile companies in the form of interest, said Monsoor Ahmed, secretary of Bangladesh Textile Mills Association.

The companies can easily repay the bank loans by raising capital through IPOs or offloading shares, Ahmed said.

However, Ahasanul Islam, a director of the DSE, called for caution before giving approvals to the new IPOs, including those from the textile sector, to protect investor interest as many companies are coming to obtain easy funds.

Islam, also a vice president of Bangladesh Insurance Association, stressed transparency in the accounting process as some companies are revaluing assets to increase earnings for higher premium in IPOs.

“We are studying the IPO prospectuses,” an official of the BSEC said, asking not to be named as he is not the right person to talk to the media.

The regulator will give green light to the companies that will comply with the securities rules, he said, adding: “The BSEC will not give in to any political pressure while approving the IPOs.”

The companies awaiting the IPO approvals are: Far East Knitting and Dyeing, Keya Cotton Mills, Paramount Textiles, Hamid Fabrics, MP Spinning Mills, Matin Spinning Mills, Keya Spinning Mills, Dragon Sweater and Spinning, Mozaffar Hossain Spinning Mills, Tung Hai Knitting and Dyeing, Fiber Shine, Hwa Well Textiles (BD), Royal Denim, Shasha Denims, and Aman Cotton Fibrous.

The regulator on January 22 approved the IPO proposal of Familytexbd, a garment maker and exporter, who will offload 34 million ordinary shares at an offer price of Tk 10 to raise Tk 34 crore.

আইপিওর ৩ শতাংশ কর মওকুফের সিদ্ধান্ত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির অনুমোদন পাওয়া কোম্পানির প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) ওপর থেকে ৩ শতাংশ কর মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী জুন থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে ক্যাপিটাল মার্কেট ভেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-২ (সিএমডিপি-২) এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যলোচনার জন্য অনুষ্ঠিত অর্থমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত গত ১৬ জানুয়ারী সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

বন্ধ হচ্ছে আরপিও

পুঁজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বন্ধ হচ্ছে কোম্পানিগুলোর রিপিট পাবলিক অফার বা আরপিও।
জানা গেছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে অতীতের মতো কোন কোম্পানি বাজার থেকে পুনর্আইপিওর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করতে পারবে না। অতীতের তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানির এ প্রক্রিয়ায় অর্থ উত্তোলনের মারাত্মক পরিণতির কথা চিন্তা করে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশ্বস্ত সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের পুঁজিবাজারে রিপিট আইপিও প্রচলিত রয়েছে। নিয়মানুযায়ী তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে রিপিট আইপিওর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করতে পারে। আমাদের দেশেও এমন নিয়ম রয়েছে। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত দুটি কোম্পানি আরপিওর মাধ্যমে মূলধন উত্তোলন করেছে। কিন্তু দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতারিত হয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এই প্রক্রিয়ায় টাকা তুলে কোম্পানিগুলো লাভবান হলেও নিঃস্ব হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এ কোম্পানি দুটি হচ্ছে গোল্ডেনসন ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রিপিট আইপিওর মাধ্যমে সর্বশেষ বাজারে আসা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) আরপিওর শেয়ার এখন বিনিয়োগকারীদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরপিওর মাধ্যমে শেয়ার পেয়েও তাদের এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে। কারণ ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের (ফেস ভ্যালু) শেয়ারে ৪০০ টাকা প্রিমিয়াম নিয়ে ৫০০ টাকা দরে আরপিওতে আসার পর এখন তা অফার প্রাইজের নিচে অবস্থান করছে। আর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। বর্তমানে এ শেয়ার ২৭০ থেকে ২৮০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক বছরে কোম্পানির সর্বোচ্চ দর ছিল ২ হাজার ২০০ টাকা। গত ৯ অক্টোবর থেকে এর আরপিও আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। ওই মাস থেকে এর দর কমতে থাকে এবং ডিসেম্বরে এসে তা ৫০০ টাকার নিচে নেমে যায়। এরপর থেকে এ শেয়ারের দর ৫০০ টাকার নিচে রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন দর হয় ২১৬ টাকা। আরপিওতে প্রতিটি লটের (পাঁচটি) জন্য বিনিয়োগকারীকে দুই হাজার ৫০০ টাকা জমা দিতে হয়েছে। অথচ বর্তমান দর অনুযায়ী এক লটের দর দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা।
অন্যদিকে আরপিওর প্রতিবেদনে কোম্পানিটি গত ৫ বছরের গড়ের ভিত্তিতে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দেখায় ৪৮ টাকা ৭৬ পয়সা। তবে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১০ সালের ইপিএস ১৮ টাকা ১৬ পয়সা। উচ্চ প্রিমিয়ামে আরপিওতে আসার পর কোম্পানিটি ২০১১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আর্থিক প্রতিবেদন এসইসিতে জমা দেয়নি। এজন্য প্রতিষ্ঠানের সব পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিবকে শোকজ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফলে সব মিলিয়ে এ কোম্পানির উচ্চ প্রিমিয়ামে আরপিওতে আসার প্রক্রিয়া এবং আর্থিক প্রতিবেদনে অসচ্ছতা রয়েছে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। আর এজন্যই এর শেয়ার কিনে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
এদিকে বিষয়টি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, ডিএসইর প্রেসিডেন্ট মোঃ রকিবুর রহমান বলেন, আমরা চিন্তাভাবনা করছি ভবিষ্যতে আর কোন কোম্পানি যাতে আরপিওর মাধ্যমে শেয়ার ছাড়তে না পারে।
প্রসঙ্গত গত আগস্টে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত এ কোম্পানির আরপিও অনুমোদন করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আরপিওর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজারে ৬২ লাখ ৭৪ হাজার শেয়ার ইস্যু করে ৩১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা তোলার আবেদন করে। এক্ষেত্রে ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের দর ৪০০ টাকা। প্রিমিয়ামসহ নির্ধারণ করা হয় ৫০০ টাকা। এত উচ্চ প্রিমিয়ামের যৌক্তিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও বিএসইসির অনুমোদনে কোন বাধা সৃষ্টি হয়নি।
মূলত এ কোম্পানি রিপিট আইপিওতে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় টনক নড়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর একজন উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, কোম্পানির মূলধন বাড়াতে চাইলে রাইট শেয়ার কিংবা বোনাস শেয়ার ছাড়তে পারে। এখানে আরপিও ছাড়ার কোন যুক্তি নেই। বরং যেসব কোম্পানি এ প্রক্রিয়ায় টাকা তুলতে চায় সেগুলোর আবেদনই প্রশ্নবিদ্ধ। বিএসইসির তা খতিয়ে দেখা উচিত। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বলেন, আমরা রিপিট আইপিও চাই না। এটি বিলুপ্ত হলে আমাদের জন্য ইতিবাচক হবে।

ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে বিএসইসির ইঁদুর বিড়াল টুর্নামেন্ট

আইপিওতে ২০ শতাংশ কোটা

ভয়াবহ ধসের পর দেশের পুঁজিবাজারে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অধিকাংশ উদ্যোগই সফলতার মুখ দেখেনি। সর্বশেষ ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রনোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা পুঁজিবাজারের ইতিহাসে নজির সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা তার সুফল পাননি। প্যাকেজের আওতায় বিশেষ স্কিমের অধীনে বিভিন্ন কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) ২০ শতাংশ কোটা নিয়ে সম্প্রতি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে ইদুর বিড়াল খেলছে বলে বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করেছেন।

গত দেড় মাস ধরে প্রায় প্রতিদিন বিনিয়োগকারীরা শেয়ারনিউজ২৪ডটকমে ফোন করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নির্ধারিত আইপিও কোটা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। কারণ, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বিএসইসির পক্ষ থেকে যৌথ হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত কোটায় আবেদন বিবেচনা না করার নিয়ম চালু করা হয়েছে। যৌথ হিসাবে আবেদনকারীদের বিশেষ স্কিমের অধীনে ক্ষতিগ্রস্ত কোটার আবেদন গ্রহণ না করার জন্য হাউজগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অথচ বিশেষ স্কিম ঘোষণার সময় এমন নির্দেশনা ছিল না। এতে করে আরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, অনেকে জেনারেশন নেক্সটের আইপিওতেও যৌথ কোটায় আবেদন করে এলোটমেন্ট পেয়েছেন। অনেকে যৌথ একাউন্টে আবেদন করায় তা বাতিল করা হয়েছে। যৌথ একাউন্টে আবেদনের অপরাধে অনেকের টাকাও কেটে নেয়া হয়েছে। এরপর আর্গন ডেনিমসের আবেদন করতে গিয়ে তারা জানতে পারেন এখন থেকে যৌথ হিসাবে আবেদন করা যাবে না।

তারা আরো বলেন, অনেক বিনিয়োগকারী আছেন যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবার পর একক হিসাবটি নবায়ন করেননি। শুধু যৌথ একাউন্টের মাধ্যমে বর্তমানে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন। এমতাবস্থায় তাদের প্রশ্ন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও কেন তারা যৌথ হিসাবে আবদেন করতে পারবেন না?

ই সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী বদরুল ইসলামের অভিযোগ, জেনারেশন নেক্সেটের যৌথ হিসাবে (হিসাব নং-১২০২৮৮০০৪৫৩৩১০) আবেদন করায় তার ৫০ শতাংশ টাকা কেটে নেয়া হবে বলে হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অথচ এ ব্যাপারে কোনো পূর্ব ঘোষণা দেয়া হয়নি। আর বিশেষ স্কিম ঘোষণার সময় একক এবং যৌথ একাউন্টের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করেও কিছু বলা হয়নি। তাহলে এখন কেন এমন প্রহসন?

মৌলভীবাজারের বিনিয়োগকারী শাহ আলম অভিযোগ করেন, প্রিমিয়ার সিমেন্টে যৌথ হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত কোটায় আবেদন করায় তার টাকা কেটে নেয়া হবে বলে হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উইফাং সিকিউরিটিজে তার ট্রেডিং কোড ১৬৯০।

গ্রীণল্যান্ড ইক্যুইটির বিনিয়োগকারী বিকাশ মল্লিক এবং প্রদীপ কুমারও একই অভিযোগ করেন। এছাড়া এসবি সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী সাইফুল ইসলাম রনি (বিও নং- ১২০৪২৪০০৪৫৯৪৩২০৭), এমদাদ হোসেন (বিও নং- ১২০৪২৪০০৪৫৯৪০১০৪) এবং মো. রমজান (বিও নং- ১২০৪২৪০০৪৫৯৬০৩১৫) সানলাইফের আইপিওতে ক্ষতিগ্রস্ত কোটায় জয়েন্ট একাউন্টে (যৌথ হিসাব) আবেদন করে এলাটমেন্ট পাননি। অথচ আবেদনের পূর্বে তারা এ ধরণের কোনো নির্দেশনা পাননি বলে অভিযোগ করেন।

মশিহর সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী জোবায়রুল ইসলাম জেনারেশন নেক্সেটের আইপিওতে যৌথ হিসাবে আবেদন করে এলোটমেন্ট পেলেও আর্গন ডেনিমসের এলোটমেন্ট পাননি।

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা এ ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, স্কিম ঘোষণার সময় যদি যৌথ একাউন্টের আবেদন বিবেচনায় নেয়া হবে না জানিয়ে দেয়া হতো তাহলে তাদের নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়তে হতো না। কারণ, যৌথ একাউন্টে আবেদন করার অপরাধে অনেকের টাকা কেটে রাখা হয়েছে। এছাড়া সময়মতো রিফান্ড না পেয়ে অনেকে অন্য কোম্পানিতে আবেদন করতে পারেননি।

বিনিয়োগকারীরা বলেন, একই কোম্পানির ক্ষেত্রে তারা দু’রকম নিয়মও পেয়েছেন। আর্গন ডেনিমস, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ারের আইপিও ফরমের কোনোটিতে যৌথ একাউন্টে আবেদন না করার জন্য বলা হয়েছিল। আবার কোনোটিতে এ ব্যাপারে কিছুই উল্লেখ ছিল না। হাউজগুলোতে গেলে তারাও স্পষ্ট করে কিছু বলতে চায় না। হাউজের পক্ষ থেকে বিএসইসিতে যোগাযোগ করতে বলা হয়। বিএসইসিতে যোগাযোগ করা হলে অধিকাংশ সময় কেউ ফোন ধরে না। ফোন ধরলেও এ ব্যাপারে কেউ কিছু বলতে চায় না। বিষয়টি তাদের জন্য খুবই বেদনাদায়ক বলে বিনিয়োগকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে শেয়ারনিউজের পক্ষ থেকে বিভিন্ন হাউজে যোগাযোগ করা হলেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকটি হাউজের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিএসইসির নির্দেশে এমন করা হচ্ছে বলে জানান।

অপরদিকে এ ব্যাপারে বিএসইসিতে যোগাযোগ করা হলে কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ আসলে বিষয়টি দেখা হবে বলে জানানো হয়।

এ ব্যাপারে খ্যাতনামা একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিনিয়োগকারীদের নিয়ে ইদুর বিড়াল খেলা বিএসইসির পক্ষে মানায় না। অভিভাবক হিসাবে বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে ষ্পষ্ট করা জরুরি। কারণ, অষ্পষ্ট জিনিস থেকে বিভ্রান্তি ছড়ায়, আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেউ না কেউ ফায়দা হাসিল করে।

তিনি আরো বলেন, স্কিম ঘোষণার সময় এ বিষয়টি স্পষ্ট করা উচিত ছিল। এতোদিন পর গোপনে গোপনে কেন এমন নিয়ম চালু করা হলো তা আমার বোধগম্য নয়।

সূত্র: শেয়ারনিউজ২৪.কম, জানুয়ারি ০৬, ২০১২

তারল্য সংকট থাকলে আইপিও-তে অধিক পরিমানে আবেদন পড়ত না

সাংবাদিকদের এবিবি সভাপতি
তারল্য সংকট নয়, আস্থা ও সমন্বয়হীনতাই দর পতনের প্রধান কারণ

পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট নেই। যদি তাই থাকত তবে নতুন কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবগুলোতে অধিক পরিমানে আবেদন পড়ত না। বাজারে অন্য সমস্যা রয়েছে। আস্থা এবং সমন্বয়হীনতা দর পতনের প্রধান কারণ। আজ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সঙ্গে ১৯টি ব্যাংকের প্রতিনিধিদের বৈঠক শেষে এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি নূরুল আমিন সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

সিএসই’র ঢাকা কার্যালয়ে আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা এবং ব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়।

এবিবি’র সভাপতি বলেন, ব্যাংকগুলোর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। পুঁজিবাজার ধসের পর থেকে ব্যাংকগুলো ব্যাপক লোকসানে আছে। এছাড়া সম্প্রতি ব্যাংকগুলোকে বড় অংকের প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়েছে।

তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারের সঙ্গে আছে জানিয়ে নূরুল আমিন বলেন, ব্যাংকগুলো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী নয়। ব্যাংক পরিচালিত হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইন দ্বারা এসইসি’র আইন দ্বারা নয়। পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করলে কিংবা তালিকাভুক্ত না হলে এসইসির কিছু করার নেই।

বৈঠক শেষে সিএসইর প্রেসিডেন্ট আল মারূফ খান বলেন, বৈঠকে কর্মাশিয়াল ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বিনিয়োগের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। সামনে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় এসেছে। আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় বাজারে কি ধরণের প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান আল মারূফ খান জানান।

বিনিয়োগকারীদের কেওয়াইসি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সিএসই প্রেসিডেন্ট বলেন, কেওয়াইসির বিয়ষটি যাদের মুখ থেকে এসেছিল আমরা চাই তাদের মুখ থেকেই তা বাতিলের ঘোষণা আসুক।

জানা যায়, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশের বাইরে থাকায় মোট ১৯টি ব্যাংক এবং আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের প্রতিনিধি হিসাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে এবি ব্যাংক, আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, পুবালী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, স্টান্ডার্ড ব্যাংক, ইউসিবিএল, ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এবং ব্যাংক এশিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আইসিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামান সভায় অংশ নেন।

সূত্র: শেয়ারনিউজ২৪.কম, নভেম্বর ২৮, ২০১২

১৪ কারণে সিএসই’র আইপিও বাতিলের প্রস্তাব

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ১৪ কারণে কোনো কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও বাতিল করতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) বিধিমালা-২০০৬ সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।

কোনো কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) জন্য দেয়া প্রস্তাবনায় ১৪টি নির্দিষ্ট কারণ থাকলে ওই আইপিও এক বছরের জন্য বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের জন্যও এক বছরের শাস্তির বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

গত ১৯ নভেম্বর সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) এ প্রস্তাবনা জমা দেয় সিএসই।

সিএসই’র পক্ষ থেকে যেসব কারণের জন্য আইপিও বাতিলের বিধান চালু করার প্রস্তাব করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- যে কোম্পানির আইপিও প্রস্তাবের মাধ্যমে অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে বোঝা সম্ভব না, ঋণ পরিশোধের জন্য আইপিও হলেও ঋণ নেয়ার কারণ অনুপস্থিত, দৃশ্যমান সম্পদ অর্জনে অর্থের ব্যবহার না হলে, যে ব্যবসার জন্য অর্থ নেয়া হচ্ছে, ওই সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন পাওয়ার পূর্বে আইপিও আবেদন করলে, যদি অর্থ উত্তোলন ও তা ব্যবহারের দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান থাকে, ব্যবসার অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের সঙ্গে হলে, অস্বাভাবিক আয়-ব্যয় হলে, অদৃশ্যমান সম্পদ বৃদ্ধি ইত্যাদি সম্পর্কে নিরীক্ষক সন্দেহ প্রকাশ করলে এবং যদি এসইসি মনে করে, বিনিয়োগকারীরা ব্যবসার ঝুঁকি নিরূপন করতে সম্ভব হবেন না এমন প্রতিষ্ঠানের আইপিও বাতিল করার প্রস্তাব দিয়েছে সিএসই।

এছাড়া আইপিওতে আসতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোর জন্য আলাদা নিরীক্ষক প্যানেল গঠনের প্রস্তাবও করা হয়েছে।

সিএসই’র প্রস্তাবনায় বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকে যেমন অডিটর প্যানেল রয়েছে, তেমনি এসইসি’র একটি আইপিও নিরীক্ষক প্যানেল তৈরি করার প্রয়োজন। আইপিও’র মাধ্যমে পুঁজিবাজার েেথকে যেসব প্রতিষ্ঠান অর্থ উত্তোলন করতে ইচ্ছুক, তাদের এসইসি’র ওই আইপিও অডিটর প্যানেলের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করাতে হবে।
একই সঙ্গে ওই প্যানেলের অডিটরের মাধ্যমে যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে সেক্ষেত্রে ওই অডিটরকে কালো তালিকাভুক্ত করারও প্রস্তাব করেছে সিএসই।

তবে প্রিমিয়ামের বিষয়ে প্রস্তাবনায় বলা হয়, প্রিমিয়ামের কোনো পূর্বনির্ধারিত কাঠামো না ঠিক করে যে প্রতিষ্ঠান যতটা প্রিমিয়াম পাওয়ার যোগ্য, ওই কোম্পানিকে ততটাই প্রিমিয়াম দেয়া উচিত।

যে কোনো প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর অন্তত দুই বছর ওই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে যাবতীয় পর্যালোচনা পরিচালনা করবে সংশ্লিস্ট ইস্যু ব্যবস্থাপক (ইস্যু ম্যানেজার)। আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার, যেসব ক্ষেত্রে আইপিও’র অর্থ ব্যবহার হওয়ার কথা, তা সঠিকভাবে হচ্ছে কি-না এসব দিক দেখবে ইস্যু ব্যস্থাপক। এর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে প্রস্তাবনায় মন্তব্য করা হয়।

এছাড়া কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে ভালো লভ্যাংশ দিয়ে থাকলেও তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সে ধারাবাহিকতা অব্যাহত না থাকার কারণে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগেই কোম্পানির একটি লভ্যাংশ দেয়ার নীতি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া আর্থিক প্রতিবেদনে দুর্নীতি প্রতিরোধে ৪টি সুপারিশ করেছে সিএসই। আর আইপিওতে আসার এক বছর আগে যে কোন্ োপ্রতিষ্ঠানের এসইসিতে রেজিস্ট্রেশন করার বিধান চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় উল্লিখিত বিধিমালাটি সংশোধনে ২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে এসইসি।

সূত্র: শেয়ারনিউজ২৪, নভেম্বর ২৮, ২০১২

প্রিমিয়াম নিয়ে আইপিওতে আসার দরকার নেই: মিজান-উর-রশিদ

বর্তমানে পতনমুখী বাজারে প্রিমিয়াম নিয়ে কোম্পানিগুলোর বাজারে আসার কোনো দরকার নেই। আর কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রয়োজনে বাজার থেকে টাকা তোলে, বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনে নয়। তাই এই বাজারে প্রিমিয়াম নিলে তা বাজারে আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমাদের দাবি, প্রিমিয়াম নেওয়া কোম্পানিগুলোর আইপিও বাতিল করতে হবে।

মঙ্গলবার লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ভবনের সামনে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে বাংলানিউজকে এসব কথা বলেন বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর-রশিদ।

তিনি বলেন, “বর্তমান বাজারে যেসব কোম্পানি প্রিমিয়াম দাবি করছে তারা বিভিন্নভাবে তাদের আর্থিক প্রতিবেদনে কারসাজি করেছে। বাজার পর্যালোচনা করে তাদের শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। কিন্তু তারা কেন প্রিমিয়াম দাবি করবে? প্রথমবার বাজারে আসতে তারা এ ধরনের প্রিমিয়াম দাবি করতে পারে না।”

বাজারে আসার পর যখন তাদের সম্পদ বাড়বে, তাদের কোম্পানিগুলো বেশি মুনাফা করবে তখন অর্থাৎ ৪/৫ বছর পর তারা প্রিমিয়াম দাবি করতে পারে। কিন্তু প্রথমবার বাজারে আসতে তারা কোনো প্রিমিয়াম দাবি করতে পারে না বলেও তিনি জানান।

‘প্রিমিয়াম না দিলে ভালো কোম্পানিগুলো তো বাজারে আসতে চাইবে না। সেক্ষেত্রে তো বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে?’— এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা তো কোম্পানিগুলোকে বলিনি আপনারা বাজারে আসেন। তারা তাদের নিজেদের প্রয়োজনে আসছে। আর বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভালো কোম্পানিগুলো কিভাবে প্রিমিয়াম নিয়ে বাজার থেকে টাকা তুলতে চাইছে তা আমার বোধগম্য নয়। বাজার ভালো থাকলে তারা এটা করতে পারতো। এতে বিনিয়োগকারীরাও লাভবান হতো, আবার কোম্পানিগুলোও লাভবান হতো।”

মিজান-উর-রশিদ বলেন, “নিম্নমুখী বাজারে একসঙ্গে অনেক আইপিও আসায় তা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সেকেন্ডারি মার্কেটের টাকা তুলে বিনিয়োগকারীরা এখন আইপিওতে বিনিয়োগ করছে। ফলে প্রতিদিনকার লেনদেন কমে গেছে। আমরা এসইসি’র কাছে সকল আইপিও বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।”

এছাড়া বিক্ষোভে বিনিয়োগকারীরা এসইসি’র চেয়ারম্যান ও ডিএসই প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করেন। তারা মার্চেন্ট ব্যাংকসহ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

মিজান-উর-রশিদ বলেন, “দরপতনের প্রতিবাদে বুধবার আমরা ডিএসই ভবনের সামনে বিক্ষোভ করবো।

এসময় তিনি সকল বিনিয়োগকারীকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ারও আহ্বান জানান।

সূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, নভেম্বর ২০, ২০১২