Tag Archives: CSE

ঋণগ্রস্ত কোম্পানি শেয়ারবাজারের জন্য বোঝা

আইপিওর মাধ্যমে ঋণগ্রস্ত কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া বাড়তি বোঝা বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বাজারে শেয়ার জোগানের সাথে চাহিদার সামঞ্জস্যতা থাকা প্রয়োজন; কিন্তু মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিকে আইপিওর মাধ্যমে বাজারে আনা না গেলে ওইসব ঋণগ্রস্ত কোম্পানি বাজার এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এ অবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে যেসব কোম্পানিকে আইপিওর মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ এবং কোনো কোনো কোম্পানিকে অযৌক্তিক প্রিমিয়াম দেয়া হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে বাজারকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে। তাই আর কোনো ঋণগ্রস্ত কোম্পানি নয়, মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি বাজারে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, ইনিশিয়াল পাবলিক অফারে (আইপিও) আসা কোম্পানি ঋণগ্রস্ত হয়ে তালিকাভুক্ত হতে আসে। আর এসব ঋণগ্রস্ত কোম্পানিকে ইস্যুয়ার, অডিটর ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস ফার্মের সংশ্লিষ্টরা আর্থিক প্রতিবেদন মোটাতাজা করে ভালো ইপিএস প্রসপেক্টাসে প্রদর্শন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পেশ করে। এরপর তৈরি করা ওই ভালো ইপিএসের দোহাই দিয়ে ভালো প্রিমিয়াম আদায় করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাথে দরকষাকষি হয়। একপর্যায়ে উভয়ের সম্মতিতে প্রিমিয়াম নির্ধারণ করে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি। এ অবস্থায় ফেস ভ্যালুর সাথে প্রিমিয়াম নেয়ার ক্ষেত্রে ওই কোম্পানি পাঁচ বছরের মধ্যে তাদের পূর্বে প্রেরিত পারফরমেন্স এবং আর্থিক প্রতিবেদন দিনে দিনে রুগ্ণ হয়ে না যায়, সেজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কোম্পানি ইস্যুয়ার, অডিটর ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস ফার্মের নিশ্চয়তা অপরিহার্য হওয়া উচিত।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, শেয়ারবাজারে যেসব কোম্পানি ঋনগ্রস্ত হয়ে বাজারে আসে। সেসব কোম্পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সন্দিহান হয়ে পড়েন। কারণ কোম্পানির সংশ্লিষ্ট অসৎ কর্মকর্তারা এ টাকা নিজেদের মধ্যে আয়েশী জীবন ধারণে ব্যয় বা এফডিআরের মাধ্যমে ব্যবসা করে থাকে। এছাড়া প্রিমিয়াম নেয়া কোম্পানিগুলো তাদের মোট সম্পদকে অনেক বেশি বাড়িয়ে বাজারে আসার পর দুয়েক বছর আর্থিক প্রতিবেদন ভালো দেখানোর পর ধীরে ধীরে রুগ্ণতার দিকে অগ্রসর হয়। কিন্তু কেন কোম্পানি এ ধরনের রুগ্ণতার মুখে পড়ে সে খবর কেউ রাখে না।

কয়েকজন বড় ব্যক্তি বিনিয়োগকারী জানান, গত এক বছরে যেসব কোম্পানি প্রিমিয়ামসহ বাজারে এসেছে সেসব কোম্পানির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় পর্যায়ে রয়েছে। মূলত এসব (বেঙ্গল উইন্ডসোর থার্মাপ্লাস্টিক লি., জিপিএইচ ইস্পাত, গোল্ডেন হারভেস্ট এগ্রো ইন্ডাস্ট্র্রিজ লি., জিবিবি পাওয়ার, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল লি., ওরিয়ন ফার্মা, আরগন ডেনিমস, জেনারেশন নেক্সট, ফ্যামিলি টেক্স, অ্যাপোলো ইস্পাত, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলস, সেন্ট্রাল ফার্মা) কোম্পানি বাজার আসার এক মাসের মধ্যে শেয়ারের দর অনেক উঁচুতে তুলে ধীরে ধীরে তলানিতে নেমে আসছে। এতে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছে। এ অবস্থায় কোম্পানির প্রিমিয়াম দেয়ার ক্ষেত্রে শতভাগ লোন পরিশোধ নয়, ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে এবং লোন সঠিকভাবে সংশ্লিষ্টরা ব্যবহার করছে কি না সেটা বিএসইসিকে নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিষয়ে কয়েকটি মিউচুয়্যল ফান্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে এলে অবশ্যই ভালো প্রিমিয়াম বিবেচিত হবে। আবার অখ্যাত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন মোটাতাজা করে ভালো ইপিএস দেখিয়ে প্রিমিয়াম নেয়ার ক্ষেত্রে কঠোর পন্থা অবলম্বন করতে হবে। এছাড়া যারা লোন পরিশোধের জন্য প্রিমিয়াম দাবি করে, তাদের প্রিমিয়াম দেয়া উচিত নয়।

এ বিষয়ে কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে কোনোভাবে প্রিমিয়াম দেয়া উচিত নয়। এছাড়া একসঙ্গে একাধিক কোম্পানির আইপিও অনুমোদন ও চাঁদা সংগ্রহ বর্তমান বাজারকে দুর্বল করতে পারে। কারণ এ টাকা বাজার থেকে বের হয়ে যায়। এতে বাজারে পূর্বের ন্যায় তারল্য সংকট দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে বাজারের শেয়ারের চাহিদার সাথে সরবরাহের মিল রেখে বহুজাতিক কোম্পানি বা দেশীয় ভালো মুনাফায় থাকা কোম্পানিগুলো আনা উচিত। এতে ভালো কোম্পানিগুলোর মধ্যে শেয়ারবাজারে আসার আগ্রহ সৃষ্টি হবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের এক নেতা জানান, আইপিওতে আসা কোনো কোম্পানিকে প্রিমিয়াম দেয়া হলে ওই কোম্পানির সংশ্লিষ্টদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এ নেতা আরো জানান, লোন পরিশোধের জন্য যেসব কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসে, সে কোম্পানি কখনো ভালো পারফরমেন্স দেখাতে পারে না। একপর্যায়ে এ কোম্পানি লোকসান দেখাতে দেখাতে জেড ক্যাটাগরিতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

 

শেয়ারনিউজ২৪

১৪ কারণে সিএসই’র আইপিও বাতিলের প্রস্তাব

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ১৪ কারণে কোনো কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও বাতিল করতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) বিধিমালা-২০০৬ সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।

কোনো কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) জন্য দেয়া প্রস্তাবনায় ১৪টি নির্দিষ্ট কারণ থাকলে ওই আইপিও এক বছরের জন্য বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের জন্যও এক বছরের শাস্তির বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

গত ১৯ নভেম্বর সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) এ প্রস্তাবনা জমা দেয় সিএসই।

সিএসই’র পক্ষ থেকে যেসব কারণের জন্য আইপিও বাতিলের বিধান চালু করার প্রস্তাব করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- যে কোম্পানির আইপিও প্রস্তাবের মাধ্যমে অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে বোঝা সম্ভব না, ঋণ পরিশোধের জন্য আইপিও হলেও ঋণ নেয়ার কারণ অনুপস্থিত, দৃশ্যমান সম্পদ অর্জনে অর্থের ব্যবহার না হলে, যে ব্যবসার জন্য অর্থ নেয়া হচ্ছে, ওই সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন পাওয়ার পূর্বে আইপিও আবেদন করলে, যদি অর্থ উত্তোলন ও তা ব্যবহারের দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান থাকে, ব্যবসার অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের সঙ্গে হলে, অস্বাভাবিক আয়-ব্যয় হলে, অদৃশ্যমান সম্পদ বৃদ্ধি ইত্যাদি সম্পর্কে নিরীক্ষক সন্দেহ প্রকাশ করলে এবং যদি এসইসি মনে করে, বিনিয়োগকারীরা ব্যবসার ঝুঁকি নিরূপন করতে সম্ভব হবেন না এমন প্রতিষ্ঠানের আইপিও বাতিল করার প্রস্তাব দিয়েছে সিএসই।

এছাড়া আইপিওতে আসতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোর জন্য আলাদা নিরীক্ষক প্যানেল গঠনের প্রস্তাবও করা হয়েছে।

সিএসই’র প্রস্তাবনায় বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকে যেমন অডিটর প্যানেল রয়েছে, তেমনি এসইসি’র একটি আইপিও নিরীক্ষক প্যানেল তৈরি করার প্রয়োজন। আইপিও’র মাধ্যমে পুঁজিবাজার েেথকে যেসব প্রতিষ্ঠান অর্থ উত্তোলন করতে ইচ্ছুক, তাদের এসইসি’র ওই আইপিও অডিটর প্যানেলের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করাতে হবে।
একই সঙ্গে ওই প্যানেলের অডিটরের মাধ্যমে যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে সেক্ষেত্রে ওই অডিটরকে কালো তালিকাভুক্ত করারও প্রস্তাব করেছে সিএসই।

তবে প্রিমিয়ামের বিষয়ে প্রস্তাবনায় বলা হয়, প্রিমিয়ামের কোনো পূর্বনির্ধারিত কাঠামো না ঠিক করে যে প্রতিষ্ঠান যতটা প্রিমিয়াম পাওয়ার যোগ্য, ওই কোম্পানিকে ততটাই প্রিমিয়াম দেয়া উচিত।

যে কোনো প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর অন্তত দুই বছর ওই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে যাবতীয় পর্যালোচনা পরিচালনা করবে সংশ্লিস্ট ইস্যু ব্যবস্থাপক (ইস্যু ম্যানেজার)। আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার, যেসব ক্ষেত্রে আইপিও’র অর্থ ব্যবহার হওয়ার কথা, তা সঠিকভাবে হচ্ছে কি-না এসব দিক দেখবে ইস্যু ব্যস্থাপক। এর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে প্রস্তাবনায় মন্তব্য করা হয়।

এছাড়া কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে ভালো লভ্যাংশ দিয়ে থাকলেও তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সে ধারাবাহিকতা অব্যাহত না থাকার কারণে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগেই কোম্পানির একটি লভ্যাংশ দেয়ার নীতি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া আর্থিক প্রতিবেদনে দুর্নীতি প্রতিরোধে ৪টি সুপারিশ করেছে সিএসই। আর আইপিওতে আসার এক বছর আগে যে কোন্ োপ্রতিষ্ঠানের এসইসিতে রেজিস্ট্রেশন করার বিধান চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় উল্লিখিত বিধিমালাটি সংশোধনে ২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে এসইসি।

সূত্র: শেয়ারনিউজ২৪, নভেম্বর ২৮, ২০১২

আইপিও আবেদনে অতিরঞ্জিত তথ্য: সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাব করবে সিএসই

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে মিথ্যাচার বন্ধে তৎপরতা বাড়িয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। এরই ধারাবাহিকতায় কোনো কোম্পানি যাতে প্রসপেক্টাসে মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত তথ্য দিয়ে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন করতে না পারে সে জন্য এ সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কাছে প্রস্তাব দিবে সিএসই। প্রসপেক্টাসে ভুয়া বা অতিরঞ্জিত তথ্য দিলে আইপিও আবেদন বাতিলের সুযোগ রেখে চলতি সপ্তাহের মধ্যে সিএসইর পক্ষ থেকে এসইসিতে একগুচ্ছ প্রস্তাব জমা দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আইপিও আবেদনে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কোম্পানি, পরিচালনা পর্ষদ, ইস্যু ম্যানেজার, আন্ডার রাইটার, হিসাব নিরীক্ষক এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আর্থিক দন্ড ছাড়াও অন্তত এক বছরের জন্য লাইসেন্স স্থগিত বা পুরোপুরি বাতিলের ব্যবস্থা রাখারও সুপারিশ করবে সিএসই। এছাড়া আইপিও আবেদন বাতিলের পরবর্তী এক বছর কোম্পানি কর্তৃক নতুন করে আবেদন করার সুযোগ রহিত করার সুপারিশও করা হবে।

জানা যায়, সম্প্রতি পাশ্ববর্তী দেশ ভারতেও আইপিও আবেদনে মিথ্যা বা ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্য দেয়ার বিষয়টি রোধ করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (এসইবিআই)। অতিরঞ্জিত তথ্য দিয়ে আইপিও আবেদন করার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ভারতের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা গত অক্টোবরে আইপিও আবেদন বাতিলের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রেও একই সমস্যার কারণে আইপিও আবেদন বাতিলের প্রস্তাব করবে সিএসই।

এদিকে এসইসির বিদ্যমান আইনে আইপিও আবেদন বাতিলের সুযোগ নেই। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হলে আইপিও প্রস্তাব ফেরত প্রদানের সুযোগ আছে। এরপরও প্রসপেক্টাসে (কোম্পানি সংশ্লিষ্ট তথ্যবিবরণী) অসত্য তথ্য প্রদান করে অনেক কোম্পানি। এ অভিযোগে গত ২৯ মে অ্যাপোলো ইস্পাত কোম্পানির আবেদন বাতিল করেছিল এসইসি। এমনকি কোম্পানি, ইস্যু ম্যানেজার ও নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা করে এবং সম্পদ পুনর্মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখসহ মোট ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অনুমোদন পাওয়া আইপিও নিয়ে অনেক অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। সত্য বা মিথ্যা যাই হোক না কেন, এসব অভিযোগ প্রমাণ করে যে, মানুষের মধ্যে আইপিও অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ও অবিশ্বাস রয়েছে। তাই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। যতটা সম্ভব জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ করতে হবে। আইপিও মূল্য নির্ধারণ নিয়ে সিএসই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ্য করেছে। বিশেষ করে আইপিও অনুমোদনের আগের সর্বশেষ ৩ বা ৪ বছরে কোম্পানির মুনাফা হঠাৎ বেড়ে যায়। অধিক প্রিমিয়াম পেতে ও আইপিও আকর্ষণীয় করতে কোম্পানিগুলো আর্থিক হিসাবে গরমিল করে। এটা বড় ধরনের অপরাধ। এজন্য কেবল আর্থিক দন্ড নয়, প্রয়োজনে জেল ও কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করার মতো বিধান চালু করা উচিত ।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সরকারের প্রভাবশালী মহলের তদবিরে একের পর এক আইপিও’র অনুমোদন দিচ্ছে এসইসি। এমনকি অত্যধিক প্রিমিয়ামে আইপিও অনুমোদন দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া কোম্পানির সম্পদ ও শেয়ার ধারণ সর্ম্পকিত অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য প্রদান করতে না পারার পরও বেশ কয়েকটি কোম্পানির আইপিও আবেদন অগ্রাহ্য না করারও ঘটনা ঘটেছে। কোম্পানিগুলোকে আর্থিক হিসাব ঠিক করে আনার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া দুই স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃক আবেদনকারী কোম্পানির বিষয়ে তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন প্রদান করা হলেও তা আমলে নিচ্ছে না এসইসি। তাই আইপিও’র আবেদন বাতিল করার সুযোগ রাখতে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধনের জন্য যে প্রস্তাব রাখা হবে তা আদৌ আমলে নেয়া হবে কিনা তা ভাববার বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: শেয়ারনিউজ২৪, নভেম্বর ১১, ২০১২

Penalty for submitting false disclosures in IPOs

The Chittagong Stock Exchange (CSE) will, reportedly, submit a set of proposals to the Securities and Exchange Commission (SEC) with a view to ensuring transparency and accountability in the case of disclosures made by companies while floating their initial public offerings (IPOs). The CSE proposals, according to a report published in this paper, will include provisions for meting out punishment to issuers and issue-managers submitting IPOs with fabricated disclosures. The bourse will also want the securities regulator to make public the details of errant companies and reasons for rejecting their IPOs.

The proposals demonstrate the CSE’s desire to stop companies with dubious records from coming to the stock market with an ulterior motive to cheat the investors. There is no denying that not all issues listed with any bourse perform, financially, in line with the desire of their shareholders. Some companies do earn the distinction of being called as ‘blue chip’ companies for their excellent performance for consecutive years. The performance of a good number of companies is found to be average while some others perform badly, raising frustration among the investors. But it remains more frustrating if a newly listed company in clear deviation from what it had promised in its IPOs starts performing badly and the bourse concerned places it in the non-performing category or sends it to the over-the-counter (OTC) market.

The history of IPO flotation in the country has not been anyway without black spots. There are instances galore where unscrupulous sponsors of many companies could get their IPOs containing fabricated or misleading information approved by the SEC. Investors have lost their entire investments in such listed companies. The presence of as many as 68 companies in the OTC market of the country’s premier bourse, the Dhaka Stock Exchange (DSE), is a pointer to that fact. The furnishing of fabricated information about the companies concerned during their ‘direct listing’ or listing through now-infamous ‘book-building’ method is still fresh in the memory of the investors who burnt their fingers in the latest collapse of the market at the end of 2010. The offloading of shares at a premium by companies in some cases is also found to be based on cooked-up financial data.

The CSE proposals that are expected to be submitted soon deserve due scrutiny by the securities regulator which extends approval to IPOs with or without premium. Accusing fingers were pointed in the past at the regulator for being too indulgent, by design or default, to many unscrupulous companies while granting permission to IPOs. Inclusion of a penal provision in the clause concerned in the SEC Public Issue Rules for those found guilty of furnishing fabricated information in the IPOs might prevent companies from indulging in the evil practice of cheating the investors. However, such a penal provision should not be applied only on the errant issuers and issue managers. The audit firms being responsible for preparing the concocted financial statements of the issuing companies should also be dealt with, likewise.

Bangladesh stock market has suffered two major setbacks—one in 1996 and another in 2010 — before gaining enough strength and maturity. Unfortunately, the key manipulators of the two incidents of market crash have gone unscathed. It is expected that all concerned, including the government, the SEC and the management of the bourses, would do what is best for stable growth of the market. The legal and management flaws that create scope for market manipulations are now very much known. What is needed most is the sincere and combined effort to correct the flaws.

Source: The Financial Express, November 07 2012

আইপিও আবেদন বাতিলের সুযোগ রাখার দাবি জানাবে সিএসই

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও আবেদন বাতিল করার সুযোগ রেখে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধনের জন্য শিগগির নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসিতে প্রস্তাব পাঠাবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। একই সঙ্গে রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টের মতো কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য শেয়ার বিক্রি করে মূলধন উত্তোলন ও তালিকাভুক্তির নিয়ম চালুর সুপারিশ করবে সিএসই।
মিথ্যা বা ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্য দিয়ে আইপিও আবেদন করার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ভারতের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়াও (এসইবিআই) গত অক্টোবরে আইপিও আবেদন বাতিলের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
বাংলাদেশেরও এ ধরনের অপরাধকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি, পরিচালনা পর্ষদ, ইস্যু ম্যানেজার, আন্ডার রাইটার, হিসাব নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আর্থিক দণ্ড ছাড়াও অন্তত এক বছরের জন্য লাইসেন্স স্থগিত বা পুরোপুরি বাতিলের ব্যবস্থা রাখারও সুপারিশ জানাবে সিএসই। এ ছাড়া প্রস্তাবে আবেদন বাতিল করার পরবর্তী এক বছর কোম্পানিকে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ রহিত করার সুপারিশ থাকবে।
এসইসির বিদ্যমান আইনে আইপিও আবেদন বাতিলের সুযোগ নেই। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হলে আইপিও প্রস্তাব ফেরত প্রদানের সুযোগ আছে। এরপরও প্রস্তাবিত আইপিও প্রসপেক্টাসে (কোম্পানি সংশ্লিষ্ট তথ্যবিবরণী) অসত্য তথ্য প্রদান করায় গত ২৯ মে অ্যাপোলো ইস্পাত কোম্পানির আবেদন বাতিল করেছিল এসইসি। এমনকি কোম্পানি, ইস্যু ম্যানেজার ও নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ করে এবং সম্পদ পুনর্মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখসহ মোট ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে।
সিএসই এমন সময়ে এই প্রস্তাব করতে যাচ্ছে যখন এসইসির বিরুদ্ধে সরকারের প্রভাবশালীদের তদবিরে একের পর এক আইপিও অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে অত্যধিক প্রিমিয়ামে আইপিও অনুমোদন দেওয়া নিয়েও। এমনকি কোম্পানি সম্পদ ও শেয়ার ধারণ সম্পৃক্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য প্রদান করতে না পারার পরও সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি কোম্পানির আইপিও আবেদন অগ্রাহ্য না করারও ঘটনা ঘটিয়েছে এসইসি। কোম্পানিকে আর্থিক হিসাব ঠিক করে আনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুই স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃক আবেদনকারী কোম্পানি বিষয়ে তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন প্রদান করলেও তা আমলে নিচ্ছে না সংস্থাটি।
সিএসইর কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ইদানীং অনুমোদন পাওয়া আইপিও নিয়ে বিস্তর অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। সত্য বা মিথ্যা যাই হোক, এসব অভিযোগ প্রমাণ করে_ মানুষের মধ্যে আইপিও অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ও অবিশ্বাস রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। যতটা সম্ভব জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ করতে হবে। আইপিও মূল্য নির্ধারণ নিয়ে সিএসইর ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা দেখছি, আইপিও অনুমোদনের আগের সর্বশেষ ৩ বা ৪ বছরে কোম্পানি মুনাফা হঠাৎ বেড়ে যায়। অধিক প্রিমিয়াম পেতে ও আইপিও আকর্ষণীয় করতে কোম্পানিগুলো আর্থিক হিসাবে গরমিল করে। এটা বড় ধরনের অপরাধ। এ জন্য কেবল আর্থিক দণ্ড নয়, প্রয়োজনে জেল ও কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করার মতো বিধান চালু করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট বা অবকাঠামো খাতের কোম্পানি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কার্যক্রমের অনুমোদন পেলে সেসব কোম্পানিকে ওই নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্যই মূলধন উত্তোলনের সুযোগ রাখার সুপারিশ জানাবে সিএসই। এ সুপারিশ প্রসঙ্গে সিএসই কর্মকর্তা বলেন, এটা ‘প্রজেক্ট ফাইন্যান্স’। কোম্পানি সাধারণ শেয়ার ইস্যু করে মূলধন বাড়াবে। প্রতিবছর লভ্যাংশ দেবে। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কিস্তিতে মূলধন ফেরত দেবে। এ বিষয়ে ব্যাংক গ্যারান্টিও রাখতে হবে। এতে প্রজেক্টভিত্তিক কোম্পানিও শেয়ারবাজারে আসবে। ব্যাংকের ওপর চাপ কমবে। সিএসইর প্রস্তাবে উদ্যোক্তা নিয়ন্ত্রিত দ্রুত বর্ধনশীল কোম্পানিকে ওভার দ্য কাউন্টার ওটিসি বাজারের মাধ্যমে শেয়ার বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি এবং এজন্য পৃথক ক্যাটালিস্ট বোর্ড নামে পৃথক বোর্ড স্থাপনের সুপারিশ থাকবে বলে জানান তিনি।

সূত্র: সমকাল, ৪ নভেম্বর ২০১২

আইপিও সূচক চালু প্রক্রিয়ায় সিএসই

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামিক শরিয়া অনুযায়ী পরিচালিত কোম্পানিগুলো নিয়ে একটি ইসলামিক সূচক চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশের অন্যতম পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।

একই সঙ্গে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে (আইপিও) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নতুন কোম্পানিগুলোর নিয়ে স্বতন্ত্র আরেকটি সূচক চালু করারও পরিকল্পনাও রয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জটির।

বৃহস্পতিবার বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সিএসই’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ সাজিদ হোসেন।

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সূচক দুটির বিষয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) প্রস্তাবনা পাঠানো হবে বলেও আশা করছেন তিনি।

এ বিষয়ে সিএসই’র সিইও সৈয়দ সাজিদ হোসেন বলেন, শরিয়াহ্ অনুযায়ী পরিচালিত অনেক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এসব কোম্পানি সম্পর্কে সাধারণ বিনিয়োগকারী তথা ধর্মীয় মন-মানসিকতা সম্পন্ন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। তারা যেন এ সকল প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পারেন সে জন্যই ইসলামিক ইনডেক্স নামক এ সূচকটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সূচক প্রণয়নে অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এরইমধ্যে সিএসই’র পক্ষ থেকে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শরীয়া বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী একটি ইসলামিক ইনডেক্স সম্পর্কিত সাব-কমিটি গঠনেরও প্রক্রিয়া শুরু করেছে সিএসই। সে হিসেবে আগামী দু সপ্তাহের মধ্যে সিএসই বোর্ডে এ সংক্রান্ত কয়েকটি বৈঠক হওয়ার পরে এসইসিতে প্রস্তাব দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন ।

এছাড়া আইপিও সূচক চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, যে সকল কোম্পানিগুলো স্টক এক্সচেঞ্জে নতুন তালিকাভুক্ত হবে সে সকল কোম্পানিকে এ সূচকের আওতায় নেওয়া হবে। আর লেনদেন শুরু হওয়ার পরে দুই বছর নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে আইপিও সূচকে রাখা হবে।

প্রসঙ্গত, পৃথিবীর গুরুত্ব পূর্ণ পুঁজিবাজার গুলোতে বেশ কয়েকটি সূচক চালু রয়েছে। বাংলাদেশের পার্শবর্তী দেশ ভারতের বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জেও (বিএসই) বিএমই আইপিও সূচক রয়েছে।

সেনসেক্স মূল সূচকের পাশাপাশি খাত ভিত্তিক সূচক ছাড়াও বড় মূলধনী কোম্পানি, ছোট মূলধনী কোম্পানিভিত্তিক সূচক রয়েছে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে।

এদিকে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ডিএসই সাধারণ সূচক ও ডিএসই সার্বিক সূচক নামে দুটি সূচক চালুর রয়েছে। ডিএসই-৩০ সূচক নামে একটি সূচক প্রণয়নের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আর সিএসইতে তিনটি সূচক রয়েছে। এগুল হল- সিএসই সিলেকটিভ ইনডেক্স বা এসইসি-৩০, সিএসই সিলেকটিভ ক্যাটাগরিস ইনডেক্স বা সিএসসিএক্স এবং সিএসই অল শেয়ার প্রাইস ইনডেক্স বা সিএএসপিআই।

উল্লিখিত ইসলামিক ও আইপিও সূচক দুইটি সূচক চালু হলে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের সংখ্যা দঁড়াবে পাঁচটিতে।

সূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, ৩১ অগাস্ট ২০১২