Tag Archives: Apollo Ispat

অ্যাপোলোর আইপিও আবেদন শুরু ৬ অক্টোবর

নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন পাওয়া অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেডের প্রাথমিক গনপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন গ্রহণ করা হবে আগামী ৬ অক্টোবর থেকে। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আগামী ৬ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রবাসীদের জন্য আবেদনের সুযোগ থাকবে আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত।

ফেস ভ্যালু ১০ টাকার সঙ্গে ১২ টাকা প্রিমিয়ামসহ এ শেয়ারের নির্দেশক মূল্য ধরা হয়েছে ২২ টাকা। প্রতিষ্ঠানটি ১০ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ২২০ টাকা সংগ্রহ করবে।

প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট।

শেয়ারনিউজ২৪

অ্যাপোলোর আইপিও স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হচ্ছে

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ প্যানেলের পর্যবেক্ষণ আমলে না নিয়ে অ্যাপোলো ইস্পাতের আইপিও অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কিন্তু হঠাৎ করেই অর্থমন্ত্রীর এক চিঠিতে মাথায় হাত উঠে বিএসইসির। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনকে চিঠি লেখেন।

ওই চিঠিতে কোম্পানিটিকে বদমায়েশ বলে উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে দেয়া চিঠিতে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, কোম্পানিটি আইপিওতে যাওয়ার ব্যাপারে তার কাছে নালিশ এসেছে। বেশ কিছুদিন থেকে কোম্পানিটি অচল। আইপিওর মাধ্যমে তারা বেশ কিছু সম্পদ লুটের আয়োজন করে। তারা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেশ কিছু লোকের দাবি-দাওয়া মেটাতে পারে না। কোম্পানিটি এনবিআরের কর খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। বিষয়টি নিয়ে মামলা চলছে। তাই তাদের ব্যাপারে তদন্ত করা উচিত।

অর্থমন্ত্রী বলেন, তদন্তের মধ্যে ৪টি বিষয় উল্লেখ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে, বিতাড়িত শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ, রাজস্ব বোর্ডে দেনা, লোকাল এলসির মাধ্যমে তারা কি রকম চুরি-চামারি করেছে সে ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা এবং প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ব্যবসা-বাণিজ্যের হিসাব-নিকাশ। পরবর্তী সময়ে ১২ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে বিএসইসি কোম্পানির আইপিও প্রক্রিয়া স্থগিত করে।

একই সঙ্গে, অর্থমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনা অনুসারে চারটি বিষয়ে তদন্ত কাজ শুরু করে। কিন্তু মন্ত্রী নিজেই এক মাসের ব্যবধানে তার অবস্থান পরিবর্তন করেন।

পরবর্তী সময়ে কোম্পানির জের তদবিরে অর্থমন্ত্রী নিজের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ান। পরে তিনি আবারও বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি লেখেন।

অর্থমন্ত্রীর অবস্থান তুলে ধরে তার একান্ত সচিব ড. আবুল হাসান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘হলদিয়া শিপিংয়ের এসআর চৌধুরী কোম্পানির আইপিও নিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। আমি তাদের বলেছি, আমার পরামর্শক্রমে বিএসইসি চেয়ারম্যান এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন। বিএসইসি আইপিও ইস্যু অনুমোদন করেছে এবং তাদের বিচার বিবেচনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর কমিশন অ্যাপোলো ইস্পাত লিমিটেডকে ১০ টাকা অভিহিতমূল্যের সঙ্গে ১২ টাকা প্রিমিয়ামসহ মোট ১০ কোটি শেয়ার ছেড়ে ২২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করার অনুমতি দেওয়া হয়।

এরআগে আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে ডিএসইর কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণ আমলে না নিয়েই অনুমোদন দিয়েছিল বিএসইসি। কোম্পানির প্রসফেক্টাস জমা দেয়ার পর ডিএসইর পক্ষ থেকে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন বিএসইতিতে জমা দেয়া হয়। কোম্পানির উচ্চ প্রিমিয়াম এবং অপারেশন বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়। এছাড়াও প্রতিবেদনে কোম্পানিটির বিভিন্ন অসঙ্গতির ব্যাপারে এক্সপাট প্যানেলের মূল্যায়ন হুবহু বিএসইসিকে জানানো হয়। কিন্তু বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি কমিশন।

এছাড়াও প্রতিবেদনে কোম্পানিটির বিভিন্ন অসঙ্গতির ব্যাপারে এক্সপাট প্যানেলের মূল্যায়ন হুবহু বিএসইসিকে জানানো হয়। কিন্তু বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি কমিশন। প্রসঙ্গত, কোন কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বিগত তিন বছরে মুনাফা থাকতে হবে। কোনভাবেই লোকসানে থাকা যাবে না। কোম্পানির আইপিও প্রক্রিয়া স্থগিতের পর কোম্পানির পক্ষ থেকে আইপিও প্রক্রিয়া চালুর জন্য নানা জায়গার তদ্বির করা হয়। অবশেষে উৎপাদন বন্ধ থাকা দুর্বল এ কোম্পানিকে বাজার থেকে ২২০ কোটি টাকা লুটে নেয়ার সুযোগ করে দিলেন মন্ত্রী।

কমিশনের পক্ষ থেকে তদন্তের জন্য দেওয়া অর্থমন্ত্রীর ৪টি বিষয়ে খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয় কমিশন। এলসি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত এবং ঋণ খেলাপি কি না তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছের জানতে চাওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ওই প্রতিবেদনে উলে�খ করা হয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকে অ্যাপোলো ইস্পাত দেনা হয়েছে ৪৩৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটি ঋণ খেলাপী এবং বেশিরভাগ ঋণই নিুমান এ পরিনত হয়েছে। কিছু ঋণ মন্দ ও ক্ষতিজনক হিসেবে শ্রেনীকৃত করা হয়েছে। কোম্পানিটি উৎপাদনে থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকঋণ শোধ করছে না বলে উলে�খ করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে। ১৭টি ব্যাংকের ১৮টি শাখায় এ ঋণ রয়েছে অ্যাপোলো ইস্পাতের। এরমধ্যে তিনটি শাখায় বেশি লেনদেন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও ওই তিনটি শাখায় পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করে।

অ্যাপোলো ইস্পাতের ঋণের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মন্তব্যে বলা হয়েছে, ‘ব্যাংকের শাখাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। সে ক্ষেত্রে উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের মাধ্যমে বাংকের ঋণ পরিশোধের কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না’। অর্থমন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে কোম্পানিটি ঋণখেলাপী। ঋণ খেলাপী প্রতিষ্ঠান আইপিওতে আসতে পারে কি না তা ভেবে দেখার বিষয়।

জানা গেছে, গত কমিশন বৈঠকে কোম্পানির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করতে চেয়েছিল। কিন্তু আইনী জটিলতা সংক্রান্ত্র কিছু কাগজ ঠিক সময়ে কমিশনে জমা দিতে না পারায় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করতে পারেনি কমিশন। আগামী কমিশন বৈঠকে এ কোম্পানির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হচ্ছে বলে সংশি�ষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিশেষ প্রতিনিধি
শেয়ারনিউজ ২৪

Apollo Ispat IPO gets a go-ahead

SEC fines nine stockbrokers Tk 15 lakh

The Securities and Exchange Commission yesterday approved the IPO prospectus of Apollo Ispat that will raise Tk 220 crore from public.

The stockmarket regulator also fined nine stockbrokers Tk 15 lakh for breaching securities rules in share trading.

The decisions on the IPO (initial public offering) approval and the regulatory actions came at a meeting of the SEC with its Chairman M Khairul Hossain in the chair, according to a statement.

Using a ‘fixed price’ method, Apollo Ispat will issue 10 crore ordinary shares of Tk 10 each at an offer price of Tk 22 each, including Tk 12 as premium per share.

The company’s earnings-per share was Tk 2.36 as of June 2012, while the net asset value per share was Tk 22.59.

The IPO subscription will begin in March.

The SEC imposed a Tk 2-lakh fine each on Island Securities, Salta Capital, Associated Capital Securities, Reliance Securities Consultant and LankaBangla Securities — all members of the Chittagong Stock Exchange.

The stockbrokers violated securities rules in trading of Quasem Drycells shares.

GMF Securities, a member of the Dhaka Stock Exchange, was fined Tk 1 lakh, as it violated rules while trading the shares of Paramount Insurance and Global Insurance.

The SEC imposed a Tk 1-lakh fine on PHP Stocks and Securities on charges of ‘short selling’ from the codes of two clients.

AB Securities was fined Tk 1 lakh as it breached rules through aggressive sales.

International Leasing Securities faced a penalty of Tk 2 lakh as it provided credit against non-marginable shares.

The watchdog also decided to cancel an authorised representative certificate of Noveli Securities. The DSE member transferred Singer-Bangladesh’s shares to its own portfolio before the record date, and then transferred the shares to the clients’ portfolio after record date that was a violation of securities rules.

At yesterday’s meeting, the SEC approved a prospectus of Rupali Life Insurance First Mutual Fund, which will be a Tk 50-crore open-ended investment fund. Of the Tk 50 crore, Tk 25 crore will be kept for general investors. The face value of each unit of the fund will be Tk 10.

The SEC also approved a trust deed and investment management agreement of closed-end mutual fund — Rock NRB Balanced Fund.

Source: The Daily Star, December 14, 2012

অ্যাপোলো ইস্পাতের আইপিও অনুমোদন

অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেডকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও)মাধ্যমে পুঁজিবাজার হতে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জে কমিশন(এসইসি)।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ৪৬০তম কমিশন সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে এসইসি’র নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

কোম্পানি নির্ধারিত মূল্য পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে। প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের সঙ্গে ১২টাকা প্রিমিয়ামসহ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের ইস্যুমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ টাকা। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজার থেকে ২২০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে।

চলতি বছরের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) ২২.৫৯ টাকা। আর শেয়ারপ্রতি আয়(ইপিএস) ২.৩৬ টাকা।

আইপিও’র চাঁদা সংগ্রহের তারিখ আগামী বছরের মার্চে নির্ধারণ করা হতে পারে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে রূপালী লাইফ ইস্যুরেন্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড নামে একটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের প্রসপেক্টাস অনুমোদন দিয়েছে এসইসি। ফান্ডটির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ২৫ কোটি টাকার ইউনিট বরাদ্দ পাবেন। যার প্রতিটি ইউনিটের অভিহিত মূল্য হবে ১০ টাকা।

এছাড়া রক এনআরবি ব্যালেন্সড ফান্ড নামে একটি মেয়াদী (ক্লোজ এন্ড) মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ট্রাস্ট ডিড এবং ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট এগ্রিমেন্টের অনুমোদন দিয়েছে এসইসি।

ফান্ডটির ট্রাস্ট ডিডটি নিবন্ধন হওয়া সাপেক্ষে রক এনআরবি ব্যালেন্সড ফান্ডের অনুমোদন দেওয়া হবে বলেও এসইসি’র প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সূত্র: বাংলানিউজ২৪.কম, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১২

এ্যাপোলো ইস্পাতের আইপিও নাকচ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন জানানো এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্সের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন নামঞ্জুর করেছে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। সম্প্রতি এসইসির ৪২৫তম নিয়মিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স আইপিও আবেদনে অসত্য তথ্য প্রদান করার জন্য সংশ্লিষ্ট অডিটর, মূল্য নিরূপক (ভ্যালুয়ার), ইস্যুয়ার ও ইস্যু ম্যানেজারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি নথি এসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগে প্রেরণের লক্ষ্যে ক্যাপিটাল ইস্যু বিভাগকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
এসইসি কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এ্যাপোলো ইস্পাতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর গত ২৯ মার্চ একটি চিঠি পাঠায় এসইসি। এসইসির পরিচালক আবুল কালাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আইপিও আবেদন নামঞ্জুর করার কারণ সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে, এ্যাপোলো ইস্পাতের জমা দেয়া প্রসপেক্টাস অনুসারে পাবলিক ইস্যু রুলস ২০০৬-এর ১৮ এর ৫ ধারা বলে ১৪.৯১১৫ একর জমির কাগজপত্র দাখিল করেছেন। ওই জমির মধ্যে ০.১৮ একর জমি অগ্রিম ক্রয় করা হয়েছে এবং ১১.৩২ একর জমির ভাড়া কোম্পানি পাচ্ছে হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু এ ছাড়াও যে অন্যান্য জমির পরিমাণ কত তা প্রসপেক্টাসে দেখানো হয়নি। তা ছাড়া ০.৯৯৪০ একর এবং ০.৫৪৭৫ একর মোট ১.৫৪১৫ একর জমির মালিক যথাক্রমে এ্যাপোলো পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি এবং আনসার আলী এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স। এ জমি ১৪.৭৩১৫ একর (১৪.৯১১৫ একর থেকে ০.১৮ একর বাদ দিয়ে) এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ অন্যের জমি যা প্রসপেক্টাসে এ্যাপোলো ইস্পাতের নামে দেখানো হয়েছে।
এছাড়া দাখিলকৃত প্রসপেক্টাস থেকে দেখা গেছে, ১৪.৭৩১৫ একর জমিকে পুনর্মূল্যায়ন করে ১৫৭ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা (প্রায়) ৩০ জুন ২০১১ সালের সমাপ্ত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে। জমির মূল্যায়নকারী সংস্থার নাম মাশিস মুহিত হক এ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড এ্যাকাউনটেন্ট।
দেখা যাচ্ছে, ওই জমি পুনর্মূল্যায়নের পর ১২৫ কোটি বেশি দেখানো হয়েছে এবং ৩০ জুন ২০১১ সালের সমাপ্ত আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়েছে। আর্থিক প্রতিবেদনটি অডিট করেছে জোহা জামান কবির রশিদ এ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড এ্যাকাউন্টেন্ট। ১৪.৭৩৪৫ একর জমির পুনর্মূল্যায়নের বিষয়টি অডিটকৃত প্রতিষ্ঠান এ্যাপোলো ইস্পাতের আর্থিক প্রতিবেদনে ভূমি ও ভূমি উন্নয়নমূলক কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যদিও জমিটি এ্যাপোলো ইস্পাতের নয়।
যার প্রেক্ষিতে কোম্পানির সম্পদ অতিমূল্যায়িত করে দেখানো হয়েছে। ফলে আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটির সত্য ও স্বচ্ছ অবস্থা তুলে ধরা হয়নি। একই সঙ্গে কোম্পানিটির সাধারণ কার্যপ্রণালী ও নগদ আয় অর্জন করার ক্ষমতাকে অতিমূল্যায়িত করে দেখানো হয়েছে। এমনকি বিষয়গুলো প্রসপেক্টাস ও আর্থিক প্রতিবেদনে গোপন রাখা হয়েছে।
যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এ্যাপোলো ইস্পাত ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে ভুল তথ্য উপাত্ত দাখিল করেছে কমিশনের কাছে। ফলে এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স আইপিও আবেদনে অসত্য তথ্য প্রদান করার জন্য সংশ্লিষ্ট অডিটর, মূল্য নিরূপক (ভ্যালুয়ার), ইস্যুয়ার ও ইস্যু ম্যানেজারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করছে কমিশন। কোম্পানিটির ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ, এপ্রিল ১১, ২০১২