Tag Archives: পুঁজিবাজার

পুঁজিবাজারে আসছে ১৯ কোম্পানির ৬৪ কোটি শেয়ার

আগামী তিন মাসের মধ্যে পুঁজিবাজারে যুক্ত হচ্ছে ৬৪ কোটি ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৪০০টি নতুন শেয়ার। ১৯টি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি এসব শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে। এরমধ্যে একটি কোম্পানি সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কাছ থেকে দর প্রসত্মাবের (বিডিং) মাধ্যমে শেয়ারের চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণের অনুমোদন পেয়েছে। নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের পর এসইসি’র অনুমোদনের অপেৰায় রয়েছে তিনটি কোম্পানি। নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের জন্য এ পর্যন্ত ৮টি কোম্পানি চলতি মাসে ‘রোড শো’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত মূল্য পদ্ধতিতে অনুমোদন চেয়ে এসইসিতে আবেদন জমা দিয়েছে তিনটি কোম্পানি। বাকি চারটি কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
এসইসি’র কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর প্রাথমিক শেয়ার বরাদ্দের জন্য গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আবেদন সংগ্রহ করেছে মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্ট (এমজেএল)। এই কোম্পানি বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারণের পর পুঁজিবাজারে ৪ কোটি শেয়ার ছেড়ে ৬০৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করছে।
চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর আজ থেকে আইপিও আবেদন জমা নিচ্ছে এমআই সিমেন্ট ফ্যাক্টরি লিমিটেড। ক্রাউন ব্র্যান্ডের সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমআই সিমেন্ট ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে সর্বমোট ৩৩৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করছে। নির্ধারিত মূল্য পদ্ধতিতে সালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ২ কোটি ৬০ লাখ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ২৬ কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমোদন পেয়েছে। কোম্পানিটি আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে আইপিও আবেদন জমা নেবে।
এদিকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি চূড়ানত্ম মূল্য নির্ধারণের পর পুঁজিবাজারে শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন পেয়েছে ইউনিক হোটেলস এ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড (ওয়েস্টিন হোটেল)। কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮৫ টাকা। সেই হিসেবে কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে কমপৰে ৫৫৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। অন্যদিকে নির্ধারিত মূল্য পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন পেয়েছে বরকতউলস্নাহ ইলেকট্রো ডায়নামিকস কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ২ কোটি শেয়ার ছেড়ে ৫০ টাকা প্রিমিয়ামসহ সর্বমোট ১২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে।
বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের পর শেয়ারবাজারে আসার জন্য বর্তমানে তিনটি কোম্পানির আবেদন এসইসি’র বিবেচনাধীন রয়েছে। এরমধ্যে এসটিএস হোল্ডিংস লিমিটেড (এ্যাপোলো হাসপাতাল) ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ২৮৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এছাড়া কেয়া কটন মিলস লিমিটেড ৫ কোটি এবং নাভানা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড ৩ কোটি শেয়ার ছাড়বে।
নির্ধারিত মূল্য পদ্ধতিতে শেয়ার ছাড়ার আবেদন করেছে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল), জিবিবি পাওয়ার এবং রংপুর ডেইরি এ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড। এরমধ্যে সিডিবিএল ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৪ কোটি শেয়ার ছাড়বে। ৫০ টাকা প্রিমিয়ামসহ কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে সর্বমোট ২৪০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। পুঁজিবাজারে ২ কোটি ৫ লাখ শেয়ার ছাড়বে বেসরকারী খাতে বিদু্যত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জিবিবি পাওয়ার লিমিটেড। কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারে ৬০ টাকা প্রিমিয়ামসহ মোট ৭০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে ১৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করবে। রংপুর ডেইরির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের জন্য ১৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ মোট ২৫ টাকা সংগ্রহের প্রসত্মাব করা হয়েছে। সেই হিসেবে কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে ৪০ কোটি ৮৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করবে।
এদিকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া হিসেবে আগামী দু’ সপ্তাহের মধ্যে রোড শো করবে ৮টি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। রোড শো অনুষ্ঠানের পর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নির্দেশনার ভিত্তিতে শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের পর এসব কোম্পানি এসইসিতে আবেদন জমা দেবে। এসইসি’র অনুমোদনের পর দর প্রসত্মাবের মাধ্যমে চূড়ানত্ম বরাদ্দ মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এরপর পরবর্তী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যেই আইপিও প্রক্রিয়া শুরম্ন করতে হবে। ফলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই এসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে শেয়ার ছাড়তে পারবে বলে সংশিস্নষ্টরা আশা করছেন।
বিমান পরিবহন খাতের দ্বিতীয় কোম্পানি হিসেবে পুঁজিবাজারে আসছে জিএমজি এয়ারলাইন্স। কোম্পানিটি মোট ৬ কোটি শেয়ার ছাড়বে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য কোম্পানির ইসু্য ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে জনতা ক্যাপিটাল এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। আগামী ১২ জানুয়ারি জিএমজির রোড শো অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন রোড শো আয়োজন করছে গোল্ডেন হারভেস্ট নামে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের একটি কোম্পানি। গোল্ডেন হারভেস্ট ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে। এই কোম্পানির ইসু্য ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে রয়েছে ব্যানকো ফাইন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
আগামী ১৩ জানুয়ারি রোড শো করবে সরকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাব মেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানিটি ৩ কোটি ১০ লাখ শেয়ার ছাড়বে। এই কোম্পানির ইসু্য ব্যবস্থাপক হিসেবে রয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। পুঁজিবাজারে ৩ কোটি শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে ফার ইস্ট নিটিং এ্যান্ড ডায়িং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। বুকবিল্ডিং পদ্ধেিত নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের জন্য কোম্পানিটি আগামী ১৬ জানুয়ারি রোড শো করবে। এই কোম্পানির ইসু্য ব্যবস্থাপনার দােিয়ত্ব রয়েছে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড।
জাহাজ নির্মাণ শিল্পের প্রথম কোম্পানি হিসেবে পুঁজিবাজারে আসছে আনন্দ শিপইয়ার্ড এ্যান্ড সিস্নপওয়েজ লিমিটেড। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারণের পর কোম্পানিটি মোট ৩ কোটি শেয়ার ছাড়বে। আনন্দ শিপইয়ার্ডের ইসু্য ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে রয়েছে প্রাইম ফাইন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। আগামী ১৭ জানুয়ারি এই কোম্পানির রোড শো অনুষ্ঠিত হবে।
শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের জন্য আগামী ১৮ জানুয়ারি রোড শো করছে অরিয়ন ফার্মা লিমিটেড এবং পিএইচপি ফ্লোট গস্নাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এরমধ্যে অরিয়ন ফার্মা ৪ কোটি শেয়ার ছাড়বে। এজন্য আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডকে ইসু্য ব্যবস্থাপক নিযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে পিএইচপি ফ্লোট গস্নাস ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করবে। এই কোম্পানির ইসু্য ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে এ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড।
পুঁজিবাজারে ৩ কোটি শেয়ার ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরম্ন করেছে সামিট গ্রম্নপের প্রতিষ্ঠান সামিট শিপিং লিমিটেড। বুকবিল্ডিং পদ্ধতির প্রাথমিক প্রক্রিয়া হিসেবে আগামী ২০ জানুয়ারি এই কোম্পানির রোড শো অনুষ্ঠিত হবে। সামিট শিপিংয়ের ইসু্য ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছে ব্যানকো ফাইন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
বাজার বিশেস্নষকরা মনে করেন, শেয়ারের অতি মূল্যায়ন রোধ করে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে শেয়ারের প্রবাহ বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। প্রক্রিয়াধীন কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে এলে একদিকে শেয়ারের সরবরাহ বাড়বে, অন্যদিকে মূলধন যোগানের মাধ্যমে উৎপাদনশীল খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে। এ বিষয়ে ডিএসই সভাপতি শাকিল রিজভী জনকণ্ঠকে বলেন, শেয়ারবাজারকে গতিশীল রাখতে হলে চাহিদা অনুযায়ী শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে হবে। এখন পর্যনত্ম যেটুকু বোঝা যাচ্ছে, ২০১১ সালে পুঁজিবাজারে বিপুলসংখ্যক নতুন শেয়ার যুক্ত হবে। এর ফলে বাজারে ভাল শেয়ারের যোগান বাড়বে এবং চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্য তৈরি হবে।

Source: The daily janakantha, 09 January, 2011

২০১০ সালে বিনিয়োগকারী বেড়েছে সাড়ে ১৩ লাখ

পুঁজিবাজারে সক্রিয় বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ৩২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সেন্ট্রাল ডিপোজেটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সর্বশেষ তথ্যে একথা জানাগেছে।

সিডিবিএল সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৯ ডিসেম্বর বুধবার পর্যন্ত পুঁজিবাজারে মোট বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ৩২ লাখ ৬০ হাজার ১৬৮ জন। অর্থাৎ চলতি বছর বাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ।

২০১০ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত পুঁজিবাজারে মোট বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ছিল ১৯ লাখ ৩৫ হাজার ৩৮৯ জন। আর ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন বিনিয়োগকারী প্রবেশ করেছে ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৭৯ জন। এর মধ্যে বছরের প্রথম ছয় মাসে ৬ লাখ ৩১ হাজার জন এবং শেষ ছয় মাসে ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭৯ জন নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে প্রবেশ করেছে।

চলতি বছরে পুঁজিবাজারে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ নতুন বিনিয়োগকারী প্রবেশ করার পাশাপশি ২৪ টি নতুন কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড তালিকাভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে ২২ টি কোম্পানির ২ হাজার ৪৭২ কোটি ৫ লাখ ২ হাজার টাকার রাইট শেয়ার অনুমোদন দেয় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। ওই বিপুল পরিমাণ শেয়ার বাজারে আসার পরেও বাজারে শেয়ার সংকট থেকেই যায়। ফলে সারা বছর ধরে বাজারে এক ধরনের শেয়ার সংকট সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে বিপুল সংখ্যাক বিনিয়োগকারী প্রবেশের কারলে বাজারে শেয়ারের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ পর্যাপ্ত না হওয়ায়  বাজারে লেনদেন হওয়া  বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম অতিমুল্যায়িত হয়ে পড়ছে। আর এই অতিমুল্যায়িত শেয়ার কিনে নিজেদের বিনিয়োগকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। আরই এরই পরিনতিতে চলতি মাসে ৮, ১২ ও ১৯ ডিসেম্বর বাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়।

ডিএসইর সভাপতি মো. শাকিল রিজভী বাংলানিউজকে বলেন, বাজারে প্রতিনিয়ত নতুন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ছে এটি পুঁজিবাজরের জন্য অত্যান্ত ভালো দিক। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের ধরে রাখার জন্য বাজারে শেয়ারের সরবরাহ আরো বাড়াতে হবে। অন্যথায় বিনিয়োগকারীদের ধরে রাখা যাবে না।

ডিএসইর সাবেক সভাপতি মো. রকিবুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, চলতি বছরে বাজারে প্রচুর বিনিযোগকারী প্রবেশ করেছে। এটা পুঁজিবাজারের জন্য অত্যান্ত ভালো দিক। এই বিনিয়োগকারীদের ধরে রাখার জন্য চলতি বছরে বাজারে রেকর্ড পরিমাণ, রাইট শেয়ার, বুক বিল্ডিং ও নির্ধারিত মূল্য পদ্ধতিতে অনেক বড় বড় কোম্পানি বাজারে এসেছে এবং এই ধারা আগামীতে অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশা করি।

Source: banglanews24.com, 29 December, 2010