Tag Archives: ডিএসই

তালিকাভুক্তির ব্যাপারে এমজেএলকে কোনো শর্ত দেয়নি ডিএসই

মবিল যমুনা লুব্রিকেন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের (এমজেএল) তালিকাভুক্তির কোনো শর্ত দেয়নি ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জ (ডিএসই)। এছাড়া কোম্পানিটির তালিকভুক্তির ব্যাপারে ডিএসই কোনো সুপারিশও করেনি। আজ মঙ্গলবার শীর্ষ নিউজ ডটকমকে একথা জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটু।
আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, এ ব্যাপারে ডিএসইর প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, মবিল যমুনার তালিকাভুক্তির ব্যাপারে এসইসিকে ডিএসইর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানানো হয়েছে। তবে তাতে কোনো শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এমজেএল তাদের প্রস্তাবে যে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি জানিয়েছে তা কোম্পানি আইনের পরিপন্থি হওয়ায় ডিএসই অনুমোদন দেয়নি।
উল্লেখ্য, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের দর নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় গত ২০ জানুয়ারি এ পদ্ধতিটি অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে স্থগিত করে এসইসি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ জানুয়ারি মবিল যমুনা ও এমআই সিমেন্টের আইপিও প্রক্রিয়া স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু ততোদিনে কোম্পানি দুটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আইপিওর মাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ করে ফেলে। এজন্য আইনি জটিলতা এড়াতে শর্তসাপেক্ষে কোম্পানি দুটিকে আইপিও লটারি অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়া হয়। শর্তটি হচ্ছে, তালিকাভুক্তির এক মাসের মধ্যেই বরাদ্দ মূল্যের চাইতে দর কমে গেলে কোম্পানি শেয়ার বাইব্যাক করবে। এ শর্ত মেনে কোম্পানি দুটি আইপিও লটারি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বরাদ্দ দেয়। কিন্তু বাইব্যাক বিষয়ে কোনো আইন না থাকার কারণে শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়ে এসইসির পক্ষ থেকে নতুন শর্ত দেয়া হয়। এসইসির শর্তানুযায়ী, শেয়ার লেনদেন শুরুর পরবর্তী ৬ মাস পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব চায় এসইসি। এসইসির এ শর্ত মানতে সম্মতি প্রকাশ করে এমজেএল। যার পরিপ্রেক্ষিতে এসইসি এমজেএলকে তালিকাভুক্তির জন্য ডিএসইতে পাঠায়। ২৪ জানুয়ারি ডিএসই বোর্ডসভা এমজেএল-এর ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রস্তাব কোম্পানি আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করায় তার অনুমোদন দেয়নি।
কোম্পানি আইনের ৫৭-২এর (সি) ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়া সত্ত্বেও এসইসি মবিল যমুনাকে তালিকাভুক্তির জন্য ডিএসইতে পাঠানোর ব্যাপারে আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, এক্ষেত্রে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার মতো একটি কাজ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, কোনো ধরনের বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই এসইসি এমজেএলকে তালিকাভুক্তির জন্য ডিএসইতে পাঠিয়ে দিয়েছে। এটি করার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থা অবিবেচকের পরিচয় দিয়েছে। উপরন্তু ডিএসই ধ্বংস করে দেয়ারও একটি পাঁয়তারা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
২০১০ সালের ২৩ নভেম্বর অর্থসংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ সভায় রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান মবিল যমুনা লুব্রিকেন্টসের ৪ কোটি শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এছাড়া ওই সভায় মবিল যমুনা বাজারে আসার পদ্ধতি হিসেবে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি সুপারিশ করা হয়। আইপিওর মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ খুলনায় একটি লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম ইউনিট, তেল শোধনাগার ও এমজেএল-এর নিজস্ব ভবন তৈরির কাজে ব্যবহার করা হবে বলেও জানানো হয়।

Source: sheershanews.com, 6 April, 2011

আপাতত বুক বিল্ডিং পদ্ধতির পক্ষে নয় ডিএসই ও সিএসই

প্রাথমিক শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের বুক বিল্ডিং পদ্ধতি এখনই আবার সচল করার পক্ষে নয় দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, বাংলাদেশ পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিএপিএলসি) এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)।
সংগঠনগুলো চাইছে শেয়ারবাজারবিষয়ক তদন্ত কমিটি বুক বিল্ডিং পদ্ধতি নিয়ে কী ধরনের সুপারিশ দেয়, সেটি দেখেই এ ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে। এ জন্য তারা বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংশোধনীর খসড়া প্রস্তাবের ওপরও আপাতত আর কোনো মতামত না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজধানীর গুলশান ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গতকাল শনিবার উল্লিখিত চারটি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এ ব্যাপারে মতৈক্যে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।
বৈঠকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), বিএপিএলসি ও বিএমবিএর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
যোগাযোগ করা হলে সিএসইর সভাপতি ফখরউদ্দীন আলী আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বুক বিল্ডিং সংশোধনী নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) খসড়া প্রস্তাবের ওপর কাল সোমবার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে বাজারের স্বার্থে আমরা যাতে সম্মিলিতভাবে ঐক্যবদ্ধ মতামত দিতে পারি, সে জন্যই নিজেদের মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছি।’
বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে সিএসইর সভাপতি বলেন, ‘বুক বিল্ডিং পদ্ধতি নানা কারণে ঠিকভাবে কাজ করেনি। ফলে পদ্ধতিটি বিভিন্ন মহলে সমালোচিত হয়েছে। সমালোচনার মুখে সরকারের পক্ষ থেকে পদ্ধতিটি স্থগিত করা হয়েছে। তাই আমরা মনে করছি, এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির মতামত পর্যালোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে।’
সিএসইর সভাপতি আরও বলেন, যত দিন পর্যন্ত বুক বিল্ডিং পুনরায় চালু না হবে, তত দিন পর্যন্ত কোনো কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে চাইলে স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে তা করতে হবে। বাজারে যাতে শেয়ারের ঘাটতি তৈরি না হয়, সে জন্য এ পদ্ধতিতে কোম্পানিগুলোকে বাজারে নিয়ে আসতে হবে।
বর্তমানে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৪৮টির মতো কোম্পানি বাজারে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়েছে, এর মধ্যে ১২ থেকে ১৩টি কোম্পানি স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে বাজারে আসতে রাজি আছে।
ফখরউদ্দীন আলী আহমেদ এসব কোম্পানিকে দ্রুত বাজারে আনার ব্যাপারে তাগিদ দেন।

Source: The daily prothom-alo, 27 March, 2011