প্রাথমিক শেয়ার বরাদ্দের জন্য আগামী ১৮ মার্চ থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আবেদনপত্র গ্রহণ করবে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)। আগ্রহী বিনিয়োগকারীরা ২২ মার্চ পর্যন্ত আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। তবে প্রবাসী বাংলাদেশী (এনআরবি) বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে আবেদনপত্র পৌঁছানোর সুযোগ থাকবে।
এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি সাবমেরিন কেবল কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন করে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। সাব মেরিন কেবল কোম্পানি মোট ৩ কোটি ১০ লাখ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ১০৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করবে। এরমধ্যে কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১০ লাখ শেয়ার সংরক্ষিত থাকবে। আইপিওর জন্য কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের জন্য ২৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৩৫ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে। আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ আইডিবির কাছ থেকে গৃহীত ঋণ পরিশোধ, আইপিও খরচ এবং চলতি মূলধন খাতে ব্যয় করা হবে।
২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩ টাকা ৪৯ পয়সা। আর শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৬৯ পয়সা। বর্তমানে এই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৮৭ কোটি ৫০ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আইপিও প্রক্রিয়া শেষে এই মূলধন ১১৮ কোটি ৫০ লাখ ৯০ হাজার টাকায় দাঁড়াবে।
বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ এ্যান্ড টেলিফোন বোর্ডের (বিটিটিবি) সাবমেরিন কেবল প্রজেক্টের মাধ্যমে ২০০৮ সালের জুলাই মাসে বিএসসিসিএল পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। কোম্পানিটি ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করে ১০ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দিয়েছে। বিএসসিসিএল বর্তমান ব্যান্ডউইডথ ক্ষমতা হচ্ছে প্রতি সেকেন্ডে ৪৪.৬০ গিগাবাইট (জিবিপিএস)। বর্তমানে কোম্পানিটি কার্যক্ষমতার মাত্র ২৫ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। দেশে তথ্য-প্রযুক্তি বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানির কার্যক্ষমতার ব্যবহার বাড়বে। এতে কোম্পানির আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশের টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রবেশদ্বার হিসেবে বিএসসিসিএল প্রতিনিধিত্ব করছে। এ কোম্পানির মাধ্যমে বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবহারযোগ্য ব্যান্ডউইডথ ক্যাপাসিটি ৪৪.৬ জিবিপিএস। এরমধ্যে মাত্র ১১ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সারাদেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে দেশের চাহিদা পূরণের পরও ৩৬.৬ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ অব্যবহৃত রয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা মাথায় রেখে আগামী ৫ বছর পর্যন্ত সারাদেশের চাহিদা নিরূপন করা হয়েছে ৩৭.০৭৫ জিবিপিএস। তারপরও উদ্বৃত্ত থাকবে ৭.৫২৫ জিবিপিএস। এছাড়া সাবমেরিন কেবল আবার আপগ্রেড করা হচ্ছে যা তৃতীয় আপগ্রেড নামে পরিচিত। এই আপগ্রেডেশনে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করে সস্তামূল্যে আরও প্রায় ৭ মিলিয়ন এমআইইউকেএম অতিরিক্ত ব্যান্ডউইডথ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিএসসিসিএল’র ব্যবহারযোগ্য ব্যান্ডউইথ হবে ৮০ জিবিপিএস যা আগামী বছরের মধ্যেই ব্যবহার করা সম্ভব হবে। সামগ্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বর্ধিত ব্যান্ডউইডথ বিদেশে বিক্রি বা লিজ দেয়া সম্ভব হবে। বিদেশে ব্যান্ডউইডথ রফতানির মাধ্যমে কোম্পানি বিপুল পরিমাণের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবে। পাশাপাশি কোম্পানির ব্যান্ডউইডথ দিয়ে ব্রডব্যান্ড সার্ভিস, ডাটা ট্রান্সমিশন, কল সেন্টার সার্ভিস, সফটওয়্যার রফতানি ইত্যাদি স্বল্প খরচে সম্ভব হবে।
সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ, ২৯ জানুয়ারী ২০১২