বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন-বিএসসি’র নুতন ৬২ লাখ ৭৪ হাজার শেয়ার বিক্রির পুনঃ প্রাথমিক গনপ্রস্তাবের (আরপিও) লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৪ নভেম্বর। ঢাকায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে (এনএসসি টাওয়ারে )এই ড্র অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিএসসি’র কর্মকর্তারা। এজন্য সেটকম নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, নতুন শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে বিএসসি পূঁজিবাজার থেকে ৩১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা সংগ্রহ করবে।
বিএসসি’র বিএসসি’র মিডিয়া উইং বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন চৌধুরী বাংলানিউজকে জানান, আরপিও’র জন্য দেড় গুনের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। ৬২ লাখ ৭৪ হাজার শেয়ারের বিপরীতে মোট ইস্যু মূল্য জমা পড়েছে প্রায় চারশ কোটি টাকা।
লটারির মাধ্যমে শেয়ার হস্তান্তরে‘র পর বাকী টাকা আবেদনকারীদের একাউন্টে ফেরত দেওয়া হবে। ১৪ নভেম্বরে এনএসসি টাওয়ারে ড্র হবে।
পুঁজিবাজার থেকে সংগৃহীত এই অর্থ দিয়ে একটি মাদার অয়েল ট্যাংকারসহ দুটি জাহাজ কেনার কথা রয়েছে বিএসসি’র।
আরপিওতে ১০০টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ৪০০টাকা প্রিমিয়ামসহ ৫০০টাকা জমা নেওয়া হয়। প্রতি লটে রয়েছে পাঁচটি শেয়ার ।
শেয়ার হস্তান্তরে পর নভেম্বরের তৃতীয় বা শেষ সপ্তাহে সেকেন্ডারি মার্কেটে নতুন ইস্যুকৃত শেয়ারের লেনদেন শুরু হবে বলে আশা করছেন বিএসসির কর্মকর্তারা।
ইস্যু ম্যানেজার আইসিবি (ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ) সব কিছু সুপারভাইজ করছে।
বিএসসি সূত্র জানিয়েছে সাধারণ শেয়ারে’র জন্য আইপিও’র আবেদন কম হলেও এনআরবি (প্রবাসী বাংলাদেশি) ও মিচ্যুয়াল ফান্ডের কোটায় আবেদন বেশি হয়েছে। প্রতি লটে শেয়ারের সংখ্যা কম হওয়ায় সাধারণ শেয়ারের জন্য বিনিয়োগকারীদের কম সাড়া প্ওায়া গেছে
এর আগে গত ২৩ আগস্ট পূজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটি‘জ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) বিএসসি’র আরপিও অনুমোদন করে।
৯ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত আরপিও’র আবেদনপত্র জমা নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য বিএসসি’র মোট শেয়ারে’র মধ্যে বর্তমানে সাড়ে ৮৭ শতাংশ শেয়ার সরকারের হাতে এবং ১২ শতাংশ শেয়ার পূজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। গত পাঁচ বছরের ভারিত্ব গড়ের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত বিএসসি’র শেয়ার প্রতি আয় বর্তমানে (ইপিএস) ৪৮.৭৬ পয়সা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদের পরিমাণ ২৭৮.৯০ পয়সা।
তবে নতুন করে ৬২ লাখ ৭০ হাজার শেয়ার বাজারে ছাড়ার পর সরকারি শেয়ারে’র পরিমাণ কমে ৫১ শতাংশে দাঁড়াবে। আর ৪৯ শতাংশ শেয়ার থাকবে বিনিযোগকারীদের হাতে।
রাষ্ট্রÚতি অধ্যাদেশ-১০ নং আদেশ বলে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিএসসি ১৯৭৭ সালে প্রথম পূঁজিবাজারে তালিকাভৃক্ত হয়। এসময় সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক গনঃপ্রস্তাবের মাধ্যমে ২০ লাখ শেয়ার বাজারে ছাড়ে। ওই অধ্যাদেশবলে এবার আরপিওর মাধ্যমে আরো ৬৭ লাখ শেয়ার বাজারে ছাড়ে প্রতিষ্ঠানটি।
Source: bdnews24.com , 03 Nov, 2011