রিফান্ড পেতে গচ্চা দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

সম্প্রতি তালিকাভুক্তির অনুমোদন পেয়ে পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলন করা এনভয় টেক্সটাইলের আইপিওতে আবেদন করে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। যারা লটারিতে এলোটমেন্ট পাননি তাদের অনেকের টাকা কোম্পানি কর্তৃপক্ষ সময়মত ফেরৎ দেয়নি। রিফান্ডের টাকা না পেয়ে অনেকে কোম্পানিতে সরাসরি যোগাযোগ করেন। যেখানে তাদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে। অনেককে ৬ হাজার টাকা ফেরৎ পেতে ২ হাজার টাকাও খরচ করতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

এনভয় টেক্সটাইলের আইপিও লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯ নভেম্বর। ইতিমধ্যে এ কোম্পানির লেনদেন শুরু হলেও এখনো রিফান্ড পাননি অনেক বিনিয়োগকারী। অপরদিকে কোম্পানির দাবি, রিফান্ড করতে যা প্রয়োজন তা তারা করছে এবং করেছে।

এদিকে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, তাদের টাকা আটকে রেখে কর্তৃপক্ষ অন্য ব্যবসা করছে। প্রায় দিনই শেয়ারনিউজ২৪ডটকমের অফিসে একের পর এক বিনিয়োগকারী এ ব্যাপারে অভিযোগ করছেন।

এ ব্যাপারে কোম্পানিতে ফোন করা হলে রিসিপশন থেকে জানানো হচ্ছে, তারা ব্যাংকের মাধ্যমে অনলাইনে রিফান্ডের টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন। আর যারা পাননি তাদের টাকা কুরিয়ার করা হয়েছে। তবে যারা কুরিয়ার পাননি তাদেরকে অফিসে যোগাযোগ করতে হবে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে।

এদিকে যেসব বিনিয়োগকারী ঢাকায় অবস্থান করেন তারা দীর্ঘ যানজট পেরিয়ে অনেক কষ্টে এ কোম্পানির অফিসে যোগাযোগ করে রিফান্ডের টাকা ফেরৎ নিতে পারলেও যারা ঢাকার বাইরে থাকেন তাদের অবস্থা আরো করুণ।

বিনিয়োগকারী সৌরভ চৌধুরী বলেন, তিনি চট্টগ্রামে বসবাস করেন। যার কারণে কোম্পানিতে এসে টাকা ফেরত নেয়া তার পক্ষে সম্ভব না। তাই তিনি তার ন্যায্য টাকা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। এমতাবস্থায় তিনি বলেন, এর আগে এ ধরনের ঘটনা আর দেখেননি তিনি। এদিকে এতো কিছু হওয়ার পরও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে না দেখে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

অনেক বিনিয়োগকারী দাবি করেন, কোম্পানিটি ১০ টাকা ফেস ভ্যালুর সঙ্গে ২০ টাকা প্রিমিয়ামে মোট ৩০ টাকায় ২০০টি শেয়ারে লট আকারে ছেড়েছে। অর্থাৎ প্রতি লটে লেগেছে ৬০০০ টাকা। যারা ঢাকার বাইরে থাকেন এবং রিফান্ড পাননি তাদের কোম্পানিতে আসতে হলে প্রায় এক তৃতীয়াংশ অর্থ খরচ হয়। ঢাকায় আত্মীয়-স্বজন না থাকলে হোটেল ভাড়া করে থাকতে হয়। সবমিলিয়ে ৬ হাজার টাকা ফেরৎ নিতে এসে ২ হাজার টাকা গচ্চা যায়।

কোম্পানির চিফ ফাইন্যান্স অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, ২২ নভেম্বর তারা রিফান্ড ব্যাংকসমুহকে বুঝিয়ে দিয়েছে। তবে ব্যাংকগুলো নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে ২-৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিলম্ব করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরো বলেন, যাদের ব্যাংক একাউন্টে অনলাইন সুবিধা নেই তাদের রিফান্ড কুরিয়ারে পাঠানো হয়েছে। এক্ষেত্রে যাদের ঠিকানা ভুল আছেন বা কোথাও গরমিল আছে তাদের টাকা পৌছায়নি।

সূত্র: শেয়ারনিউজ২৪.কম, ডিসেম্বর ১৮, ২০১২

This entry was posted in News and tagged on by .

About bdipo Team

Started our journey in Jan 2009. A simple idea is getting bigger. A baby born and learning to walk, talk, imitate and express. This page is dedicated to that eternal urge of expression. The humane and emotional side of bdipo.