প্রিমিয়ামবিহীন আইপিও অনুমোদন বিনিয়োগকারীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবকে (আইপিও) শেয়ারবাজারের প্রথম সোপান হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী আইপিওর মাধ্যমে এ বাজারে প্রবেশ করে। তাই এক্ষেত্রে আইপিওর গুরুত্ব অপরিসীম। আর এ আইপিওর অনুমোদন দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংস্থাটি বর্তমানে প্রিমিয়ামবিহীন আইপিও অনুমোদনে সক্রিয় হলেও কোম্পানি বাছাইয়ে তেমন যত্নশীল নয় এমন অভিযোগ উঠেছে বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। তাই এসব কোম্পানি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রিমিয়ামবিহীন আইপিওকে বিএসইসি প্রাধান্য দিলেও এতে মৌলভিত্তির কোম্পানি তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তাই এ প্রক্রিয়াকে নানা মহল সাধুবাদ জানালেও বিপক্ষে মত দিয়েছে বাজার বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা।
জানা যায়, শেয়ারবাজারে সর্বশেষ ১১টি কোম্পানির আইপিওর মধ্যে মাত্র দুটি ছিল প্রিমিয়ামসহ। কোম্পানি দুটি হলো- অ্যাপোলো ইস্পাত ও প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল। বাকি ৯টি প্রিমিয়ামবিহীন কোম্পানি হচ্ছে- আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ফ্যামিলিটেক্স (বিডি) লিমিটেড, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যাল, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেম লিমিটেড, মোফাজ্জল হোসাইন স্পিনিং মিলস লিমিটেড, এএফসি এগ্রোবায়োটেক লিমিটেড এবং এমারেল্ড অয়েল।
নাদিয়া রশিদ নামে এক বিনিয়োগকারী বলেন, প্রিমিয়ামবিহীন আইপিও অনুমোদন বাজারের জন্য ভালো সংবাদ। এতে আইপিও বিজয়ীদের মুনাফার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। অন্যদিকে লোকসান নেই বললেই চলে। কিন্তু এ সুযোগে যেন কোনো দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানি বাজার থেকে টাকা তুলতে না পারে, সে বিষয়ে বিএসইসিকে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা দুর্বল কোম্পানিগুলো সুযোগ পেলে বাজারের স্বার্থের পরিবর্তে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

আরেক বিনিয়োগকারী দীপক বসাক বলেন, প্রিমিয়াম ছাড়া কোম্পানিগুলো সাধারণত দুর্বল মৌলভিত্তির হয়ে থাকে। ফলে কোনো মতে একবার বাজারে আসার সুযোগ পেলে ডিভিডেন্ড ও সিকিউরিটিজ আইন পালন না করায় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরিত হয়। তাই বলে প্রিমিয়াম নেয়া কোম্পানিকেও খারাপ ভাবার অবকাশ নেই। তবে বাজারের উন্নয়নে মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলো যদি প্রিমিয়াম ছাড়া বাজারে আসে, তাহলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সন্তোষজনক সাড়া মিলে। বাজারের ভিত মজবুত করতে এসব ভালো কোম্পানির আইপিও অনুমোদনের বিকল্প নেই।
বিনিয়োগকারী মিজান বলেন, প্রিমিয়াম নিয়ে হলেও মৌলভিত্তির বড় কোম্পানিগুলোকে আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত। কারণ এসব কোম্পানির শেয়ার অতিমূল্যায়িত হওয়ার সুযোগ থাকে কম। তাছাড়া এসব কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করলেও পুঁজি থাকে ঝুঁকিমুক্ত। যার ফলে লোকসানের ধকল থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রেও দুয়েকটি কোম্পানির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটাও অস্বাভাবিক নয় বলে তিনি মনে করেন।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রিমিয়ামবিহীন আইপিওতেও অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়ে যেতে পারে, যেমনটি হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। যার ফলে সার্বিক বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই সময় তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানি ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে স্থানান্তরিত হয়ে এখনো অতিস্ত সংকটে ভুগছে। তাই আইপিও অনুমোদনের আগে বিএসইসি সার্বিক বিষয় বিবেচনায় রাখলে বিনিয়োগকারী বা বাজার ক্ষতির কবল থেকে রক্ষা পেতে পারে সহজেই। এ জন্য আইপিও অনুমোদনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরো বেশি সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত বলে মনে করছেন তারা।

শেয়ারনিউজ২৪
This entry was posted in ipo news, News on by .

About bdipo Team

Started our journey in Jan 2009. A simple idea is getting bigger. A baby born and learning to walk, talk, imitate and express. This page is dedicated to that eternal urge of expression. The humane and emotional side of bdipo.