ওরিয়ন ফার্মার প্লেসমেন্টে লোকসান ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে মামলা

ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেডের প্লেসমেন্ট শেয়ারের দরের তুলনায় কম মূল্যে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন দেয়ায় উচ্চ আদালতে মামলা করেছেন র্যাংগস গ্রুপের করপোরেট কমিটির দুই সদস্য। প্লেসমেন্টধারীরা ওরিয়ন ফার্মার প্রতিটি শেয়ার ১০০ টাকায় ক্রয় করলেও শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইপিওতে শেয়ারপ্রতি বরাদ্দ মূল্য ৬০ টাকায় অনুমোদন দেয়। এতে প্লেসমেন্টধারীরা বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির স্বীকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন। লোকসান হওয়া ওই অর্থ ফেরতের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওরিয়ন ফার্মার লেনদেনে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
র্যাংগস গ্রুপের করপোরেট কমিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান জাকিয়া রউফ চৌধুরী ও পরিচালক রোমানা রউফ চৌধুরী লোকসানি অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। এছাড়া নাসরিন জমির নামে অন্য এক ব্যক্তিও একই আবেদন জানিয়ে আরো একটি রিট দায়ের করেছেন। ওই তিনজন প্লেসমেন্টে ওরিয়ন ফার্মার প্রতিটি শেয়ার ১০০ টাকা মূল্যে ক্রয় করেন। এর মধ্যে রোমানা রউফ চৌধুরী ২ লাখ, জাকিয়া রউফ চৌধুরী ও নাসরিন জমির ১০ হাজার করে শেয়ার ক্রয় করেন। রিট পিটিশনারের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম জাহাঙ্গীর আলম বণিক বার্তাকে এ তথ্য জানিয়েছেন। যেহেতু এটি বিচারাধীন বিষয়, তাই এ কোম্পানির লেনদেনে স্থগিতাদেশ আরোপে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০ মার্চ উভয় শেয়ারবাজারে ওরিয়ন ফার্মার লেনদেন শুরুর দিন ধার্য রয়েছে। রিট পিটিশনারের পক্ষের আইনজীবীর চিঠি পেয়ে গতকাল দুপুরে এ কোম্পানির লেনদেনে ডিএসই স্থগিতাদেশ দিলেও মামলায় আদালতের কোনো নির্দেশনা না থাকায় পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। আজ নির্ধারিত সময়ে ওরিয়ন ফার্মার লেনদেন শুরু হবে।
মামলা দায়ের প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট এসএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওরিয়ন ফার্মার প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রির সময় শেয়ার মূল্য বেশি দেখানো হয়েছে। পরে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্লেসমেন্ট শেয়ারের তুলনায় ৪০ টাকা কমে আইপিও অনুমোদন দেয়। এতে প্লেসমেন্টধারীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির স্বীকার হন। রিট পিটিশনে প্লেসমেন্টধারীর লোকসানি অর্থ ফেরত অথবা সমপরিমাণের শেয়ার দিতে কোম্পানির প্রতি দাবি জানানো হয়েছে। মামলায় ওরিয়ন ফার্মা ছাড়াও বিএসইসি, দুই স্টক এক্সচেঞ্জসহ মোট ছয় প্রতিষ্ঠানকে বিবাদী করা হয়েছে।
মামলায় বিবদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না— মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিলম্ব না করে বাদীর আবেদন নিষ্পত্তিতে বিএসইসিকে নির্দেশনা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে ওরিয়ন ফার্মার তালিকাভুক্তি ও লেনদেনে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। মামলাটি বিচারপতি হাসান ফায়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অবকাশ শেষ হলে ওই বেঞ্চে শুনানি শুরু হবে।
উল্লেখ্য, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আগেই ২০১০ সালে ওরিয়ন ফার্মা প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ৭৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। প্লেসমেন্টে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ার ১০০ টাকায় (৯০ টাকা প্রিমিয়ামসহ) বিক্রি করা হয়।
গত বছরের ১৬ অক্টোবর ওরিয়ন ফার্মাকে আইপিওর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন দেয় বিএসইসি। ১০ টাকা অভিহিত  মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বরাদ্দ মূল্য ৬০ টাকায় (৫০ টাকা প্রিমিয়ামসহ) অনুমোদন দেয়া হয়। কোম্পানিটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৪ কোটি শেয়ার ছেড়ে ২৪০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমন্বিত নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী, এ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৫ টাকা ৫৭ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) ৭৬ টাকা ৮৬ পয়সা।
শেয়ারবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করার পর ৬ মার্চ ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেডকে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। শেয়ারহোল্ডারদের বিও হিসাবে ওরিয়ন ফার্মার আইপিওতে পাওয়া শেয়ার জমা হওয়ার পর ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ২০ মার্চ লেনদেন শুরুর দিন ধার্য করে।
ওরিয়ন ফার্মার আইপিও-পূর্ববর্তী পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে ১৫৫ কোটি টাকা, যা আইপিও-পরবর্তিতে ১৯৫ কোটি টাকায় দাঁড়াবে। কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।
 বণিক বার্তা