সম্মতিপত্রের অপেক্ষায় আইপিও অনুমোদন পাওয়া তিন কোম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্প্রতি প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন অনুমোদন পাওয়া তিন কোম্পানি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সম্মতিপত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। বিএসইসির অনুমোদনের সম্মতিপত্র পেলেই কোম্পানিটিগুলো আইপিও আবেদনের সময় জানাতে পারবে। কোম্পানিগুলো হলো এসএস স্টিল লিমিটেড, জেনেক্স ইনফোসিস ও এস্কয়ার নীট।

এসএস স্টিল লিমিটেড:

বিএসইসির ৬৫১তম কমিশন মভায় প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পেয়েছে এসএস স্টিল লিমিটেড। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কোম্পানিটিকে ১০ টাকা ইস্যু মূল্যের ২ দশমিক ৫০ কোটি সাধারণ শেয়ার ইস্যু করার অনুমতি দেয়।

আইপিওর মাধ্যমে ২৫ কোটি টাকা উত্তোলন করবে প্রতিষ্ঠানটি। এই টাকা দিয়ে যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা ক্রয় এবং স্থাপন, ভবন নির্মাণ এবং আইপিও বাবদ খরচ করবে।

৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী সম্পদ মূল্যায়ন না করে প্রকৃত সম্পদ মূল্য(এনএভি) হয়েছে ১ টাকা। আর সম্পদ মূল্যায়ন করে এনএভি হয়েছে ১৫ টাকা ৩৫ পয়সা। শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ২০ পয়সা।

আর ভারিত গড় হারে শেয়ার প্রতি ওয়েটেড এভারেজ হয়েছে ৮২ পয়সা। কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে সিটিজেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

জেনেক্স ইনফোসিস:

কমিশনের ৬৫৬তম সভায় প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন দিয়েছে জেনেক্স ইনফোসিসকে।

জেনেক্স ইনফোসিস শেয়ারবাজারে ২ কোটি শেয়ার ছেড়ে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। এজন্য প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা।

শেয়ারবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি ব্যবসা সম্প্রসারণ, ঋণ পরিশোধ ও আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

৩০ জুন ২০১৭ পর্যন্ত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী কোম্পানিটির পুন:মূল্যায়ন ছাড়া নীট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৩.৯৬ টাকা।

জেনেক্স ইনফোসিসের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিসহ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ২.০২ টাকা।

আইপিওতে কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ইম্পেরিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেড।

এস্কয়ার নীট কম্পোজিট:

এস্কয়ার নীট কম্পোজিট লিমিটেডের প্রায় ১৫০ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলনের জন্য বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৩ কোটি ৪৮ লাখ ৯৫ হাজার ৮৩৩ টি সাধারণ শেয়ার প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ইস্যু করার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জে কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের ৬৫৮ তম কমিশন সভায় কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেয়া হয়।

কোম্পানির ১ কোটি ৪ লাখ ৬২ হাজার ৫০১ টি সাধারণ শেয়ার ৪০ টাকা মূল্যে (প্রান্ত সীমা মূল্য থেকে ১০ শতাংশ বাট্টায়) সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিকট বিক্রি করা হবে। এছাড়া বুক বিল্ডিং পদ্ধতির মাধ্যমে ৩ কোটি ৪৮ লাখ ৯৫ হাজার ৮৩৩টি শেয়ারের মধ্যে ২ কোটি ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩২টি শেয়ার ৪৫ টাকা মূল্যে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের নিকট ইস্যু করা হবে। এর আগে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানির শেয়ারের কাট-অফ প্রাইস ৪৫ টাকা নির্ধারণ হয়েছে। যোগ্য বিনিয়োগকারীদের অংশ গ্রহণের মাধ্যমে এই দর নির্ধারিত হয়েছে।

এর আগে গত ৯ জুলাই সোমবার থেকে এই নিলাম শুরু হয়ে শেষ হয়েছে ১২ জুলাই বৃহস্পতিবার।

নিলামে মোট ৫০৮ জন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বিড করে। এতে সর্বোচ্চ দর ৫৩ টাকা এবং সর্বনিম্ন দর ১৫ টাকায় প্রস্তাব করা হয়।

তবে ৪৫ টাকা দরে প্রস্তাব করেছে ৯৪ জন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। আর ১ জন প্রস্তাব করেছে ৫৩ টাকা দরে। ৪৬ টাকা দরে ৯ জন, ৪০ টাকা দরে ৩১ জন, ৩৯ টাকা দরে ১৯ জন, ৩৮ টাকা দরে ১৫ জন, ৩৭ টাকা দরে ১৯ জন, ৩৫ টাকা দরে ৫৬ জন, ৩২ টাকা দরে ৩৭ জন, ৩০ টাকা দরে ৭৩ জন এবং ২০ টাকা দরে ২১ জন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী দর প্রস্তাব করেছে।

১ জন নিলামকারী সর্বোচ্চ ১ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার কেনার জন্য বিড করবে। নিলামে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটির ৯৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনার জন্য শেয়ার দর প্রস্তাব করতে হয়েছে।

এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিএসইসির কমিশন সভায় কোম্পানিটিকে শেয়ার দর নির্ধারণের জন্য বিডিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। বিডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে কাট-অফ প্রাইস নির্ধারিত হয়।

আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ দিয়ে নতুন প্রকল্পের যন্ত্রপাতি ক্রয়, ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ এবং গণপ্রস্তাবের খরচ খাতে ব্যয় করবে।

এস্কয়ার নিট কম্পোজিটের প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ছিল ২০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ছিল ১০০ কোটি টাকা।

৩০ জুন, ২০১৭ সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৫২ পয়সা। আলোচ্য বছরে কোম্পানির সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন পরবর্তী শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ছিল ৪৫ টাকা ৮৩ পয়সা। আর পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া এনএভি ২৫ টাকা ৯৬ পয়সা।

কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। আর রেজিস্ট্রার টু দ্য ইস্যুর দায়িত্বে রয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

শেয়ারনিউজ; ০১ অক্টোবর ২০১৮