ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের আইপিও স্থগিত

স্থগিতই হয়ে গেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন। সোমবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

‘স্থগিত হতে পারে ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের আইপিও’ শিরোনামে একটি অনলাইন পত্রিকায় সংবাদটি প্রকাশ করা হয় গত শনিবার। তাতে বলা হয়েছিল, কোম্পানিটি আইপিওর আগে মূলধন বাড়ালেও বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক আইডিআরএর অনুমোদন নেয়নি। এ নিয়ে আইনী জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাই আইপিওর আবেদন জমা নেওয়ার বিষয়টি স্থগিত হয়ে যেতে পারে।

তবে তখন বিএসইসি বলেছিল, তারা সব নথিপত্র যাচাই-বাছাই করেই ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের আইপিও অনুমোদন করেছে। তাই এটি বাতিল বা স্থগিত করার প্রশ্নই উঠে না।

অন্যদিকে সোমবার সকালে ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের কোম্পানি সচিব দাবি করেছেন, আইডিআরএর সাথে তাদের সমঝোতা হয়েছে। তাই তারা আবেদনের সময় পেছানোর আবেদন করবেন না। মঙ্গলবার থেকেই আবেদন জমা নেওয়া হবে।

কিন্তু আইডিআরএর অনমনীয় অবস্থার কাছে নতজানু হতে হল ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সকে। আর তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থগিত করতে হল আইপিওর আবেদন জমা। এর মধ্যদিয়ে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক আইডিআরএ ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক বিএসইসির মধ্যে সদস্য শুরু হওয়া স্নায়ুর যুদ্ধে বিএসইসি হেরে গেল।

মূলধন বাড়ানোর বিষয়ে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র অনুমোদন না নেওয়ায় সংস্থাটি ক্ষুব্ধ হয়ে বিএসইসিকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিল।

বিএসইসি বলছে, অনিবার্য কারণে কমিশন আইপিও আবেদন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নেপথ্যের বিষয়টি তারা আড়াল করে যাচ্ছে।

কোম্পানিটি আগামীকাল ৩০ জুন মঙ্গলবার থেকে ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আবেদন গ্রহণের সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল।
এর আগে বিএসইসির ৫৪৩তম সভায় এ কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়। কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে ১ কোটি ৭৭ লাখ শেয়ার ছেড়ে ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা সংগ্রহ করবে। কোম্পানিটিকে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

বিএসইসির অনুমোদনের পর মূলধন বাড়ানোর ইস্যুতে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সঙ্গে কোম্পানির টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। আর আইপিও আবেদন নির্ধারিত সময়ে জমা নেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।
আইডিআরএর অভিযোগ, কোম্পানিটি অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন বাড়ালেও তার জন্য অনুমোদন নেয়নি। তাছাড়া কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধিতে উল্লেখ করা মূলধনের সাথে আইপিওর প্রসপেক্টাসে উল্লিখিত মূলধনের মিল নেই। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছে চিঠি পাঠানো হয়।

অন্যদিকে বিএসইসির বক্তব্য, কোম্পানি ও তার ইস্যু ম্যানেজার তাদের কাছে যে নথিপত্র জমা দিয়েছে, তার ভিত্তিতেই তারা আইপিওর অনুমোদন দিয়েছিল।

এ বিষয়ে তাদের কিছু করণীয় নেই। বিমা আইন লংঘন করে থাকলে কোম্পানির বিরুদ্ধে আইডিআরএ ব্যবস্থা নিতে পারে।
এমন জটিলতায় পড়ে ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষকে শোকজ করে আইডিআরএ। সংস্থাটির সঙ্গে কয়েক দফা কোম্পানির বৈঠকের পর আইপিও আবেদন পেছানোর সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এর প্রেক্ষিতে বিএসইসিতে আইপিওর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করে কোম্পানি। আবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে স্থগিতাদেশ দেয় বিএসইসি।

শেয়ারনিউজ২৪/এজেড/ইউ/১১.৩০ঘ.

This entry was posted in ipo news on by .

About bdipo Team

Started our journey in Jan 2009. A simple idea is getting bigger. A baby born and learning to walk, talk, imitate and express. This page is dedicated to that eternal urge of expression. The humane and emotional side of bdipo.