আইপিও ও নগদ লভ্যাংশ পেতে ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ

প্রিমিয়ার সিমেন্ট, গোল্ডেন হারভেস্ট, ওরিয়ন ফার্মা ও সানলাইফ ইনস্যুরেন্সের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আবেদন করার জন্য চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) অন্যতম সদস্য বি-রিচ লিমিটেড থেকে দুই কোটি ২৬ লাখ টাকা তুলে নেয় বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই টাকা আর পুঁজিবাজারে ফিরে আসেনি।
বি-রিচ লিমিটেডের মতো ঢাকা ও চট্টগ্রাম পুঁজিবাজারের প্রায় সব ব্রোকারেজ হাউস থেকে প্রতিটি আইপিও বাজারে এলে এভাবেই বাজার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে শত শত কোটি টাকা। আর বাজারে সৃষ্টি করছে তারল্য সংকট।
এই সংকট এড়াতে সমপ্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের কাছে তিনটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন বি-রিচ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম। এই প্রস্তাবনার সঙ্গে একমত পোষণ করে আইপিও নীতিমালা পরিবর্তন ও নগদ লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসাইন।
প্রস্তাবনায় বলা হয়, অনেক কম্পানি লটারিতে আইপিও পেতে ব্যর্থ বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরৎ দিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি ব্যবহার করলেও অনলাইন পদ্ধতি চালু হয়নি এমন ব্যাংকের টাকা এখনো কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ফেরৎ দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যায়েই ঘটে যত বিপত্তি। কুরিয়ার সার্ভিসের গাফিলতি, কিংবা ঠিকানা ও চেকে অ্যাকাউন্টধারীর নামের বানান ভুল হলে সে ক্ষেত্রে ভোগান্তির সীমা থাকে না বিনিয়োগকারীদের। কিন্তু লাভবান হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কম্পানি এবং কুরিয়ার সার্ভিসগুলো।
এই সংকট নিরসনে ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে আইপিও ছাড়া গেলে বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব। নামমাত্র ফির বিনিময়ে বিনিয়োগকারীদের পক্ষে আইপিও ছেড়ে ব্রোকারেজ হাউসও লাভবান হবে আর বাজার থেকেও টাকা বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। আর ব্যাংকে লম্বা লাইন ধরে আইপিও জমা দেওয়ার বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাবে বিনিয়োগকারীরা।
সর্বশেষ কয়েকটি কম্পানির আইপিওর বিপরীতে অন্তত এক হাজার কোটি টাকার আবেদন জমা পড়ে। এই টাকার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আর বাজারে ফিরে আসে না। লটারির পর টাকা ফেরৎ দেওয়ার মধ্যবর্তী সময়ের কয়েক মাস এই বিপুল অঙ্কের টাকা কম্পানি ব্যাংকে স্বল্পসময়ের জন্য ফিক্সড ডিপোজিট করে রেখে লভ্যাংশ আদায় করে।
আরেকটি প্রস্তাবে বলা হয়, প্রতি লট আইপিওর মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ টাকা দিয়ে আবেদনের নিয়ম করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে লটারিতে বিজয়ীদের পরবর্তিতে বাকি টাকা পরিশোধের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে বিপুল অঙ্কের টাকা বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার যেমন সুযোগ থাকে না তেমনি বিনিয়োগকারীরা আরো বেশি করে আইপিও আবেদন করার সুযোগ পাবে।
সবচেয়ে বড় ভোগান্তি হয় নগদ লভ্যাংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে। গ্রামীণফোন, বার্জার পেইন্ট, সিঙ্গার বিডি, গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লিনের মতো বড় এবং বহুজাতিক কম্পানিগুলো সাধারণত প্রতিবছর বড় অঙ্কের নগদ লভ্যাংশ দিয়ে থাকে। বি-রিচ লিমিটেড পরিচালিত একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতিবছর দেশে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা নগদ লভ্যাংশ প্রদান করা হয়। কিন্তু এই টাকার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দাবিহীন (আনক্লেইম) অবস্থায় কম্পানির অ্যাকাউন্টে পড়ে থাকে।
শামসুল ইসলাম বলেন, ‘কম্পানিগুলো বোনাস শেয়ার বিও অ্যাকাউন্টে জমা দিলেও নগদ লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীর ঠিকানায় চেকের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়। কুরিয়ার সার্ভিসের গাফিলতির কারণে কিংবা চেকে নামের বানান ভুলের কারণে এই চেকের একটি বড় অংশই পরে আর ব্যাংকে জমা পড়ে না। আবার অনেক সময় নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ কম হওয়ায় অনেকেই এই টাকা তোলার প্রয়োজনবোধ করে না। কিন্তু বছর শেষে কম্পানি অডিটে এ ধরনের কোটি কোটি টাকা দাবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকে। যা পরে এক সময় কম্পানির অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়। এই টাকার একটি অংশও পুঁজিবাজারে আসে না। তিনি বলেন, ‘এই দুর্ভোগ এড়াতে বোনাস শেয়ারের মতো নগদ লভ্যাংশও বিনিয়োগকারীর বিও অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার প্রস্তাব করেছি বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে নগদ লভ্যাংশের একটি বড় অংশ স্টক মার্কেটেই থাকবে। এতে তারল্য সংকটও কিছুটা কমবে।’
এই প্রস্তাবনাগুলোর সঙ্গে একমত পোষণ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসাইন বলেন, ‘নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার বর্তমান পদ্ধতিতে ব্যাংক ও কুরিয়ার সার্ভিসগুলো ছাড়া আর কেউ লাভবান হচ্ছে না। বরং ব্রোকারেজ হাউসগুলোর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্টে জমা দিলে পরোক্ষভাবে বিএসইসিও লাভবান হবে। আইপিও আবেদনের ক্ষেত্রেও ব্রোকারেজ হাউসকে কিভাবে আরো সম্পৃক্ত করা যায় সে ব্যাপারে আইপিও ইস্যু রুলস-২০০৬ সংশোধনকালে সুবিবেচনা করা হবে।’

This entry was posted in News and tagged , on by .

About bdipo Team

Started our journey in Jan 2009. A simple idea is getting bigger. A baby born and learning to walk, talk, imitate and express. This page is dedicated to that eternal urge of expression. The humane and emotional side of bdipo.