মবিল যমুনার তালিকাভুক্তি অনুমোদন করেছে এসইসি

প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি করে লোকসান হলে সংশিস্নষ্ট শেয়ারহোল্ডারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের শর্তে মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্টকে (এমজেএল) শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দিয়েছে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় কোম্পানির এ সংক্রান্ত আবেদন অনুমোদন করা হয়। কোম্পানিটির তালিকাভুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদৰেপ গ্রহণের জন্য মঙ্গলবারই দুই স্টক এঙ্চেঞ্জকে লিখিতভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি ও লেনদেন শুরুর পর ৬ মাসের মধ্যে কোন শেয়ারহোল্ডার বরাদ্দ মূল্যের কমে মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্টের প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি করে লোকসানের মুখে পড়লে কোম্পানির পৰ থেকে তাকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। এক্ষেত্রে বরাদ্দ মূল্যের চেয়ে বিক্রয় মূল্যের যে পার্থক্য হবে মবিল যমুনার শেয়ার প্রিমিয়াম হিসাব থেকে সেই টাকা পরিশোধ করা হবে। কোম্পানির পৰ থেকে এসইসিতে এ সংক্রান্ত অঙ্গীকারনামা জমা দেয়া হয়। কোম্পানির এই অঙ্গীকার ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৫৭(গ) ধারার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়ায় কমিশন সভায় তালিকাভুক্তির আবেদন অনুমোদন দেয়া হয়।
জানা গেছে, সভায় ৰতিপূরণ প্রদানের পদ্ধতিও নির্ধারণ করা হয়েছে। এৰেত্রে প্রাথমিক শেয়ারধারীদের মধ্যে যারা লোকসান দেবেন দুই স্টক এঙ্চেঞ্জে তাদের ব্রোকারেজ হাউস থেকে সেই তালিকা সংগ্রহ করবে। পরে কোম্পানির কাছে ৰতিপূরণ প্রদানের জন্য তালিকাটি পাঠিয়ে দেয়া হবে। এরপর সংশিস্নষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের কাছে লোকসানের সমপরিমাণ ৰতিপূরণের অর্থ পাঠিয়ে দেয়া দেয়া হবে। এৰেত্রে বিভিন্ন কোম্পানির লভ্যাংশ বিতরণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে।
উলেস্নখ্য, মবিল যমুনা লুব্রিকান্ট লিমিটেড (এমজেএল) পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৪ কোটি শেয়ার বরাদ্দ করেছে। ১৪২ টাকা ৪০ পয়সা প্রিমিয়ামসহ বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানির শেয়ারের বরাদ্দ মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৫২ টাকা ৪০ পয়সা। ফলে ৪০ কোটি টাকার শেয়ার ছেড়ে কোম্পানিটি বাজার থেকে ৬০৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্টের সর্বশেষ বার্ষিক হিসাবে ইপিএস ২ টাকা ৪৫ পয়সা। এই কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫২ টাকা ৪০ পয়সা।
পুঁজিবাজার পরিস্থিতি নিয়ে গত ২২ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ডাকা বৈঠকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতির অপব্যবহার করে পুঁজিবাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ তুলে নেয়ার প্রবণতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। বৈঠকে মবিল যমুনা ও এমআই সিমেন্টের নির্ধারিত মূল্যকে কোম্পানির মৌলভিত্তির তুলনায় অস্বাভাবিক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বৈঠকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংক্রানত্ম বিধি সংশোধন করে স্থায়ীভাবে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে মবিল যমুনা ও এমআই সিমেন্টের আইপিও আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ায় এ দু’টি কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে শেয়ার কিনে নেয়ার শর্ত আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

Source: The daily janakantha, 23 March, 2011

Bookmark and Share

About bdipo Team

Started our journey in Jan 2009. A simple idea is getting bigger. A baby born and learning to walk, talk, imitate and express. This page is dedicated to that eternal urge of expression. The humane and emotional side of bdipo.
This entry was posted in News and tagged , . Bookmark the permalink.