মবিল যমুনার তালিকাভুক্তির সময় দু’সপ্তাহ বৃদ্ধি

প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি করে লোকসান হলে সংশিস্নষ্ট শেয়ারহোল্ডারকে ৰতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে জটিলতার নিরসন না হওয়ায় মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্টের (এমজেএল) তালিকাভুক্তির সময়সীমা দু’সপ্তাহ বৃদ্ধি করেছে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। কোম্পানিটির আবেদনের প্রেৰিতে তালিকাভুক্তির জন্য আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার এসইসির পৰ ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এঙ্চেঞ্জ (সিএসই) এবং সংশিস্নষ্ট কোম্পানিকে এ সংক্রানত্ম চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, প্রাথমিক শেয়ারহোল্ডারদের ৰতিপূরণ প্রদানের শর্তে গত মঙ্গলবার মবিল যমুনার তালিকাভুক্তির বিষয়ে এসইসির পৰ থেকে দুই স্টক এঙ্চেঞ্জকে প্রয়োজনীয় পদৰেপ গ্রহণ করতে বলা হয়। কিন্তু ডিএসইর তালিকাভুক্তি বিভাগ আইনজীবীর মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তুলে। ৰতিপূরণ প্রদানের ৰেত্রে ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৫৭(২) এর গ ধারাকে ভিত্তি ধরা হলেও ওই ধারায় প্রিমিয়াম আয় থেকে এ ধরনের ব্যয় অনুমোদন করে না বলে ডিএসই মনে করে। এ কারণে তালিকাভুক্তি কমিটি মবিল যমুনার দেয়া অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে তালিকাভুক্তির বিষয়ে নেতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেছে। পরে গত বৃহস্পতিবার ডিএসই পরিচালনা পর্ষদ সভায় ৰতিপূরণ প্রদানের শর্তকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে আখ্যায়িত করে মবিল যমুনার তালিকাভুক্তির প্রসত্মাব নাকচ করা হয়।
ৰতিপূরণের অঙ্গীকার নাকচ হয়ে যাওয়ায় মবিল যমুনার তালিকাভুক্তি নিয়ে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক গণপ্রসত্মাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ার বরাদ্দের পর ৭৫ দিনের মধ্যে তালিকাভুক্তির বিধান থাকলেও এই কোম্পানিটি সময় মতো তা করতে পারবে কিনা_ সে বিষয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। আইপিওর মাধ্যমে প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা জমা নেয়ার শেষ সময়ের হিসাবে আগামী ৩১ মার্চ মবিল যমুনার তালিকাভুক্তির শেষ দিন। তবে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় কোম্পানির পৰ থেকে এসইসির কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এর প্রেৰিতে তালিকাভুক্তির সময়সীমা দু’সপ্তাহ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উলেস্নখ্য, মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্ট লিমিটেড (এমজেএল) পুঁজিবাজারে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৪ কোটি শেয়ার ছেড়েছে। এজন্য শেয়ার প্রতি ১৪২ টাকা ৪০ পয়সা প্রিমিয়ামসহ বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানির শেয়ারের বরাদ্দ মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৫২ টাকা ৪০ পয়সা। ফলে ৪০ কোটি টাকার শেয়ার ছেড়ে কোম্পানিটি বাজার থেকে ৬০৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্টের সর্বশেষ বার্ষিক হিসাবে ইপিএস ২ টাকা ৪৫ পয়সা। এই কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫২ টাকা ৪০ পয়সা। ফলে মবিল যমুনার পিই দাঁড়াচ্ছে ৬২।
পুঁজিবাজার পরিস্থিতি নিয়ে গত ২২ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ডাকা বৈঠকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতির অপব্যবহার করে পুঁজিবাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ তুলে নেয়ার প্রবণতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। বৈঠকে মবিল যমুনা ও এমআই সিমেন্টের নির্ধারিত মূল্যকে কোম্পানির মৌলভিত্তির তুলনায় অস্বাভাবিক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বৈঠকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংক্রানত্ম বিধি সংশোধন করে স্থায়ীভাবে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে মবিল যমুনা ও এমআই সিমেন্টের আইপিও আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ায় এ দু’টি কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতার শেয়ারহোল্ডারদের ৰতিপূরণ প্রদানের শর্ত আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

Source: The daily janakantha, 28 March, 2011