শর্তসাপেক্ষে তালিকাভুক্ত হবে মবিল-যমুনা, এমআই সিমেন্ট

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে শর্তসাপেক্ষে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে মবিল-যমুনা লুব্রিকেন্টস ও এমআই সিমেন্ট। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গতকাল কোম্পানি দুটির উদ্যোক্তাদের শর্ত জুড়ে দিলে তাতে তাঁরা সম্মতি জানান।
গতকাল সোমবার আলাদা আলাদাভাবে কোম্পানি দুটির শীর্ষ নির্বাহীদের ডেকে পাঠায় এসইসি। এ সময় তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে কোম্পানি কী ব্যবস্থা নেবে।
জবাবে কোম্পানি দুটির নির্বাহীরা এসইসিকে জানান, তালিকাভুক্তির ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে যদি তাঁদের কোম্পানির শেয়ারের বাজারদর শেয়ারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) দামের নিচে নেমে আসে, তাহলে কোম্পানির উদ্যোক্তারা ঘোষণা দিয়ে আইপিওর দামেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কিনে নেবেন।
গতকাল সকালে এসইসির সঙ্গে বৈঠকে এমন মৌখিক আশ্বাস দেওয়ার পর বিকেলেই কোম্পানি দুটি আলাদা আলাদাভাবে তাদের লিখিত সম্মতি জানিয়ে দিয়েছে এসইসিকে।
এর ফলে কোম্পানি দুটির তালিকাভুক্তির অনিশ্চয়তার অবসান হলো। বুক বিল্ডিং পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে কোম্পানি দুটির তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।
ইতিমধ্যে কোম্পানি দুটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আইপিওর মাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করেছে। বাকি আছে লটারির মাধ্যমে আইপিও বিজয়ীদের চিহ্নিত করা।
কিন্তু শেয়ারবাজারে বিপর্যয় দেখা দিলে বুক বিল্ডিং পদ্ধতির দুর্বলতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এই পদ্ধতিতে তালিকাভুক্তিতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর নির্দেশক দাম নির্ধারণে কারসাজির অভিযোগও তোলা হয়। বলা হয়, পদ্ধতিগত দুর্বলতার সুযোগে শেয়ারের বেশি দাম দেখিয়ে বাজার থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তুলে নিচ্ছে অনেক কোম্পানি।
এমনকি দুই স্টক এক্সচেঞ্জের নেতারা বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে তালিকাভুক্তির অপেক্ষায় থাকা ৪৮ কোম্পানির হিসাব বিবরণী তদন্তেরও দাবি তোলেন।
এমন পরিস্থিতিতে সরকার বুক বিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিতের ঘোষণা দেয়। তাতে মবিল-যমুনা, এমআই সিমেন্টসহ অনেক কোম্পানির তালিকাভুক্তি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়।
বর্তমানে মবিল-যমুনা ও এমআই সিমেন্টের আইপিও আবেদনে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের তিন হাজার ৯০৬ কোটি টাকারও বেশি আটকে আছে। সরকারি ঘোষণার পর আইপিও আবেদনকারীরা শঙ্কায় পড়েন।
জানা গেছে, মবিল-যমুনার ৬০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকার আইপিওর বিপরীতে জমা পড়েছে দুই হাজার ৩৬৬ কোটি টাকার আবেদন। আর এমআই সিমেন্টের প্রায় ২১০ কোটি টাকার বিপরীতে জমা পড়েছে প্রায় এক হাজার ৫৪০ কোটি টাকার আবেদন।
দেশীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্য থেকেই এই বিপুল আবেদন জমা পড়েছে। এর বাইরে প্রবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আবেদনের টাকাও রয়েছে।
গত রোববার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছিলেন, ‘মবিল-যমুনা ও এমআই সিমেন্টের আইপিও বাতিল কিংবা আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হবে।’
এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) মবিল-যমুনা লুব্রিকেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজম জে. চৌধুরী এবং এমআই সিমেন্টের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করেন।
এ সময় এসইসির চেয়ারম্যান সরকারের সিদ্ধান্তের কথা তাঁদের জানান এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে কোম্পানিগুলো কী ব্যবস্থা নেবে, তা জানতে চান। তখন কোম্পানি দুটির পক্ষ থেকে বাই ব্যাকের (পুনঃক্রয়) নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।
মবিল-যমুনা লুব্রিকেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজম জে. চৌধুরী জানান, তাঁরা যে দামে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আইপিওর শেয়ার বিক্রি করছেন, তাতে যদি কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাহলে এর দায় কোম্পানি নেবে। এই নিশ্চয়তা তিনি এসইসিকে দিয়েছেন।
আজম জে. চৌধুরী প্রথম আলোকে আরও বলেন, যদি বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম নেমে যায়, তাহলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যে পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, সেটি পুষিয়ে দিতে প্রয়োজনে বাজার থেকে শেয়ার বাই ব্যাক করা হবে।
এমআই সিমেন্টের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এসইসির পক্ষ থেকে আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা কী করব। তখন আমরা বাই ব্যাকের নিশ্চয়তা দিয়েছি।’
১০ টাকা অভিহিত মূল্যের এমআই সিমেন্টের প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক দাম ১১১ টাকা ৬০ পয়সা এবং একই অভিহিত মূল্যের মবিল-যমুনা লুব্রিকেন্টসের প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক দাম ঠিক করা হয় ১৫২ টাকা ৪০ পয়সা। এই দামেই কোম্পানি দুটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আইপিওর চাঁদা সংগ্রহ করে।

Source: The prothom-alo, 25 Jan, 2011