আইপিও বাজারে স্বস্তি দিল বেঙ্গল উইন্ডসোর

চলতি বছর তালিকাভুক্ত হওয়া নতুন কোম্পানিগুলোর মধ্যে একমাত্র বেঙ্গল উইন্ডসোর থার্মোপ্লাস্টিক কোম্পানির বিনিয়োগকারীরাই লাভের মুখ দেখতে যাচ্ছেন। এর আগে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করে সেকেন্ডারী মার্কেটের বিনিয়োগকারীরা লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। যে কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আইপিও বাজার নিয়ে শঙ্কা তৈরী হয়েছিল। তবে বেঙ্গল উইন্ডসোরের শেয়ার লেনদেনের চিত্র দেখে আইপিও বাজার নিয়ে আবারো ইতিবাচক ভাবনা শুরু করেছেন বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বেঙ্গল উইন্ডসোরের তালিকাভুক্তির পর ২ কার্যদিবস শেয়ার দর প্রায় একই জায়গায় ঘোরাফেরা করে। ৩য় কার্যদিবসে শেয়ারটির দর প্রায় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ১ম কার্যদিবসে যারা শেয়ারটি কিনেছিলেন, আগামীকাল তাদের শেয়ার বিক্রয়যোগ্য হবে। তারা হয়তো লাভের মুখ দেখতে পারবেন। তবে ২য় ও ৩য় কার্যদিবসে শেয়ারটির ক্রেতারা লাভের মুখ দেখতে পারবেন কীনা তা আগামীকালের লেনদেনের চিত্র দেখে হয়তো অনুমান করা যাবে।

তবে চলতি বছর এর আগে তালিকাভুক্ত হওয়া ৭টি কোম্পানির ক্ষেত্রে এমন চিত্র দেখা যায়নি। তালিকাভুক্তির ১ম কার্যদিবসে শেয়ারগুলো সর্বোচ্চ দরে অবস্থান করে। ২য় কার্যদিবস থেকে শেয়ারগুলোর দর ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। তাই ওইসব কোম্পানিতে আইপিও বিজয়ী বিনিয়োগকারীরা লাভবান হলেও সেকেন্ডারী মার্কেটের প্রথম কয়েক কার্যদিবসের বিনিয়োগকারীরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বেঙ্গল উইন্ডসোরের শেয়ার দর প্রথম কার্যদিবসে ৫৫ টাকায় ক্লোজিং হয়, ২য় কার্যদিবসে ৫৬ টাকায় ক্লোজিং হয় এবং ৩য় কার্যদিবসে প্রায় ৬১ টাকায় ক্লোজিং হয়। তিন কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে ৯২ লাখ ৭৬ হাজার ৪০০টি শেয়ার। প্রথম কার্যদিবসে ৫৯ লাখ ৭৬ হাজার ২০০ শেয়ার, ২য় কার্যদিবসে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার ২০০টি শেয়ার এবং তৃতীয় কার্যদিবসে ১৪ লাখ ৬১ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মধ্যে রয়েছেন গোল্ডেন হার্ভেস্ট, আর্গন ডেনিমস, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ও গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালসের শেয়ারগুলোতে। এই শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগকারীরা এখনো ৩২ শতাংশ থেকে ৫২ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতির মধ্যে রয়েছেন।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সেকেন্ডারী মার্কেট থেকে নতুন কোম্পানির শেয়ার কিনে লোকসানের মুখে পড়লে স্বাভাবিকভাবেই তাতে বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহ তৈরি হবে। যার নেতিবাচক প্রভার আইপিও বাজারেও পড়বে। যেহেতু বিনিয়োগের উদ্দেশ্য মুনাফা করা, তাই মুনাফা না হলে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহ হারাবে এটাই স্বাভাবিক। সে হিসেবে আগের কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগকারীদের  লোকসানের কারণে আইপিও বাজার প্রায় হুমকির মুখে পড়তে বসেছিল। কিন্তু সর্বশেষ তালিকাভুক্ত কোম্পানি সে আশঙ্কা দূর করেছে। ভবিষ্যতে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও বিনিয়োগকারীরা একই চিত্র দেখবেন এটাই সবার প্রত্যাশা।

শেয়ারনিউজ২৪