আবার চাঙ্গা হচ্ছে আইপিও বাজার, নির্ধারিত মূল্যে বাজারে আসতে ইতোমধ্যেই অনেক কোম্পানি নিয়ন্ত্রক সংস্থায় আবেদন জমা দিয়েছে

কিছুদিন ঝিমিয়ে থাকার পর আবারও চাঙ্গা হচ্ছে প্রাইমারী শেয়ারের বাজার। সেকেন্ডারি মার্কেটে মন্দা অব্যাহত থাকলেও শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহে তৎপর হচ্ছেন উদ্যোক্তারা। শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা শেষ হওয়ায় শীঘ্রই নতুন নতুন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসতে শুরু করবে। বুকবিল্ডিং পদ্ধতি কার্যকর হলে নতুন অনেক কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসার প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশা করছেন। আর নির্ধারিত মূল্যে বাজারে আসার জন্য ইতোমধ্যেই অনেক কোম্পানি নিয়ন্ত্রক সংস্থায় আবেদন জমা দিয়ে রেখেছে।
দীর্ঘদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণের ৰেত্রে ২০১০ সালের মার্চে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি কার্যকর করা হয়। কিন্তু ওই সময়ের বিধিমালার দুর্বলতার সুযোগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রেৰিতে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছরের ২০ জানুয়ারি এই পদ্ধতির কার্যকারিতা স্থগিত করে এসইসি। পরে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে এই পদ্ধতির সংশোধনী অনুমোদন করেছে এসইসি।
বুকবিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিত থাকার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছিল আইপিও বাজার। এ সঙ্কট কাটাতে আইপিও বাজার (প্রাইমারী মার্কেট) চাঙ্গা করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বাজারে শেয়ারের চাহিদা ও যোগানের (ডিমান্ড এ্যান্ড সাপস্নাই) সামঞ্জস্য বিধানের জন্য নতুন নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির ধারাবাহিকতা রক্ষার পরিকল্পনা করছে এসইসি। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ার সরবরাহের ৰেত্রে যাতে দীর্ঘ বিরতি না পড়ে সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। আবার একসঙ্গে অনেক কোম্পানি আসার ফলে বাজারে যাতে অর্থ সঙ্কট তৈরি না হয়_ সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তবে এসইসিতে আবেদন করার পর উদ্যোক্তারা যাতে অযথা সময়ক্ষেপণ বা হয়রানির শিকার না হন_ সেদিকেও গুরম্নত্ব দেয়া হচ্ছে।
বুকবিল্ডিং পদ্ধতির কার্যকারিতা চালুর পর এই পদ্ধতির আওতায় জমা থাকা আবেদনগুলো পর্যালোচনা করা হবে। স্থগিতাদেশের আগে এসইসিতে এ ধরনের ৪টি আবেদন জমা ছিল। এরমধ্যে ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর চূড়ানত্ম অনুমোদন পেলেও আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় সেই সময় বাজারে আসতে পারেনি এলায়েন্স হোল্ডিংস লিমিটেড। আর ব্রোকারেজ হাউসের তালিকাভুক্তির ৰেত্রে ডিএসইর নেতিবাচক অবস্থানের কারণে লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজকে অনুমোদন দেয়নি এসইসি।
অন্যদিকে ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ৫৫৫ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য গত ১৩ জানুয়ারি ইউনিক হোটেল এ্যান্ড রিসোর্টসের আইপিও অনুমোদন করে এসইসি। তবে এর পরপরই বুকবিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় আইপিও প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি কোম্পানিটি। এই কোম্পানির শেয়ারের নির্ধারিত মূল্য নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। এর প্রেৰিতে সম্প্রতি কোম্পানিটি বুকবিল্ডিংয়ের পরিবর্তে নির্ধারিত মূল্যে আইপিও অনুমোদনের জন্য এসইসিতে আবেদন করেছে।
এছাড়া বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে নাভানা রিয়েল এস্টেট এবং কেয়া কটন মিলস লিমিটেডের আইপিও আবেদন এসইসিতে জমা আছে। এরমধ্যে নাভানা রিয়েল এস্টেট ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে ৩৭২ কোটি টাকা এবং কেয়া কটন ৫ কোটি শেয়ার ছেড়ে ২৪৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চেয়েছিল। তবে আগে নির্ধারিত দরে এই দুই কোম্পানির আইপিও অনুমোদন করবে না এসইসি। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসতে হলে কোম্পানিগুলোকে নতুন বিধি অনুযায়ী রোড শো আয়োজন করে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের নির্দেশনা দেয়া হবে বলে এসইসি সূত্রে জানা গেছে।
গত জানুয়ারি পর্যনত্ম বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য র্নিধারণের প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষ করেছিল বেশ কিছু কোম্পানি। এরমধ্যে জিএমজি এয়ারলাইন্স এ বছরের ১২ জানুয়ারি রোড শো আয়োজন করে। কোম্পানিটি মোট ৬ কোটি শেয়ার ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে আর্থিক পরিস্থিতি ভাল না থাকায় কোম্পানিটি আপাতত পুঁজিবাজারে আসবে না বলে গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
এর আগে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল গোল্ডেন হারভেস্ট, বাংলাদেশ সাব মেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড, ফার ইস্ট নিটিং এ্যান্ড ডায়িং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, আনন্দ শিপইয়ার্ড এ্যান্ড সিস্নপওয়েজ লিমিটেড, অরিয়ন ফার্মা লিমিটেড, পিএইচপি ফ্লোট গস্নাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং সামিট শিপিং লিমিটেড। এরমধ্যে সরকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাব মেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড ইতোমধ্যেই নির্ধারিত মূল্য পদ্ধতিতে বাজারে আসার প্রক্রিয়া শুরম্ন করেছে। কোম্পানিটি ৩ কোটি ১০ লাখ শেয়ার ছাড়বে। এই কোম্পানির ইসু্য ব্যবস্থাপক হিসেবে রয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। গোল্ডেন হারভেস্ট ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য ব্যানকো ফাইন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে ইসু্য ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব দিয়েছিল। ফার ইস্ট নিটিং এ্যান্ড ডায়িং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৩ কোটি শেয়ার ছাড়ার জন্য ১৬ জানুয়ারি রোড শো আয়োজন করে। এই কোম্পানির ইসু্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড। জাহাজ নির্মাণ শিল্পের প্রথম কোম্পানি হিসেবে পুঁজিবাজারে আসার সিদ্ধানত্ম নেয় আনন্দ শিপইয়ার্ড এ্যান্ড সিস্নপওয়েজ লিমিটেড। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারণের পর কোম্পানিটি মোট ৩ কোটি শেয়ার ছাড়ার কথা ছিল। আনন্দ শিপইয়ার্ডের ইসু্য ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে রয়েছে প্রাইম ফাইন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। অরিয়ন ফার্মা লিমিটেড ৪ কোটি এবং পিএইচপি ফ্লোট গস্নাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৩ কোটি শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধানত্ম নিয়েছিল। এরমধ্যে অরিয়ন ফার্মা আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডকে ইসু্য ব্যবস্থাপক নিযুক্ত করে। আর পিএইচপি ফ্লোট গস্নাসের ইসু্য ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে এ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড।
সামিট গ্রম্নপের প্রতিষ্ঠান সামিট শিপিং লিমিটেড ৩ কোটি শেয়ার ছাড়ার জন্য ব্যানকো ফাইন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে ইসু্য ব্যবস্থাপক নিয়োগ করে। এছাড়া বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড (বিবিএস) নামে একটি কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসার জন্য জনতা ক্যাপিটাল এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে ইসু্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিয়েছিল।
অন্যদিকে নির্ধারিত মূল্যে শেয়ার ছাড়ার জন্য ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কোম্পানি এসইসিতে আবেদন করেছে। এরমধ্যে রয়েছে পদ্মা লাইফ ইন্সু্যরেন্স, এনার্জি প্রিমা, আমরা টেকনোলজি, জিএসপি ফাইন্যান্স, এলএসআই ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢাকা রিজেন্সি হোটেল এ্যান্ড রিসোর্ট, শাহীবাজার পাওয়ার, ডেল্টা স্পিনার্স (আরপিও), সায়হাম কটন মিলস, জিবিবি পাওয়ার, গেস্নাবাল হেভী কেমিক্যাল, জিপিএইস ইস্পাত এবং ফার ইস্ট নিটিং এ্যান্ড ডাইং ইন্ডাস্ট্রিজ।
Source: Daily Janakantha, October 16, 2011

Bookmark and Share

About bdipo Team

Started our journey in Jan 2009. A simple idea is getting bigger. A baby born and learning to walk, talk, imitate and express. This page is dedicated to that eternal urge of expression. The humane and emotional side of bdipo.
This entry was posted in IPO Basics and tagged , , . Bookmark the permalink.
  • Shafique

    It is request to SEC pl do not approve IPO with high premium, You will not allow more than 10 Tk premium. Learn from MI cement, Jamuna mobile, BSC, GBB power.