লেনদেন বাড়াতে আইপিওর কোম্পানিগুলোকে দ্রুত বাজারে আনতে হবে

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়া শেষে অপেক্ষায় থাকা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত সেকেন্ডারি মার্কেটে আনা হলে লেনদেন পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এসব কোম্পানির আইপিওতে আবেদনের কারণে বাজারে কিছুটা হলেও তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়। এখন এসব কোম্পানির শেয়ার মূল বাজারে আসলে পর্যায়ক্রমে লেনদেন আবার বাড়তে শুরু করবে।

গত বছরের ৪ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ৭টি কোম্পানি বাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে ৬০২ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এখন বাজারে পর্যায়ক্রমে এসব কোম্পানির শেয়ার লেনদেন শুরু হলে টাকার অংকে দৈনিক লেনদেনের পরিমান বেড়ে যাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সেকেন্ডারি মার্কেটে আসার অপেক্ষায় রয়েছে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটি বাজার থেকে সংগ্রহ করেছে ১২ কোটি টাকা, সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ার সংগ্রহ করেছে ১২০ কোটি টাকা, আর্গন ডেনিমস ১০৫ কোটি টাকা, গ্লোবাল হেভী কেমিক্যাল লিমিটেড ২৪ কোটি টাকা, প্রিমিয়ার সিমেন্ট লিমিটেড ২৬ কোটি টাকা, গোল্ডেন হার্ভেষ্ট এগ্রো ইন্ডাষ্টিজ ৭৫ কোটি টাকা এবং ওরিয়ন ফার্মা ২৪০ কোটি টাকা সংগ্রহের কাজ শেষ করেছে। এ ৭টি কোম্পানি বাজার থেকে ৬০২ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। এছাড়া কোম্পানির আইপিওতে যারা বিজয়ী হতে পারেননি তাদের রিফান্ড ওয়ারেন্টের টাকা যার যার হিসাবে যেতে শুরু করেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ প্রিমিয়ামসহ আইপিও মার্কেটের টাকাগুলো সেকেন্ডারি মার্কেটে ফিরে আসলে লেনদেন খরা কমে যাবে। কারণ, উপরোক্ত কোম্পানিগুলোর আইপিওতে আবেদন করার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীদের বিপুল পরিমান অর্থ আটকে রয়েছে। সেই টাকাগুলো সেকেন্ডারি মার্কেটে ফেরৎ আসলে পুঁজিবাজারের বিদ্যমান অর্থাৎ তারল্য সমস্যা অনেকটা কেটে যাবে। এছাড়া নতুন কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক এবং বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীরা উদগ্রীব হয়ে থাকেন। তাই এসব কোম্পানির লেনদেন শুরু হলে বাজারে কিছুটা হলেও নগদ অর্থ প্রবেশ করবে।

তাদের মতে, বাজার দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক মন্দার কবলে রয়েছে। তবে এ মন্দা থেকে বের হতে হলে নতুন নতুন কোম্পানিকে বাজারে এনে মানি সাপ্লাই বাড়াতে হবে। এটা যেমন ঠিক, তেমনিভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেও বাজার ও বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষায় এক সঙ্গে একাধিক কোম্পানির তালিকাভুক্তির বিষয়ে যুযোপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এদিকে শেয়ারবাজার থেকে এখনও চাঁদা সংগ্রহের অপেক্ষায় রয়েছে বেঙ্গল উইন্ডসোর থার্মোপ্লাষ্টিক লিমিটেড ও এপোলো ইষ্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেড। কোম্পানি ২টি বাজার থেকে প্রিমিয়ামসহ ২৬০ কোটি টাকা তুলবে। বেঙ্গল উইন্ডসোর থার্মোপ্লাষ্টিক লিমিটেডের চাঁদা সংগ্রহ শুরু হবে ২৭ জানুয়ারি এবং চলবে ৩১ তারিখ পর্যন্ত। এপোলো ইষ্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেডের চাঁদা সংগ্রহ ৩ থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত চলবে। তবে সামনে ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন কোনো কোম্পানির আইপিও নেই।

This entry was posted in News and tagged , on by .

About bdipo Team

Started our journey in Jan 2009. A simple idea is getting bigger. A baby born and learning to walk, talk, imitate and express. This page is dedicated to that eternal urge of expression. The humane and emotional side of bdipo.