‘নির্ধারিত মূল্য’ পদ্ধতি সক্রিয় করার প্রস্তাব দেবে চার প্রতিষ্ঠান

পুঁজিবাজারে বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন পেশ করার আগে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে সংশোধনী না আনার পৰে অবস্থান নিয়েছে দেশের দুই স্টক এঙ্চেঞ্জ, বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি) এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)। একইসঙ্গে আপাতত বুকবিল্ডিং পদ্ধতি কার্যকর না করে ইতোমধ্যে রোড শো’র মাধ্যমে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করে ফেলা কোম্পানিগুলোকে নির্ধারিত মূল্য পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসতে চায় তারা। বুকবিল্ডিং পদ্ধতি নিয়ে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) বৈঠকে চার প্রতিষ্ঠানের পৰ থেকে এ প্রসত্মাব দেয়া হবে। আজ সোমবার সকাল ১১টায় এসইসিতে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বুকবিল্ডিং পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে গত ২১ মার্চ এসইসিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এসইসির পৰ থেকে দুই স্টক এঙ্চেঞ্জ, বিএপিএলসি এবং বিএমবিএর নেতাদের কাছে সংশোধনী প্রসত্মাবগুলো তুলে ধরা হয়। ওই বৈঠকে বিএপিএলসির চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে জটিলতা এড়াতে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি বাতিলের প্রসত্মাব করেছিলেন। তিনি নির্ধারিত মূল্য (ফিঙ্ড প্রাইস) পদ্ধতির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির প্রসত্মাব করেন। তবে ডিএসই-সিএসই, বিএমবিএ প্রতিনিধি এবং এসইসি কর্মকর্তারা তাঁর এই প্রসত্মাবের বিরোধিতা করেন।
ওই বৈঠকে দুই স্টক এঙ্চেঞ্জ, বিএপিএলসি এবং বিএমবিএ প্রতিনিধিরা তাৎৰণিকভাবে এসইসির প্রসত্মাবের ওপর কোন মতামত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ কারণে পরবর্তীতে আরেকটি বৈঠক করে সব প্রতিষ্ঠানের মতামত গ্রহণের সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়। ওইদিনই ২৮ মার্চ আজ বুকবিল্ডিং পদ্ধতি নিয়ে আরেকটি বৈঠকের সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়। কমিশনের প্রসত্মাবের ওপর নিজ নিজ ফোরামে আলোচনার পর আজকের বৈঠকে মতামত পেশ করার কথা।
তবে এসইসির সঙ্গে বৈঠকের আগেই গত শনিবার বুকবিল্ডিং পদ্ধতি নিয়ে নিজেদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন দুই স্টক এঙ্চেঞ্জ, বিএপিএলসি এবং বিএমবিএ নেতারা। বৈঠকে তদনত্ম কমিটির সুপারিশ পাওয়ার আগে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংশোধনের উদ্যোগ স্থগিত রাখার বিষয়ে মতৈক্য হয়। এসইসির সঙ্গে বৈঠকে চার সংগঠনের পৰ থেকে এ বিষয়টি তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম স্টক এঙ্চেঞ্জের (সিএসই) সভাপতি ফখরউদ্দীন আলী আহমেদ রবিবার জনকণ্ঠকে বলেন, পুঁজিবাজার সম্পর্কে তদনত্ম কমিটির কাজ শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। হয়ত বা সপ্তাহখানেকের মধ্যেই কমিটি তাদের প্রতিবেদন পেশ করবে। কমিটির প্রতিবেদনে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি নিয়েও সুপারিশ থাকতে পারে। এ কারণে কমিটির সুপারিশগুলো পাওয়ার পরই বুকবিল্ডিং পদ্ধতির সংস্কার করা উচিত। এর আগে তাড়াহুড়ো করে কিছু করলে একই বিষয়ে দু’বার কাজ করতে হতে পারে।
তিনি বলেন, নানা কারণে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি ঠিকভাবে কাজ করেনি। ফলে পদ্ধতিটি বিভিন্ন মহলে সমালোচিত হয়েছে। সমালোচনার মুখে সরকারের পক্ষ থেকে পদ্ধতিটি স্থগিত করা হয়েছে। ফলে এ বিষয়ে তদনত্ম কমিটির মতামত পর্যালোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধানত্ম নেয়া উচিত।
বাজারে শেয়ার সরবরাহে স্থবিরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারে নুতন শেয়ার সরবরাহের ৰেত্রে এক ধরনের বন্ধ্যত্ব তৈরি হয়েছে। এটা বাজারের জন্য ভাল বিষয় নয়। শেয়ার সরবরাহের ধারা অব্যাহত রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে। বিশেষ করে ইসু্য ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্যোগী হতে হবে। বর্তমান অবস্থায়ও যে শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করা যায়_ উদ্যোক্তাদের তা বোঝাতে হবে। দেশের স্বার্থে সবাইকে এ বিষয়ে মনোযোগী হতে হেব।
সিএসই সভাপতি আরও বলেন, বুকবিল্ডিং পদ্ধতি কার্যকর না হওয়া পর্যনত্ম নির্ধারিত মূল্য পদ্ধতিতে নতুন নতুন কোম্পানিকে বাজারে নিয়ে আসতে হবে। ইতোমধ্যে যেসব কোম্পানি বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারের আসার প্রক্রিয়া শুরম্ন করেছিল, সেসব কোম্পানিকেও নির্ধারিত মূল্যে বাজারে আনা যেতে পারে। উদ্যোক্তাদের দিক থেকে সদিচ্ছা থাকলে এৰেত্রে কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এজন্য ইসু্য ব্যবস্থাপকদের কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করা উচিত।

Source: The daily janakantha, 28 March, 2011