আইপিও অনুমোদন পেতেই পদত্যাগ করেন ফ্যামিলি টেক্সের চেয়ারম্যান!

পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পেতেই পদত্যাগ করেন ফ্যামিলি টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের ফারুক। তিনি আরএন স্পিনিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক। রাইট শেয়ার কেলেঙ্কারীর দায়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সম্প্রতি তাকে আরএন স্পিনিং থেকে অপসারণ করে। এতো কিছুর পরও এ কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেয়ায় হতাশ বিনিয়োগকারী এবং বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বিএসইসি এ কোম্পানিকে গত ২২ জানুয়ারি আইপিওর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের অনুমতি দেয়। এমতাবস্থায় আইপিও প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো ধরণের ঝামেলা না হয় এজন্য আবদুল কাদের ফারুকসহ আরএন স্পিনিংয়ের সঙ্গে ইতিপূর্বে সম্পৃক্ত বিদেশী উদ্যেক্তারাও সরে দাঁড়ান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, আব্দুল কাদের ফারুক চেয়ারম্যান থাকাকালীন গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি আইপিও অনুমোদনের জন্য ফ্যামিলি টেক্সের প্রসপেক্টাস দাখিল করা হয়। এরপর একই বছরের ১০ অক্টোবর সংশোধিত প্রসপেক্টাসে তার পরিবর্তে রোকসানা মোরশেদকে চেয়ারম্যান দেখানো হয়। কিন্তু বর্তমানে এ কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন মেরাজ-ই-মোস্তফা।

প্রসঙ্গত, আরএন স্পিনিংয়ের রাইট শেয়ার কেলেঙ্কারীর ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় গত ৮ জানুয়ারি কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল কাদের ফারুককে অপসারণের নির্দেশ দেয় বিএসইসি।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আরএন স্পিনিংয়ের পরিচালকরা নিজ অংশের রাইট শেয়ার ক্রয়ের জন্য কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দিয়েছেন মর্মে ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করা। এ অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় কোম্পানি এবং তার বিরুদ্ধে গত ১০ অক্টোবর মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়। আর রাইট শেয়ার কেলেঙ্কারীতে জড়িত থাকায় ৮ জানুয়ারি আরএন স্পিনিংয়ের ৬ পরিচালককে ৩ কোটি টাকা জরিমানা করে বিএসইসি।

এদিকে আইপিও আবেদন পর্যালোচনা সংক্রান্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নিরপেক্ষ প্যানেলের এক কর্মকর্তা ফ্যামিলি টেক্সের বিষয়ে বলেন, মূলধনের তুলনায় এ কোম্পানির মুনাফার হার এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য অত্যন্ত কম। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে নতুন করে যেসব সাধারণ বিনিয়োগকারী যুক্ত হবেন কোম্পানিটি তাদের ভালো লভ্যাংশ দিতে পারবে কীনা তা নিয়ে প্যানেলের পর্যালোচনায় সন্দেহ পোষণ করা হয়।

৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত বছরে এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ছিল ১০৫ কোটি টাকা। কিন্তু ওই বছর কোম্পানির কর পরবর্তী মুনাফা ছিল মাত্র ৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা। ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) এখনো মাত্র ১১ টাকা ৮২ পয়সা।

জানতে চাইলে বিএসইসি’র শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, আরএন স্পিনিং এবং ফ্যামিলি টেক্স ভিন্ন কোম্পানি হওয়ায় এ বিষয়টি তারা বিবেচনায় নেননি।

তবে ফ্যামিলি টেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ মোরশেদ বলেন, কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল কাদের ফারুকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার যোগসাজোস নেই।

শেয়ারনিউজ২৪

This entry was posted in News and tagged , on by .

About bdipo Team

Started our journey in Jan 2009. A simple idea is getting bigger. A baby born and learning to walk, talk, imitate and express. This page is dedicated to that eternal urge of expression. The humane and emotional side of bdipo.