সরাসরি তালিকাভুক্ত হচ্ছে এসেনসিয়াল ড্রাগস

স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ১ কোটি ২৫ লাখ শেয়ার বিক্রি করা হবে

শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত হবে সরকারী মালিকানাধীন একমাত্র ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড। প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণের পর দুই স্টক এঙ্চেঞ্জের মাধ্যমে এই কোম্পানির ১ কোটি ৪ লাখ ২৫ হাজার শেয়ার বিক্রি করা হবে। সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য ইতোমধ্যেই এসেনসিয়াল ড্রাগসের পৰ থেকে গত অক্টোবরে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) আবেদন করা হয়। প্রাথমিক শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের পর তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া অগ্রসর করতে গত মাসে এসইসির পৰ থেকে দুই স্টক এঙ্চেঞ্জ, কোম্পানি এবং ইসু্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে এসইসি সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এসেনসিয়াল ড্রাগসের মালিকানায় থাকা সম্পদের মূল্য ৩৬৯ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং ইকু্যইটির পরিমাণ ১৮১ কোটি ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। বর্তমানে এর সম্পূর্ণ মালিকানা সরকারের হাতে রয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ১০ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ইকু্যয়িটির সমপরিমাণ ১ কোটি ৪ লাখ ২৫ হাজার শেয়ার বাজারে ছাড়া হবে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের এসব শেয়ারের বিক্রয় মূল্য নির্ধারণের পর সরাসরি স্টক এঙ্চেঞ্জের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।
জানা গেছে, ১৯৬২ সালে তৎকালীন পাকিসত্মান কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে গবর্নমেন্ট ফার্মাসিউটিক্যাল ল্যাবরেটরি নামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরম্ন হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭৯ সালে এর নাম পরিবর্তন করে ফার্মাসিউটিক্যাল প্রডাকশন ইউনিট রাখা হয়। ১৯৮৩ সালে এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড নামকরণ করে এটিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। দেশের ওষুধ শিল্প অগ্রসর করে উন্নতমানের জীবন রৰাকারী ওষুধ উৎপাদন এবং দেশে ও বিদেশে বাজারজাত করাই প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য।
বর্তমানে কোম্পানিটি ১৫৫ ধরনের জরম্নরী ওষুধ উৎপাদন করে। কোম্পানির বার্ষিক উৎপাদন ও বাজারজাত ওষুধের মূল্য প্রায় ১২০ কোটি টাকা। ঢাকায় অবস্থিত কোম্পানির প্রথম ইউনিটের কারখানার জনবল সংখ্যা ৬৮২। এছাড়া ১৯৮৫ সালে এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি বগুড়া নামে একটি পৃথক ইউনিট স্থাপন করা হয়। বগুড়া ইউনিটের জনবল সংখ্যা ৩৪৫। এছাড়া এসেনসিয়াল ড্রাগস খুলনা নামে আরেকটি ইউনিটে সরকারীভাবে কনডম উৎপাদন চালু রয়েছে। এই ইউনিট থেকে প্রতিবছর পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরকে প্রায় ১৫ কোটি কনডম সরবরাহ করা হয়।
উলেস্নখ্য, পুঁজিবাজারে শেয়ার ছাড়ার জন্য ২৫টি সরকারী কোম্পানির তালিকা করা হয়েছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) আগে থেকেই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। এসেনসিয়াল ড্রাগস ছাড়াও সাব-মেরিন কেবল কোম্পানি ৩ কোটি ১০ লাখ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ১০৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহের জন্য সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) আবেদন জমা দেয়া হয়েছে। একইভাবে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের আইপিও আবেদনও এসইসির বিবেচনাধীন রয়েছে।
বাকি ২২টি কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার প্রস্তুতি কাজ চলছে। কোম্পানিগুলো হলো_ টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল), লিকু্যইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) লিমিটেড, চিটাগাং ড্রাইডক, বাংলাদেশ সার্ভিসেস, টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস), বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস, রূপানত্মরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমস লিমিটেড, পঞ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি, সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড, রম্নরাল পাওয়ার কোম্পানি, হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল (সোনারগাঁও হোটেল), বাংলাদেশ ইনসু্যলেটর এ্যান্ড স্যানেটারিওয়ার ফ্যাক্টরি লিমিটেড, ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি, কর্ণফুলী পেপার মিলস, জিইএমকো, বাংলাদেশ বেস্নড ফ্যাক্টরি লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেড।

সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ, ২৫ ডিসেম্বর ২০১১