নন-ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের মূলধন বৃদ্ধির সময় বাড়ছে না

ব্যর্থ আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ৩০ জুনের মধ্যে আইপিও ইস্যু করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ

বাধ্যতামূলকভাবে নন-ব্যাংকিং প্রত্যেক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাদের পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এই পরিমাণ মূলধন সংগ্রহের জন্য আগামী ৩০ জুনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে যদি কোন প্রতিষ্ঠান তাদের পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ওইসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর এসকে সুর চৌধুরী এ বিষয়ে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন। গবর্নর ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দেশের ৩১টি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পরিশোধিত মূলধনের বিষয় ছাড়াও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিকটতম ভিন্ন স্থাপনায় শাখা সম্প্রসারণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনর্অর্থায়ন স্কিমের আওতায় ‘হোম লোন উইনডো’ চালুকরণ এবং জিরো কুপন বন্ডের ওপর অর্পিত কর আগামী বাজেটে প্রত্যাহার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ডেপুটি গবর্নর এসকে সুর চৌধুরী সাংবাদিকদের আরও জানান, ৩১টি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৬টির পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৫টি প্রতিষ্ঠান এখনও তাদের পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটিতে উন্নীত করতে পারেনি।
সুর চৌধুরী জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সময়সীমা বৃদ্ধি করা হলে ব্যাসেল-২ এর রোডম্যাপ অনুযায়ী ‘ইন্টারনাল রেটিং বেজড এ্যাপ্রোচ’ গ্রহণ এবং সামনে ব্যাসেল-৩ নীতিমালা বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া গত বছর ৩১ আগস্টের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই ব্যাংকগুলো তাদের পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছে। তাই নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মূলধন বৃদ্ধির সময় বাড়ানোর কোন সুযোগ নেই। এসব বিষয় বিবেচনা করেই একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধন ১০০ কোটি টাকায় উন্নীতকরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশ্বাস করে যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটির নিচে রয়েছে তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা পূরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তবে এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদ খান এ সময় সাংবাদিকদের অবহিত করে বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের টাকা ১০০ কোটিতে উন্নীত করা সম্ভব নয়। কারণ অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিও ছাড়ার জন্য সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে আবেদন করে পরবর্তি প্রক্রিয়ার জন্য অপক্ষো করছে। কিন্তু কোনটিরই অনুমোদন দেয়া হচ্ছে না।
ওদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শাখা/বুথ সম্প্রসারণের বিষয়ে নির্দেশনা শিথিল করার বিএলএফসিএ’র দাবি প্রসঙ্গে বৈঠকে গবর্নর ড. আতিউর রহমান জানান, এ বিষয়টি নমনীয়ভাবে দেখা যেতে পারে। কেননা ব্যাংক শাখায় ক্যাশভল্ট থাকে এবং প্রতিদিন কাউন্টারে লেনদেন হয়। ব্যাংকের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিঘিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় একই স্থাপনায় শাখা/বুধ সম্প্রসারণের বিষয়ে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ক্যাশভল্ট ও কাউন্টারে লেনদেন করার সুযোগ না থাকায় নিকটস্থ ভিন্ন স্থাপনায় শাখা/বুথ সম্প্রসারণ করা হলে তাদের নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এ বিবেচনায় নিকটস্থ ভিন্ন স্থাপনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শাখা/বুথ সম্প্রসারণের বিষয়টি আমরা বিবেচনা করব।’
পুনর্অর্থায়ন স্কিম চালুকরণের দাবি প্রসঙ্গে বৈঠকে গবর্নর বলেন, মুদ্রানীতির উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এ স্কিমের আওতায় পুনর্অর্থায়ন সুবিধা বন্ধ রাখা হয়েছে। তাই গৃহায়ন খাতে আপাতত নতুন করে পুনর্অর্থায়ন সুবিধা দেয়া সম্ভব নয়।’
বৈঠকে গবর্নর কৃষি ও এসএমই খাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ সন্তোষজনক নয় বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এসব উৎপাদনশীল খাতে ব্যাংকিং খাতের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেও ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ লিজিং ও ফাইন্যান্স কোম্পানি এ্যাসোসিয়েশনের নেতারা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত সচ্ছলতা বজায় রাখার জন্য জিরো কুপন বন্ডের ওপর থেকে কর প্রত্যাহারের দাবি জানান। এ প্রসঙ্গে এসকে সুর চৌধুরী জানান, বিষয়টি আলোচনাধীন। ইতোমধ্যে বিএলএফসিএ এ ব্যাপারে এনবিআরের সঙ্গে কথা বলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ, ৩০ মে ২০১২

This entry was posted in News and tagged on by .

About bdipo Team

Started our journey in Jan 2009. A simple idea is getting bigger. A baby born and learning to walk, talk, imitate and express. This page is dedicated to that eternal urge of expression. The humane and emotional side of bdipo.