কেয়া কটন মিলের নির্দেশক মূল্যে পরিবর্তন তিনবার

আলতাফ মাসুদ, ০২ জানুয়ারি (শীর্ষ নিউজ ডটকম): পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় থাকা কেয়া কটন মিলস লিমিটেডের প্রস্তাবিত নির্দেশক মূল্য পরিবর্তন হয়েছে তিনবার। পুঁজিবাজারে শেয়ারের ব্যাপক চাহিদার সুযোগে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে কোম্পানির প্রস্তাবিত নির্দেশক মূল্যে একাধিক বার পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় থাকা কেয়া কটন মিলের ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের নির্দেশক মূল্য সর্বশেষ ৬০ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে এ কোম্পানির শেয়ারের দর ১৫ টাকা চাওয়া হয়েছিল। জানা যায়, ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য কেয়া কটন মিলের জমা দেয়া প্রসপেক্টাসে এ কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের মূল্যের চূড়ান্ত প্রস্তাব করা হয়েছিল ১৫ টাকা। এর মধ্যে ৫ টাকা প্রিমিয়াম। কিন্তু ২০০৯ সালের ৫ এপ্রিল কেয়া কটন মিলের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা ঋণখেলাপি থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্ট ক্লিন না আসায় সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেয়নি। ২০০৮ সালে জমা দেয়া আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের সম্পদ মূল্য ছিল ২০.৭৯ টাকা। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এ কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৪.১৩ টাকা।
পরবর্তীতে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কোম্পানিটি আবারো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করে। এবার এ কোম্পানির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ও আয়ের ক্ষেত্রে খুব বেশি পার্থক্য না থাকলেও শেয়ারের নির্দেশক মূল্য পূর্বের ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ টাকায় প্রস্তাব করে। রোড শো’র আগে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানির পক্ষ থেকে জমা দেয়া প্রসপেক্টাসে নির্দেশক মূল্যের এ প্রস্তাব করা হয়।
এদিকে ২৩ ডিসেম্বর কেয়া কটন মিলের রোড শো’র দিনে কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত নির্দেশক মূল্যে আবারও পরিবর্তন করে ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সেদিন কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়, কেয়া কটনের সার্বিক দিক বিবেচনায় প্রস্তাবিত নির্দেশক মূল্য ৬০ টাকা করা হয়েছে।
একাধিকবার নির্দেশক মূল্য পরিবর্তনের বিষয়ে কেয়া কটন মিলের কোম্পানি সেক্রেটারি সৈয়দ নুরুল আলম শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেন, ২০০৮ সালে আমরা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আবেদন করার কিছুদিন পরেই আবার ফেরত নিয়েছিলাম। মূলত পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধির জন্য তালিকাভুক্তির আবেদন ফেরত নেয়া হয়। তবে সিআইবি রিপোর্ট ক্লিন না থাকায় এসইসি সে সময় তালিকাভুক্তির অনুমোদন না দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। আর গত ডিসেম্বর মাসে রোড শো’র দিনে পূর্বের জমা দেয়া নির্দেশক মূল্যের পরিবর্তনকে ছাপার ভুল বলে জানান কোম্পানি সচিব।
উল্লেখ্য, কেয়া গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে কয়া কটন মিল। এ গ্রুপের আরো দু’টি প্রতিষ্ঠান কেয়া কসমেটিক্স ও কেয়া ডিটারজেন্ট ইতিমধ্যেই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। এখানে আরো উল্লেখ যে, গত ২ মে গুজব ছড়িয়ে দরবৃদ্ধি করে বেআইনিভাবে নিজেদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফা তুলে নেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কেয়া কসমেটিক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল খালেক পাঠানকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি পরিচালক হিসেবে  কোম্পানির  শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে আইন অমান্য করায় তাকে আরও ৩৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মূল্য সংবেদনশীল তথ্য গোপন করায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছাড়াও পরিচালক ফিরোজা বেগম, খালেদা পারভীন, মাসুম পাঠান, আলহাজ আক্কাস আলী পাঠান এবং কোম্পানি সচিবকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

Source: sheershanews.com