ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক আইপিও চাঁদা সংগ্রহ শুরু এপ্রিলে

এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) চাঁদা সংগ্রহের নিয়ম প্রচলনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আইপিও অনুমোদন পাওয়া খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং কোম্পানি অথবা তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডায়িং কোম্পানির আইপিও চাঁদা সংগ্রহ এ প্রক্রিয়ায় শুরু হতে পারে। ফলে আইপিও আবেদনে বিনিয়োগকারীর ভোগান্তি দূর হবে বলে আশা করছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসইসি।
পরীক্ষামূলক এ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে আগামী জুন থেকে পুরোপুরিভাবে ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমেই আইপিও চাঁদা সংগ্রহ করা হবে। এ সেবার জন্য ব্রোকারেজ হাউসগুলো কমিশনও পাবে। গতকাল দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ও ইস্যু ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে আলোচনায় এ তথ্য জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিএসইসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গতকালের ওই বৈঠকে কমিশনের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুর রহমান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বপন কুমার বালা, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাজিদ হোসেনসহ কয়েকটি প্রধান মার্চেন্ট ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের বিষয়ে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজিদ হোসেন বলেন, কমিশন আমাদের জানিয়েছে, আগামী মাসের শেষ থেকেই ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে আইপিও চাঁদা সংগ্রহ শুরু করা হবে। এ সময় ব্যাংকগুলোর মাধ্যমেও আইপিও চাঁদা সংগ্রহ অব্যাহত থাকবে। এ প্রক্রিয়ায় চাঁদা সংগ্রহ কার্যক্রমের ফলাফল মূল্যায়ন শেষে জুন থেকে পুরোপুরি এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
সিএসইর এমডি আরো জানান, আইপিও চাঁদা সংগ্রহের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে নতুন করে সফটওয়্যার উন্নয়ন করতে হবে এবং জনবলও নিয়োগ করতে হবে। এ কাজে তাদের প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। সাজিদ হোসেন বলেন, এজন্য কমিশনের পক্ষ থেকেই প্রস্তাব করা হয়েছে, আইপিও চাঁদা সংগ্রহ বাবদ ব্যাংকগুলোকে বর্তমানে দশমিক ১০ শতাংশ কমিশন দেয়া হয়। ব্রোকারেজ হাউসও এরকম কমিশন পাবে। তবে কমিশন হার কত হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
তবে কিছু ব্রোকারেজ হাউস এ প্রক্রিয়ায় আইপিও চাঁদা সংগ্রহের বিরোধিতা করেছে বলে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক স্বপন কুমার বালা। তাদের মত হলো— উন্নত দেশের শেয়ারবাজারের মতো আমাদের দেশেও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আইপিওর পুরো শেয়ার অবলেখনকারী (আন্ডাররাইটার) প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ইস্যুয়ার কোম্পানি সব শেয়ার বিক্রি করবে। এরপর আন্ডাররাইটার নিজ দায়িত্বে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণীর বিনিয়োগকারীর কাছে শেয়ার বিক্রি করবে বা নিজে রাখবে। এতে শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। স্বপন কুমার বলেন, দেশের বর্তমান ২৯ লাখ বিও হিসাবের মধ্যে অন্তত ১০ লাখ কেবল আইপিও শেয়ার ক্রয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে একজন ৩০০ থেকে ৫০০টি বিও হিসাবের মাধ্যমে আইপিও আবেদন করেন। এভাবে ওই ব্যক্তি যে শেয়ার পান, লেনদেনের শুরুতেই অনেক বেশি দরে তার পুরোটা বিক্রি করে বিপুল মুনাফা নিয়ে যান। বর্তমান তারল্য সংকটের মধ্যে বাজার থেকে এ অর্থ চলে যাওয়া ঠেকানোর জন্যই আমরা এ প্রস্তাব করেছি। তবে মনে হয় না, কমিশন আমাদের পরামর্শ গ্রহণ করবে।
এ প্রক্রিয়ায় সব বিনিয়োগকারী নিজ ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে আইপিও আবেদন করবেন। ব্রোকারেজ হাউস ওই আবেদনের সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করবে বা গ্রাহকের বিও হিসাব থেকে সমপরিমাণ অর্থ সরিয়ে পৃথক ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষণ করবে। এরপর নির্দিষ্ট দিনে সব আইপিও আবেদনকারীর বিও হিসাব নম্বর ও আবেদনকৃত লট সংখ্যার তথ্য ইস্যু ব্যবস্থাপক বরাবর প্রেরণ করবে। একই সঙ্গে ওই সব আবেদনের বিপরীতে পর্যাপ্ত অর্থ ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষণ-সংক্রান্ত ব্যাংক সার্টিফিকেট প্রদান করবে। এরপর ইস্যু ব্যবস্থাপক আইপিওতে নির্দিষ্ট শেয়ার লটের তুলনায় বেশিসংখ্যক আবেদন পেলে লটারির আয়োজন করবে। কেবল লটারি বিজয়ীদের তালিকা ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কাছে পাঠাবে। ওই কৃতকার্য আবেদনকারীর টাকা কোম্পানি হিসেবে প্রেরণ করবে এবং অকৃতকার্যদের চাঁদার অর্থ পরদিনই পুনরায় বিও হিসাবে ফেরত দেবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আইপিও চাঁদা ও আবেদন জমা এবং পরবর্তী সময়ে রিফান্ড অর্ডার বা শেয়ার অ্যালটমেন্ট লেটার সংগ্রহের ঝক্কি কমবে বলে জানান তিনি।
বণিক বার্তা
This entry was posted in News on by .

About bdipo Team

Started our journey in Jan 2009. A simple idea is getting bigger. A baby born and learning to walk, talk, imitate and express. This page is dedicated to that eternal urge of expression. The humane and emotional side of bdipo.