খুলনায় অ্যাপোলো ইস্পাতের আইপিওতে সাড়া নেই

বাজার ধস পরবর্তী শেয়ারবাজারের প্রতিটি প্রাথমিক গণ প্রস্তাবে (আইপিও) খুলনায় ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেলেও রোববার থেকে শুরু হওয়া অ্যাপোলো ইস্পাতের (রাণী মার্কা ঢেউটিন প্রস্তুত কারক) আইপিওতে সাড়া মিলছে না। তালিকাভুক্তি নিয়ে জটিলতা, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য ও বিভিন্ন পত্রিকায় কোম্পানিটির হাড়ির খবর ফাঁস হওয়াতে এমনটি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সচেতন বিনিয়োগকারীরা।

তারা বলেন, কোম্পানিটি সম্পর্কে এসব খবর আমাদের প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। যারা দুই একটি আবেদন করেছেন তারাও সন্দেহের দোলাচলে রয়েছেন।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, নগরীর আইসিবি, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথ ইস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখায় এ কোম্পানির আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে ও জমা দিতে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি মিলছে না।

সোমবার দুপুরে এসোসিয়েটেড ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ হাউজের খুলনা শাখা ব্যবস্থাপক ওয়েস আলী জামাল বলেন, খুলনায় প্রতিটি কোম্পানির আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেলেও অ্যাপোলো ইস্পাতের আইপিওতে তেমন কোন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

তিনি জানান, কোম্পানিটি সম্পর্কে নানা বিরূপ খবর ও অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের কারণে বিনিয়োগকারীরা এ কোম্পানির আইপিওতে আবেদন করছেন না বলে তারা তাকে জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৩ ডিসেম্বর কমিশন অ্যাপোলো ইস্পাত লিমিটেডকে ১০ টাকা অভিহিতমূল্যের সঙ্গে ১২ টাকা প্রিমিয়ামসহ মোট ১০ কোটি শেয়ার ছেড়ে ২২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করার অনুমতি দেয়া হয়। অর্থমন্ত্রী অ্যাপোলো ইস্পাতের আইপিও প্রক্রিয়া স্থগিতের বিষয়ে চলতি বছর ৬ ফেব্রুয়ারি বিএসইসির কাছে চিঠি দেন। ওই চিঠিতে কোম্পানিটিকে বদমায়েশ বলে উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে দেয়া চিঠিতে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, কোম্পানিটি আইপিওতে যাওয়ার ব্যাপারে তার কাছে নালিশ এসেছে। বেশ কিছুদিন থেকে কো�পানিটি অচল। আইপিওর মাধ্যমে তারা বেশ কিছু সম্পদ লুটের আয়োজন করে।

পরবর্তী সময়ে ১২ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে বিএসইসি কোম্পানির আইপিও প্রক্রিয়া স্থগিত করে। কিন্তু মন্ত্রী নিজেই এক মাসের ব্যবধানে তার অবস্থান পরিবর্তন করেন।

উল্লেখ্য, অ্যাপোলো ইস্পাত লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন রোববার থেকে শুরু হয়ে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। তবে প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

জানা যায়, অ্যাপোলো ইস্পাত শেয়ারবাজারে ১০ কোটি শেয়ার ছেড়ে ২২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। প্রতিটি শেয়ারের ১০ টাকা ফেসভ্যালুর সঙ্গে ১২ টাকা প্রিমিয়ামসহ মোট ২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০০টি শেয়ারে লট নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা এবং আইপিও পূর্ববর্তী পরিশোধিত মূলধন ১৫০ কোটি। ৩০ জুন ২০১২ সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২.৩৬ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ২২.৫৯ টাকা।

অ্যাপোলোর প্রসপেক্টাস থেকে জানা যায়, আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ হতে ১৫৩ কোটি টাকা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা হবে এবং ৬০ কোটি টাকা পরিবেশবান্ধব জার্মান প্রযুক্তির নফ (Non Oxidizing Furnace) প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে ব্যয় করা হবে। এছাড়া নতুন প্রকল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ইতিমধ্যে আমদানি করা হয়েছে যা ২০১৪ সালের মাঝামাঝি নাগাদ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবার আশা করছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

শেয়ারনিউজ২৪
This entry was posted in ipo news on by .

About bdipo Team

Started our journey in Jan 2009. A simple idea is getting bigger. A baby born and learning to walk, talk, imitate and express. This page is dedicated to that eternal urge of expression. The humane and emotional side of bdipo.