শীঘ্রই লেনদেনে নামবে আমান

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) অনুমোদন পাওয়া বিবিধ খাতের কোম্পানি আমান ফিড পুঁজিবাজারে শীঘ্রই লেনদেনে নামবে। কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে লেনদেনে নামার সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছে। এখন শুধু রেগুলেটদের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। কোম্পানির সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ইতোমধ্যে কোম্পানির লটারিতে বরাদ্দপ্রাপ্ত শেয়ার বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে জমা হয়েছে। এখন লেনদেন শুরু হবে ঢাকা এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জ কমিশন (সিএসই) ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। তাই উভয় স্টকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে কোম্পানিটির লেনদেনে আসার দিনক্ষণ। তবে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ের আগেই লেনদেনে আসার সম্ভাবনার কথা জানালেন কোম্পানিটি।
আমান ফিডের সচিব নন্দন চন্দ্র দে বলেন, যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব লেনদেনে নামবে কোম্পানিটি। তবে লেনদেন নামাটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে ডিএসইর ও সিএসই’র সিদ্ধান্তে ওপর। আমদের লেনদেন করার আগে প্রায় সব কার্যক্রম শেষ হযেছে। তাই ডিএসইর ও সিএসই’র লিস্টিং হলেই আমরা লেনদেনে দিনক্ষণ বলতে পারব।
উল্লেখ্য, সদ্য অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিটি ২৪ জুন আইপিও লটারির ড্র সম্পন্ন করেছে। লটারিও উদ্বোধন করেন কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম। কোম্পানির আইপিওতে ৭২ কোটি টাকার বিপরীতে ৯১০ কোটি ৫৪ লাখ টাকার আবেদন জমা পড়েছিল। যা চাহিদার তুলনায় ১২.৬৪ গুণ বেশি। আদায়কৃত অর্থের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ৫৯২ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকার, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ৭৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার, প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা ১৪ কোটি ৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকার এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ডের কাছ থেকে ২২৮ কোটি ১ লাখ ১৭ হাজার টাকার আবেদন জমা হয়েছিল।
এর আগে গত ২৫ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত আমান ফিডের আইপিওর আবেদন জমা নেওয়া হয়। স্থানীয় এবং অনিবাসী বাংলাদেশি- উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীর জন্য এই সময়সীমা প্রযোজ্য ছিল। গত ৯ এপ্রিল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৫৪১তম সভায় এ কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়। আইপিওতে কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে লঙ্কা বাংলা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
প্রসপেক্টস সূত্রে, আমান ফিড কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালক ৪ জন। কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের মধ্যে কোম্পানির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, চেয়ারম্যানের দুই ভাই শফিকুল ইসলাম ও তৌফিকুল ইসলাম, চেয়ারম্যানের ছেলে তরিকুল ইসলাম। এছাড়াও নমিনী পরিচালক হিসেবে রয়েছেন আজিজুল হক।
সর্বশেষ অর্থবছরে কোম্পাটির মুনাফা সামান্য বেড়েছে। তবে সেই তুলনায় কোম্পানিটি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ছিল। কোম্পানিটি জুন ২০১৪ সালে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি লোন রয়েছে ১২৪ কোটি টাকা।
আইপিওতে কোম্পানিটি নিট এ্যাসেট ভ্যালু পার শেয়ার (এনএভিপিএস) ৩০.৭৭ টাকা। শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ৪.৯৭ টাকা। আমান ফিডের পরিশোধিত মূলধন ৬০ কোটি টাকা। আর আইপিও’র অর্থ সংগহের পরে পরিশোধিত মূলধন হবে ৮০ কোটি টাকা। কোম্পানিটি অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি টাকা। আইপিও’র পরে শেয়ার সংখ্যা দাঁড়াবে ৮ কোটি শেয়ার।
আইপিও মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করেছে ৭২ কোটি টাকা। এই টাকার মধ্যে কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ খাতে ব্যয় করবে ৩৫ কোটি টাকা। চলতি মূলধন হিসেবে থাকবে ২৯ কোটি ৯১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৬৭ টাকা। বাকী দীর্ঘমেয়াদি লোন ও অর্থ আইপিও খাতে ব্যয় হিসেবে ধরা হয়েছে।
কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে ২ কোটি শেয়ার ছেড়ে ৭২ কোটি সংগ্রহ করছে। এর মধ্যে প্রিমিয়ামে ৫২ কোটি টাকা এবং ফেস ভ্যালুতে ২০ টাকা আদায় করছে। এ জন্য প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা। কোম্পানির ২০০টি শেয়ারে মার্কেট লট নির্ধারণ করা হয়েছে। আইপিও পরে আমান ফিড উদ্যেক্তা পরিচালক কোম্পানির অধিকাংশ ধারণ করবে।
শেয়ারনিউজ২৪/ইউ/১০.৫৬ঘ.

 

This entry was posted in Trading commencement on by .

About bdipo Team

Started our journey in Jan 2009. A simple idea is getting bigger. A baby born and learning to walk, talk, imitate and express. This page is dedicated to that eternal urge of expression. The humane and emotional side of bdipo.