এএফসি এগ্রো বায়োটেক রিফান্ড ওয়ারেন্ট নিয়ে আবারো ধূম্রজালে বিনিয়োগকারীরা

দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তিতে অপেক্ষমাণ এএফসি এগ্রো বায়োটেক লিমিটেডের রিফান্ড ওয়ারেন্ট নিয়ে বিনিয়োগকারীরা আবারো চক্রান্তের জালে আটকে গেছে। ইতিমধ্যে কোম্পানিটির লটারিরর ড্র শেষ হলেও অনেক বিনিয়োগকারীর অর্থ এখনো ফেরৎ পাননি। আর এতে বিভিন্ন পেশায় সম্পৃক্ত বিনিয়োগকারীদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে জানা গছে।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, যখনই কোনো কোম্পানির আইপিওতে বড় ধরনের আবেদন জমা পড়ে এবং টাকার অঙ্ক বড় হয়, তখন কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের যোগসাজশে বিনিয়োগকারীদের অর্থ সহজে না দিয়ে রিফান্ড ওয়ারেন্ট দেয়ার মাধ্যমে ভোগান্তি সৃষ্টি করছেন। অন্যদিকে কোম্পানি সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা ১৫ থেকে ২০ দিন বা এর অধিক সময় বিনিয়োগকারীদের টাকা ব্যাংকে রাখতে পারে, তাহলে ব্যাংক থেকে বড় ধরনের কমিশন পাবে। এ ধরনের অসৎ উদ্দেশ্যে এখনো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা কোম্পানি ও ব্যাংকের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছেন, যাতে বাজারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কোনো যায় আসে না। বিনিয়োগকারীরা তাদের অর্থ ফেরত পেলো কি না বা ভোগান্তি হলো কি না তা দেখার কেউ নেই। এ রিফান্ড ওয়ারেন্টের এ ভোগান্তি থেকে বিনিয়োগকারীরা কবে মুক্তি পাবে- এ প্রশ্ন বিনিয়োগকারীদের?

বিনিয়োগকারী রুবেল, হাসেম, আমির ও সুজন জানান, দেশে এখন ডিজিটালের ছাপ পড়ছে। ব্যাংকগুলো টাকা জমা এবং পরিশোধের ক্ষেত্রে অনলাইন সিস্টেম ব্যবহার করছে। এ অবস্থায় শেয়ারবাজারে আইপিওতে আসা কোম্পানি চার-পাঁচদিনের মধ্যে আইপিওর টাকা জমা নিচ্ছে। সেখানেও বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘলাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে টাকা জমা দিতে হচ্ছে। আবার যারা লটারির ড্রতে জয়ী হতে পারছেন না, তাদের একটি অংশের টাকা অনলাইনে জমা হলেও আরেকটি বড় অংশের টাকার জন্য ব্যাংকে গেলে কোম্পানি সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। অন্যদিকে কোম্পানির কাছে গেলে বলা হচ্ছে ব্যাংকে টাকা পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এভাবে বিনিয়োগকারীদের হয়রানি করার পর রিফান্ড ওয়ারেন্ট কোম্পানির শেয়ার বিভাগের সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে নিতে বলা হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীরা আরো জানান, আইপিও আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ভুল হলে তা সংশোধন করে রিফান্ড দেয়া হয়। কিন্তু যেসব বিনিয়োগকারীর আবেদনে কোনো ধরনের ভুল নেই, তাদেরও রিফান্ড ওয়ারেন্ট ভোগান্তির মাধ্যমে নিতে হচ্ছে। এএফসি এগ্রো বায়োটেক লিমিটেডের ক্ষেত্রেও একই ঘটনার শিকার হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে সরজমিন এএফসি এগ্রো বায়োটেক লিমিটেডের রাজধানীর সেগুনবাগিচা কার্যালায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর রিফান্ড ওয়ারেন্ট বিলি বণ্টনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। যেসব বিনিয়োগকারীর টাকা এখনো ব্যাংক হিসাবে পৌঁছেনি তারা যোগাযোগ করলে সেগুনবাগিচার কচিকাঁচা ভবনের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার রিফান্ড ওয়ারেন্টের গাইট ফ্লোরে এবং টেবিলের ওপর পড়ে আছে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের অধিকাংশ এখনো জানে না, তাদের রিফান্ড ওয়ারেন্ট কবে নাগাদ আসবে। তবে কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা বলছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা পুরোদমে রিফান্ড ওয়ারেন্ট বিতরণ শুরু করবে।

এ বিষয়ে এএফসি এগ্রো বায়োটেক লিমিটেডের কোম্পানি সচিব মাহবুবুর রহমান শেয়ারনিউজ২৪ডটকমকে বলেন, আমরা সঠিক সময়ে রিফান্ড ওয়ারেন্ট বিতরণের কাজ শুরু করেছি। একই সঙ্গে ১৩ জানুয়ারি কয়েকটি পত্রিকায় এ সংক্রান্ত ডিস্ট্রিবিউশন শিডিউল প্রকাশ করেছি। তবে সাপ্তাহিক ছুটি ও বন্ধের কারণে সময় নিচ্ছে। অন্যদিকে আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে কয়েক লাখ রিফান্ড ওয়ারেন্ট ডাটা দিয়েছিলাম; কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকগুলো ওয়ারেন্ট দিতে না পারায় আবার আমাদের কাছে ডাটা ফেরত আসে। এরপর আমরা বিনিয়োগকারীদের হাতে রিফান্ড পৌঁছাতে কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলায় বিতরণ শুরু করেছি। আগামী ১ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিতরণ কাজ চলবে।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা ৫ হাজার টাকায় কোম্পানির লটারিতে আবেদন করে মনে করেন, তারা কোম্পানিকে কিনে নিয়েছে। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, এতো কম সময়ে রিফান্ড ওয়ারেন্টের টাকা ফেরত দেয়া খুবই কঠিন কাজ বলে তিনি মনে করেন।

এএফসি এগ্রো বায়োটেক লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) লটারির ড্র আগামী ১১ জানুয়ারি, রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। কোম্পানির শেয়ার বিভাগের কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

জানা যায়, এএফসি এগ্রো বায়োটেক লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) ৬০ গুণ টাকা জমা পড়েছে। অর্থাৎ কোম্পানির আইপিওতে ১২ কোটি টাকার বিপরীতে জমা পড়েছে ৭১৯ কোটি ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যা মোট টাকার ৫৯.৯২ গুণ। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, কোম্পানিটির আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মোট ৪৯২ কোটি ৬৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৫৯ কোটি ৩৪ লাখ ৫ হাজার টাকা, প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২৫ কোটি ২০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১৪১ কোটি ৮১ লাখ টাকার আবেদন জমা পড়েছে। গত ৮ থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ কোম্পানির আইপিওতে আবেদন জমা নেয়া হয়। তবে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য এ সুযোগ ছিল ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কোম্পানির লটারির ড্র গত ১১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। ৩০ জুন ২০১৩ অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.০১ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভি) হয়েছে ১১.১০ টাকা। এ প্রতিষ্ঠানের ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে ইমপেরিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেড এবং সিগমা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

শেয়ারনিউজ২৪
This entry was posted in News on by .

About bdipo Team

Started our journey in Jan 2009. A simple idea is getting bigger. A baby born and learning to walk, talk, imitate and express. This page is dedicated to that eternal urge of expression. The humane and emotional side of bdipo.