গত বছর বাজারে যুক্ত হয়েছে ৫৮৭ কোটি নতুন শেয়ার

আইপিও, রাইট ও বোনাসের মাধ্যমে আসা এসব শেয়ারের মূল্য ৮৬৫৮
কোটি টাকা

২০১১ সালে পুঁজিবাজারে ৫৮৭ কোটি ৬১ লাখ ৯৪ হাজার ২২৬টি নতুন শেয়ার যুক্ত হয়েছে। নতুন তালিকাভুক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানির রাইট ও বোনাস ইসু্যর মাধ্যমে এসব শেয়ার বাজারে এসেছে। নতুন করে যুক্ত হওয়া এসব শেয়ারের ইসু্য মূল্য ছিল ৮ হাজার ৬৫৮ কোটি ৫৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে বিপুল সংখ্যক এই শেয়ারের মূল্য যোগ হওয়ার পরও ধারাবাহিক মন্দার কারণে দুই স্টক এঙ্চেঞ্জের বাজার মূলধন ও সূচক ব্যাপকমাত্রায় কমে গেছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১০ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বমোট শেয়ার, মিউচু্যয়াল ফান্ড ইউনিট ও কর্পোরেট বন্ডের মোট সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৪১ কোটি ৯০ লাখ। ২০১১ সালে নতুন তালিকাভুক্ত ১৩টি কোম্পানির আইপিও, একটি কোম্পানির আরপিও শেয়ার এবং বিভিন্ন কোম্পানির রাইট ও বোনাস ইসু্যর ফলে বাজারে নতুন ৫৮৭ কোটি ৬১ লাখ ৯৪ হাজার ২২৬টি শেয়ার যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যনত্ম ডিএসইতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট শেয়ার, ইউনিট ও বন্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯ কোটি ৫১ লাখ ৯৪ হাজার ২২৬টি।
ডিএসই থেকে প্রাপ্ত হিসাবে দেখা গেছে, একটি কোম্পানির পুনঃগণপ্রসত্মাবসহ (আরপিও) গত বছর প্রাথমিক গণপ্রসত্মাবের (আইপিও) মাধ্যমে মোট ১৪টি কোম্পানির ১৩৩ কোটি ৬৪ লাখ ৭ হাজার ১০টি শেয়ার বাজারে যুক্ত হয়েছে। এসব শেয়ারের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১ হাজার ৬৮৯ কোটি ৮৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ওই বছর রাইট শেয়ার ইসু্যর মাধ্যমে বাজারে এসেছে ১১৬ কোটি ৯৯ লাখ ৭ হাজার ৭৫৯টি শেয়ার_ যার মোট মূল্য ১ হাজার ৮৫৮ কোটি ৯৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। এছাড়া গত বছর তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো ৫ হাজার ১০৯ কোটি ৭০ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধনের ৩৩৬ কোটি ৯৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪৫৭টি শেয়ার ইসু্য করা হয়েছে। এর আগে ২০১০ সালে আইপিও, রাইট ও বোনাসের মাধ্যমে ৪২০ কোটি ৫ লাখ ৭১ হাজার ২০০ শেয়ার যুক্ত হয়েছিল। এরমধ্যে আইপিওর মাধ্যমে ২৩৩ কোটি ১০ লাখ ৭৭ হাজার ৭৮১টি, বোনাস ইসু্যর মাধ্যমে ৭৫ কোটি ৩০ লাখ ১০ হাজার ৬৩৬টি, রাইট ইসু্যর মাধ্যমে ৮৮ কোটি ৪০ লাখ ৮৯ হাজার ৭৮৩টি এবং সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ২৩ কোটি ২৩ লাখ ৯৩ হাজার শেয়ার বাজারে আসে।
এক বছরে আইপিও, রাইট ও বোনাস মিলিয়ে বিপুল পরিমাণ নুতন শেয়ার যুক্ত হওয়ার পরও গত বছর ডিএসইর বাজার মূলধন ৮৯ হাজার কোটি টাকা বা ৩৪ শতাংশ কমে গেছে। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সালের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন ২ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ২০১০ সালের ৩০ ডিসেম্বর ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। এক বছরে ডিএসইর বাজার মূলধন মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫০.৮০ শতাংশ থেকে কমে ১৯.৭৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০০৯ সালের ৩০ জুন তালিকাভুক্ত সকল কোম্পানির শেয়ারের বাজার মূল্য ও আয়ের (পিই) গড় অনুপাত ছিল ১৮.৪৪। সে সময় বাজার মূলধন ছিল ১ লাখ ২৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। ২০১০ সালের জুনে পিই অনুপাত বেড়ে ২৪.০৮-এ দাঁড়ায়। ওই সময় বাজার মূলধন দাঁড়ায় ২ লাখ ৭০ হাজার ৭৪ কোটি টাকায়। ২০১০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ডিএসইর গড় পিই অনুপাত ছিল ২৯.১৬। ওইদিন বাজার মূলধনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ২৬ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা।

সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ, ২৪ জানুয়ারী ২০১২

This entry was posted in News and tagged on by .

About bdipo Team

Started our journey in Jan 2009. A simple idea is getting bigger. A baby born and learning to walk, talk, imitate and express. This page is dedicated to that eternal urge of expression. The humane and emotional side of bdipo.