Monthly Archives: April 2013

বেঙ্গল উইন্ডসোরের লেনদেন শুরু আজ

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া বেঙ্গল উইন্ডসোর থার্মো প্লাস্টিকস লিমিটেডের লেনদেন আজ, ১৬ এপ্রিল মঙ্গলবার দেশের উভয় শেয়ারবাজারে শুরু হয়েছে। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়েছে ‘এন’। এর ডিএসই ট্রেডিং কোড হচ্ছে “BENGALWTL” এবং কোম্পানি কোড হচ্ছে ১৩২৩১। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির আইপিও লটারি অনুষ্ঠিত হয়।

গত ২৭ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা আইপিও আবেদন জমা দেন। আর প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য এ সুযোগ ছিল গত ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

প্রতিষ্ঠানটির আইপিওতে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে সাড়ে ১২ গুণ বেশি (টাকার অংকে) আবেদন জমা পড়ে। অর্থাৎ এ কোম্পানির আইপিওতে মোট জমা পড়েছে ৪৯৮ কোটি টাকার আবেদন (গত ৭ ফেব্রুয়ারি হিসাব অনুযায়ী)। আর কোম্পানিটি বাজারে ১ কোটি ৬০ লাখ শেয়ার ছেড়ে ৪০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ১০ টাকা ফেস ভ্যালুর সঙ্গে ১৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৫ টাকা। এ কোম্পানির আইপিওতে মোট আবেদন জমা পড়েছে ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯০টি। টাকার পরিমাণে মোট ৪৯৮ কোটি ৯৩ লাখ ৩০ হাজার ৬২ টাকা। এর মধ্যে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আবেদন জমা পড়েছে ১৫ হাজার ৫০০টি। টাকার পরিমাণে জমা পড়েছে ৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির ইস্যূ ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

শেয়ারনিউজ২৪

ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে আইপিও আবেদন অজানা কারণে বাস্তবায়ন হচ্ছে না

নতুন কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আবেদনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা নিরসনের দাবি দীর্ঘ দিনের। বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরাও আইপিও প্রক্রিয়া সহজীকরণের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে ব্রোকারেজ হাউজের তত্ত্ববধানে নতুন কোম্পানির আইপিওতে আবেদনের সুযোগ রাখার পক্ষে বিনিয়োগকারী এবং বাজার সংশ্লিষ্টরা। ভয়াবহ ধসের পর এ বিষয়ে সংস্কারের দাবি উঠলেও অজানা কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইপিও’র সামগ্রিক প্রক্রিয়া ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হলে একদিকে আবেদনপত্র জমার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে অতি সহজ ও নিরাপদভাবে প্রাথমিক শেয়ার পেতে ব্যর্থ আবেদনকারীদের জমাকৃত টাকা ফেরত দেয়া (রিফান্ড) সম্ভব হবে।

বর্তমান ব্যবস্থায় কোনো কোম্পানির প্রাইমারি শেয়ার পাওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আইপিও ফরম ক্রয় বা সংগ্রহ করতে হয়। ফরমটি পূরণ করে আইপিওর জন্য নির্ধারিত অর্থসহ নির্ধারিত ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে হয়। প্রতিটি কোম্পানির আইপিও প্রক্রিয়ায় ব্যাংকার টু দ্য ইস্যুর নির্ধারিত শাখার সংখ্যা কম থাকায় আবেদন জমা দিতে গিয়ে আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়।
আবেদন সংগ্রহের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো আবেদনকারীদের সামগ্রিক তথ্য ইস্যু পরবর্তী ব্যবস্থাপনা (পোষ্ট ইস্যু ম্যানেজার) প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠিয়ে দেয়। ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান সব আবেদন যাচাই-বাছাই করে নির্ধারিত শেয়ারের তুলনায় আবেদনের পরিমান বেশি হলে লটারির ব্যবস্থা করে। বুয়েটের তত্ত্বাবধায়নে লটারির ফলাফল প্রকাশ করা হয়। লটারির মাধ্যমে যেসব আবেদনকারী শেয়ার বরাদ্দ পান তাদেরকে কোম্পানি ঘোষিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত স্থান থেকে বরাদ্দপত্র (এলোটমেন্ট লেটার) গ্রহণ করতে হয়। বরাদ্দপত্রটি ব্রোকারেজ হাউজে জমা দেয়ার পর সফল আবেদনকারীর বিও একাউন্টে শেয়ার জমা করা হয়।
অন্যদিকে লটারিতে শেয়ার পেতে ব্যর্থ আবেদনকারীকে কোম্পানি ঘোষিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট স্থান থেকে জমাকৃত অর্থের ফেরতপত্র (রিফান্ড ওয়ারেন্ট) সংগ্রহ করতে হয়। পরে ফেরতপত্রটি ব্যাংকে জমা দিলে ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই টাকা তার হিসাবে জমা করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরতপত্র সংগ্রহে ব্যর্থ হলে বা ফেরত প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা হলে আবেদনকারীদের বড় রকমের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হলেও অনেক বিনিয়োগকারীর কাছে তা পৌঁছে না। অনেক সময় আইপিওতে জমাকৃত টাকা ফেরত পেতে আবেদনকারীর ২-৩ মাস পর্যন্ত অপেক্ষারও নজির রয়েছে। ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে আইপিও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলে বিনিয়োগকারীদের এ ধরনের দুর্ভোগ থেকে রেহাই দেয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

জানা গেছে, ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে একদিকে যেমন অতি সহজে আইপিও আবেদন গ্রহণ যায়, তেমনি কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই ব্যর্থ আবেদনকারীদের অর্থ ফেরত দেয়া সম্ভব।

স্টক এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ হাউজের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের ২ স্টক এক্সচেঞ্জের আওতাধীন ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে সব সময়ই গ্রাহকদের বিপুল পরিমান টাকা বা শেয়ার জমা থাকে। আজ পর্যন্ত কোনো ব্রোকারেজ হাউস গ্রাহকের টাকা নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা করেছে বলে অভিযোগ আসেনি। ফলে এসব হাউসের মাধ্যমে আইপিওর টাকা জমা নেয়া হলে নিরাপত্তা থাকবে কিনা এ ধরনের সন্দেহ সম্পূর্ণ অমূলক। বরং ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে আইপিও আবেদন জমা নেয়া হলে সব দিক থেকেই প্রক্রিয়াটি সহজ হয়ে যাবে। এতে রিফান্ডের টাকা ফেরত পেতে অযথা সময় নষ্ট হবে না।

এদিকে ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে আবেদন জমা নেয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ে কথা-বার্তা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই প্রক্রিয়ায় আইপিওর মাধ্যমে শেয়ার পেতে আগ্রহী বিনিয়োগকারীরা নির্ধারিত পরিমান অর্থসহ নিজ নিজ ব্রোকারেজ হাউসের কাছে আবেদনপত্র জমা দেবে। প্রত্যেক ব্রোকারেজ হাউস আগ্রহী গ্রাহকদের নাম ও বিও হিসাব নম্বরের তালিকা প্রয়োজনীয় টাকাসহ নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দেবে। সব হাউস থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী আবেদনের সংখ্যা নির্ধারিত শেয়ারের চেয়ে বেশি হলে লটারির মাধ্যমে শেয়ার বরাদ্দ করা হবে। লটারির মাধ্যমে যেসব আবেদনকারী শেয়ার পাবেন তাদের ব্রোকারেজ হাউসে বরাদ্দপত্র পাঠিয়ে দেয়া হবে। যেসব আবেদনকারী শেয়ার পাবেন না তাদের টাকা ব্রোকারেজ হাউসের ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দেয়া হবে। সর্বশেষ ব্রোকারেজ হাউস তার গ্রাহকদের বিও হিসাবে টাকা জমা করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করা হলে আইপিও প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সংখ্যা কমে যাবে। এতে কোম্পানিগুলোর ব্যাংকার টু দ্য ইস্যু ফি এবং রিফান্ড ওয়ারেন্ট তৈরি ও বিতরণে ব্যয় অনেক কমে যাবে। বিনিয়োগকারীদেরও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন জমা ও রিফান্ড ওয়ারেন্ট সংগ্রহে ভোগান্তি কমে যাবে।

শেয়ারনিউজ২৪/এন/৯.৩৮ ঘ.

আড়াই বছর পর কার্যকর হচ্ছে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি

প্রায় আড়াই বছর পর কার্যকর হচ্ছে পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া বুকবিল্ডিং পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণের পর বাজারে তালিকাভুক্তির আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে মোট ৩ কোটি শেয়ার ছাড়বে। এ উপলক্ষে ১৭ এপ্রিল ‘রোড শো’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কোম্পানিটি।

দীর্ঘদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ২০১০ সালের মার্চে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি কার্যকর করা হয়। কিন্তু ওই সময় বিধিমালার দূর্বলতার সুযোগে বিভিন্ন কোম্পানি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগসাজস করে শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমগুলো সোচ্চার হওয়ায় সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১১ সালের ২০ জানুয়ারি এই পদ্ধতির কার্যকারিতা স্থগিত করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পরে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর এই পদ্ধতির সংশোধনী অনুমোদন করে বিএসইসি। পরে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাজারে শেয়ারের চাহিদা ও যোগানের (ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই) সামঞ্জস্য বিধানের জন্য নতুন নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির ধারাবাহিকতা রক্ষা করছে বিএসইসি। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ার সরবরাহের ক্ষেত্রে যাতে দীর্ঘ বিরতি না পড়ে সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। আবার একসঙ্গে অনেক কোম্পানি আসার ফলে বাজারে যাতে অর্থ সংকট তৈরি না হয়Ñ সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তবে বিএসইসিতে আবেদন করার পর উদ্যোক্তারা যাতে অযথা সময়ক্ষেপণ বা হয়রানির শিকার না হনÑ সেদিকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

গত দু’ বছরে নির্ধারিত মূল্য (ফিক্সড প্রাইজ) পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে প্রায় ২৫টি কোম্পানি বাজারে এলেও বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে আগ্রহ ছিল না কোম্পানি ও ইস্যু ম্যানেজারদের। তবে শেষ পর্যন্ত এই পদ্ধতিতে বাজারে আসছে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে। আগামী ১৭ এপ্রিল গুলশানের লেক শো’র হোটেলে কোম্পানির ‘রোড শো’ অনুষ্ঠিত হবে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

শেয়ারনিউজ২৪/

ফ্যামিলি টেক্স আইপিও আবেদনের সময় বৃদ্ধির জোর দাবি

সপ্তাহের সব কার্যদিবস হরতালের কারণে বিনিয়োগকারীরা ফ্যামিলি টেক্সের প্রাথমিক গণ প্রস্তাবে (আইপিও) আবেদন করতে পারছে না। আগামীকাল এ কোম্পানির আইপিও আবেদনের শেষ দিনেও হরতাল রয়েছে। যে কারণে এ কোম্পানির আইপিওতে আবেদন করা নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এমতাবস্থায় বিনিয়োগকারীরা এ কোম্পানির আইপিও আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো দাবি জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল এবং কুমিল্লার বিনিয়োগকারীরা শেয়ারনিউজ২৪ডটকম অফিসে ফোন করে জানান, কোনো কোনো ব্যাংক দুপুর ১২ পর্যন্ত  আইপিও আবেদনের টাকা জমা নিচ্ছে। এরপর আর টাকা জমা নেয়া হয় না। দু’একটা ব্যাংক দুপুর ১২টার পরও টাকা জমা নিলেও সেগুলোতে প্রচন্ড ভির। এছাড়া দেশের অধিকাংশ জেলায় সিকিউরিটিজ হাউজ না থাকায় সেসব এলাকায় টাকা জমা নেয়া হয় না। ফলে ওইসব অঞ্চলের বিনিয়োগকারীদের হাউজ সংলগ্ন এলাকার ব্যাংকগুলোতে গিয়ে টাকা জমা দিতে হয়। আর হরতালের কারণে যান চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় অনেকে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ফ্যামিলি টেক্সের আইপিওতে টাকা জমা দিতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা আইপিও আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল রোববার থেকে এ কোম্পানির আইপিও আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় অধিবাসীদের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হবে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে প্রবাসীদের জন্য আবেদনের শেষ সময় ২০ এপ্রিল।
প্রসঙ্গত, আজ বুধবার ১৮ দলীয় জোটের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবারও হরতাল ডেকেছে জামায়াত শিবির। এছাড়া আগামী সপ্তাহেও হরতাল আহ্বান করা হতে পারে বলে গুঞ্জণ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এ কোম্পানির আইপিও আবেদনের সময় বাড়ানো না হলে বিনিয়োগকারীরা আবেদন করতে পারবেন না বলে জানান।

শেয়ারনিউজ২৪

ফ্যামিলি টেক্সের আইপিও আবেদনের সময় বাড়ানোর দাবি

টানা ৩দিনের হরতালের কারণে ফ্যামিলি টেক্সের আইপিও আবেদনের সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। হরতালের কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বে অনেকের পক্ষেই এ কোম্পানির আইপিও আবেদন জমা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে ফ্যামিলি টেক্সের আইপিও আবেদনের সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
বিনিয়োগকারীরা জানান, টানা ৩দিনের হরতালের পর এ কোম্পানির আইপিও জমা দেয়ার জন্য মাত্র এক কার্যদিবস সময় পাবেন আবেদনকারীরা। মাত্র এক কার্যদিবসে আইপিও ফরম জমা দিতে পারবেন কীনা তা নিয়ে সন্দিহান বিনিয়োগকারীরা।
জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল রোববার থেকে এ কোম্পানির আইপিও আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় অধিবাসীদের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হবে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে প্রবাসীদের জন্য আবেদনের শেষ সময় ২০ এপ্রিল।
প্রসঙ্গত, আজ সোমবার হেফাজতে ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে। শীর্ষ নেতাদের কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে আগামী মঙ্গল ও বুধবার টানা ৩৬ ঘন্টার হরতাল ডেকেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দল।
বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেকেন্ডারী মার্কেটে মন্দা ও প্রাইমারী মার্কেট চাঙ্গা থাকায় আইপিও’র প্রতি তাদের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। তাই সেকেন্ডারী মার্কেটের পাশাপাশি প্রাইমারি মার্কেটের প্রতি মনোযোগী হয়েছেন তারা। সেকেন্ডারী মার্কেটের লোকসান কিছুটা হলেও আইপিও’র মাধ্যমে কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা। এ অবস্থায় হরতালের কারণে যদি তারা আইপিও আবেদন জমা না দিতে পারেন তবে সেটা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিনিয়োগকারীরা। তাই ফ্যামিলি টেক্সের আইপিও আবেদনের সময় বাড়ানোর দাবি বিনিয়োগকারীদের।


শেয়ারনিউজ২৪

আইটি কোম্পানির তালিকাভুক্তির শর্ত শিথিলের সুপারিশ বেসিসের

তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির শর্ত শিথিলের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)।

গতকাল বেসিসের সভাপতি একেএম ফাহিম মাশরুরের নেতৃত্বে তিন সদস্য শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাত্কালে এ সুপারিশ করেন।

সাক্ষাত্কালে বেসিস নেতারা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডের জন্য বিশেষ নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) ক্ষেত্রে এ খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক সর্বনিম্ন পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ সংশোধন করে ১০ কোটি টাকা নির্ধারণ করার জন্য সুপারিশ করেন। এছাড়া এসব বিষয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যানের সহযোগিতাও কামনা করেন। বেসিসের প্রস্তাবনা যত শিগগির সম্ভব পর্যালোচনাপূর্বক নিয়ন্ত্রক সংস্থা সহায়তা করবে বলে আশ্বাস দেন এম খায়রুল হোসেন। এ সময় বেসিসের সিনিয়র সহসভাপতি শামীম আহসান ও সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম রাউলী উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে হলে ৪০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
শেয়ারবাজারে বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ছয়টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১০-৫০ কোটি টাকার মধ্যে। বর্তমানে এ খাতের বাজার মূলধনের পরিমাণ ৪০১ কোটি টাকার।

বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে

শেয়ারবাজারের সমৃদ্ধির জন্য ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির বিকল্প নেই। আর এ ক্ষেত্রে আমাদের শেয়ারবাজার এখনো অনেকটা পিছিয়ে। এছাড়া বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে অনেক দুর্বলতা রয়েছে। তবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বাজারে তালিকাভুক্ত করা গেলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে এবং বাজার সমৃদ্ধির পথে আরো এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বর্তমান বাজারে ভালো ডিভিডেন্ড দেয়ার দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা তুলনামুলক ভালো পরিমান ডিভিডেন্ডের আশা করতে পারেন। তবে এ ধরনের কোম্পানির সংখ্যা কম হবার কারণে এসব শেয়ারের দর তুলনামুলক বেশি বলে মনে করেন বিনিয়োগকারীরা। তাই এ ধরনের কোম্পানির সংখ্যা বাড়লে ভালো শেয়ারের সংখ্যা বাড়বে এবং শেয়ার দর হাতের নাগালে থাকবে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

এ প্রসঙ্গে বিনিয়োগকারী সাজিদুর বলেন, শেয়ারবাজারে মাঝেমধ্যে এমন সব কোম্পানির তালিকাভুক্তির খবর পাই, যার নাম আগে কখনোই শোনা যায়নি। তবে কোম্পানির ব্যবসা ও আয় দেখেই বিনিয়োগকারীরা ব্যাপকহারে বিনিয়োগ করে থাকেন। যেসব বহুজাতিক কোম্পানি বছরের পর বছর ধরে আমাদের দেশে ভালো পরিমান ব্যবসা করে যাচ্ছে সেগুলোকে তালিকাভুক্তি করানো গেলে আগ্রহ আরো বেশি থাকবে।

জানা যায়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ইস্যু অব ক্যাপিটালের ২(এ) ধারা অনুযায়ী, দেশি-বিদেশি যে কোনো কোম্পানির মূলধনের ওপর বিএসইসির কর্তৃত্ব রয়েছে। যে কোনো কোম্পানির ওপর শর্ত, চুক্তি, মেমোরেন্ডাম দেয়ার ক্ষমতা বিএসইসিকে দেয়া হয়েছে।

সে অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিএসইসি দেশি-বিদেশি যে কোনো কোম্পানির ওপর শর্তারোপের ক্ষমতা রাখে। তাই বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্তির জন্য উদ্যোগও নিয়েছিল বিএসইসি। এজন্য কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে দীর্ঘদিন আগে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি ধীরগতিতে চলছে।

বিদ্যমান কোম্পানি আইন অনুযায়ী দেশীয় কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা অতিক্রম করলেই এক বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক। এছাড়া ব্যাংক ও বীমা কোম্পানির জন্য পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশের ৩ বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে আসার নিয়ম রয়েছে। কোনো কোম্পানি ওই সময়ে তালিকাভুক্ত হতে না পারলে যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখিয়ে ৬ মাস সময় বাড়াতে পারে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অনেক বীমা কোম্পানিকে প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা হারে জরিমানা দেয়ারও নজির দেখা গেছে। অথচ বিদেশি কোম্পানির জন্য এ ধরনের বাধ্যবাধকতা না থাকায় তারা মুক্তবাজার অর্থনীতিতে অবাধে বিচরণ করে যাচ্ছে। অবশ্য মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো লাভজনক হওয়ার পর পুঁজিবাজারে আসার শর্ত রয়েছে।

এদিকে ইস্যু ম্যানেজারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় ভিন্ন তথ্য। তাদের মতে, আমাদের দেশে সাধারণত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শাখা প্রতিষ্ঠান থাকে। আর বহুজাতিক কোম্পানির নীতি অনুযায়ী কোম্পানির শাখা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চায়।

এ প্রসঙ্গে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসের একজন কর্মকর্তা জানান, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো মূলত: নীতিগত কারণেই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চায় না। পাশাপাশি আমাদের দেশে এসব কোম্পানির তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই। তাই এ ধরনের কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির বিষয়টি পিছিয়ে রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মুখপাত্র সাইফুর রহমান বলেন, সব ধরনের কোম্পানিকে বাজারে আনা ইস্যু ম্যানেজারদের দায়িত্ব। বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আনার বিষয়ে যদি তারা কোনো প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়েন তাহলে কমিশন তাদের সাপোর্ট দেবে বলে জানান তিনি।

শেয়ারনিউজ২৪