Monthly Archives: February 2013

বেঙ্গল উইন্ডসোরের আইপিও লটারি আজ

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে চাঁদা গ্রহণ শেষে শেয়ার বরাদ্দের জন্য আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার বেঙ্গল উইন্ডসোর থার্মপ্লাস্টিক লিমিটেডের লটারি অনুষ্ঠিত হবে। কোম্পানির শেয়ার বিভাগের কর্মকর্তা ওয়াহিদুল ইসলাম শেয়ারনিউজ২৪.কমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, আজ সকাল ১০টায়, বুয়েট অডিটরিয়াম, ঢাকায় ড্র অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে গত ২৭ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা আইপিও আবেদন জমা দেন। আর প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য এ সুযোগ ছিল গত ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

প্রতিষ্ঠানটির আইপিওতে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে সাড়ে ১২ গুণ বেশি (টাকার অংকে) আবেদন জমা পড়ে। অর্থাৎ এ কোম্পানির আইপিওতে মোট জমা পড়েছে ৪৯৮ কোটি টাকার আবেদন (গত ৭ ফেব্রুয়ারি হিসাব অনুযায়ী)।  আর কোম্পানিটি বাজার থেকে সংগ্রহ করবে ৪০ কোটি টাকা। সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, এ কোম্পানির আইপিওতে মোট আবেদন জমা পড়েছে ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯০টি। টাকার পরিমাণে মোট ৪৯৮ কোটি ৯৩ লাখ ৩০ হাজার ৬২ টাকা। এর মধ্যে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আবেদন জমা পড়েছে ১৫ হাজার ৫০০টি। টাকার পরিমাণে জমা পড়েছে ৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

বেঙ্গল উইন্ডসোর শেয়ারবাজারে ১ কোটি ৬০ লাখ শেয়ার ছেড়ে ৪০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এ জন্য ১০ টাকা ফেস ভ্যালুর সঙ্গে ১৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির ইস্যূ ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

শেয়ারনিউজ২৪

আইপিও অনুমোদন পেতেই পদত্যাগ করেন ফ্যামিলি টেক্সের চেয়ারম্যান!

পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পেতেই পদত্যাগ করেন ফ্যামিলি টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের ফারুক। তিনি আরএন স্পিনিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক। রাইট শেয়ার কেলেঙ্কারীর দায়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সম্প্রতি তাকে আরএন স্পিনিং থেকে অপসারণ করে। এতো কিছুর পরও এ কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেয়ায় হতাশ বিনিয়োগকারী এবং বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বিএসইসি এ কোম্পানিকে গত ২২ জানুয়ারি আইপিওর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের অনুমতি দেয়। এমতাবস্থায় আইপিও প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো ধরণের ঝামেলা না হয় এজন্য আবদুল কাদের ফারুকসহ আরএন স্পিনিংয়ের সঙ্গে ইতিপূর্বে সম্পৃক্ত বিদেশী উদ্যেক্তারাও সরে দাঁড়ান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, আব্দুল কাদের ফারুক চেয়ারম্যান থাকাকালীন গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি আইপিও অনুমোদনের জন্য ফ্যামিলি টেক্সের প্রসপেক্টাস দাখিল করা হয়। এরপর একই বছরের ১০ অক্টোবর সংশোধিত প্রসপেক্টাসে তার পরিবর্তে রোকসানা মোরশেদকে চেয়ারম্যান দেখানো হয়। কিন্তু বর্তমানে এ কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন মেরাজ-ই-মোস্তফা।

প্রসঙ্গত, আরএন স্পিনিংয়ের রাইট শেয়ার কেলেঙ্কারীর ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় গত ৮ জানুয়ারি কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল কাদের ফারুককে অপসারণের নির্দেশ দেয় বিএসইসি।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আরএন স্পিনিংয়ের পরিচালকরা নিজ অংশের রাইট শেয়ার ক্রয়ের জন্য কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দিয়েছেন মর্মে ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করা। এ অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় কোম্পানি এবং তার বিরুদ্ধে গত ১০ অক্টোবর মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়। আর রাইট শেয়ার কেলেঙ্কারীতে জড়িত থাকায় ৮ জানুয়ারি আরএন স্পিনিংয়ের ৬ পরিচালককে ৩ কোটি টাকা জরিমানা করে বিএসইসি।

এদিকে আইপিও আবেদন পর্যালোচনা সংক্রান্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নিরপেক্ষ প্যানেলের এক কর্মকর্তা ফ্যামিলি টেক্সের বিষয়ে বলেন, মূলধনের তুলনায় এ কোম্পানির মুনাফার হার এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য অত্যন্ত কম। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে নতুন করে যেসব সাধারণ বিনিয়োগকারী যুক্ত হবেন কোম্পানিটি তাদের ভালো লভ্যাংশ দিতে পারবে কীনা তা নিয়ে প্যানেলের পর্যালোচনায় সন্দেহ পোষণ করা হয়।

৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত বছরে এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ছিল ১০৫ কোটি টাকা। কিন্তু ওই বছর কোম্পানির কর পরবর্তী মুনাফা ছিল মাত্র ৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা। ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) এখনো মাত্র ১১ টাকা ৮২ পয়সা।

জানতে চাইলে বিএসইসি’র শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, আরএন স্পিনিং এবং ফ্যামিলি টেক্স ভিন্ন কোম্পানি হওয়ায় এ বিষয়টি তারা বিবেচনায় নেননি।

তবে ফ্যামিলি টেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ মোরশেদ বলেন, কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল কাদের ফারুকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার যোগসাজোস নেই।

শেয়ারনিউজ২৪

আইপিও ও নগদ লভ্যাংশ পেতে ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ

প্রিমিয়ার সিমেন্ট, গোল্ডেন হারভেস্ট, ওরিয়ন ফার্মা ও সানলাইফ ইনস্যুরেন্সের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আবেদন করার জন্য চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) অন্যতম সদস্য বি-রিচ লিমিটেড থেকে দুই কোটি ২৬ লাখ টাকা তুলে নেয় বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই টাকা আর পুঁজিবাজারে ফিরে আসেনি।
বি-রিচ লিমিটেডের মতো ঢাকা ও চট্টগ্রাম পুঁজিবাজারের প্রায় সব ব্রোকারেজ হাউস থেকে প্রতিটি আইপিও বাজারে এলে এভাবেই বাজার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে শত শত কোটি টাকা। আর বাজারে সৃষ্টি করছে তারল্য সংকট।
এই সংকট এড়াতে সমপ্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের কাছে তিনটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন বি-রিচ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম। এই প্রস্তাবনার সঙ্গে একমত পোষণ করে আইপিও নীতিমালা পরিবর্তন ও নগদ লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসাইন।
প্রস্তাবনায় বলা হয়, অনেক কম্পানি লটারিতে আইপিও পেতে ব্যর্থ বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরৎ দিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি ব্যবহার করলেও অনলাইন পদ্ধতি চালু হয়নি এমন ব্যাংকের টাকা এখনো কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ফেরৎ দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যায়েই ঘটে যত বিপত্তি। কুরিয়ার সার্ভিসের গাফিলতি, কিংবা ঠিকানা ও চেকে অ্যাকাউন্টধারীর নামের বানান ভুল হলে সে ক্ষেত্রে ভোগান্তির সীমা থাকে না বিনিয়োগকারীদের। কিন্তু লাভবান হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কম্পানি এবং কুরিয়ার সার্ভিসগুলো।
এই সংকট নিরসনে ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে আইপিও ছাড়া গেলে বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব। নামমাত্র ফির বিনিময়ে বিনিয়োগকারীদের পক্ষে আইপিও ছেড়ে ব্রোকারেজ হাউসও লাভবান হবে আর বাজার থেকেও টাকা বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। আর ব্যাংকে লম্বা লাইন ধরে আইপিও জমা দেওয়ার বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাবে বিনিয়োগকারীরা।
সর্বশেষ কয়েকটি কম্পানির আইপিওর বিপরীতে অন্তত এক হাজার কোটি টাকার আবেদন জমা পড়ে। এই টাকার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আর বাজারে ফিরে আসে না। লটারির পর টাকা ফেরৎ দেওয়ার মধ্যবর্তী সময়ের কয়েক মাস এই বিপুল অঙ্কের টাকা কম্পানি ব্যাংকে স্বল্পসময়ের জন্য ফিক্সড ডিপোজিট করে রেখে লভ্যাংশ আদায় করে।
আরেকটি প্রস্তাবে বলা হয়, প্রতি লট আইপিওর মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ টাকা দিয়ে আবেদনের নিয়ম করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে লটারিতে বিজয়ীদের পরবর্তিতে বাকি টাকা পরিশোধের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে বিপুল অঙ্কের টাকা বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার যেমন সুযোগ থাকে না তেমনি বিনিয়োগকারীরা আরো বেশি করে আইপিও আবেদন করার সুযোগ পাবে।
সবচেয়ে বড় ভোগান্তি হয় নগদ লভ্যাংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে। গ্রামীণফোন, বার্জার পেইন্ট, সিঙ্গার বিডি, গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লিনের মতো বড় এবং বহুজাতিক কম্পানিগুলো সাধারণত প্রতিবছর বড় অঙ্কের নগদ লভ্যাংশ দিয়ে থাকে। বি-রিচ লিমিটেড পরিচালিত একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতিবছর দেশে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা নগদ লভ্যাংশ প্রদান করা হয়। কিন্তু এই টাকার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দাবিহীন (আনক্লেইম) অবস্থায় কম্পানির অ্যাকাউন্টে পড়ে থাকে।
শামসুল ইসলাম বলেন, ‘কম্পানিগুলো বোনাস শেয়ার বিও অ্যাকাউন্টে জমা দিলেও নগদ লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীর ঠিকানায় চেকের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়। কুরিয়ার সার্ভিসের গাফিলতির কারণে কিংবা চেকে নামের বানান ভুলের কারণে এই চেকের একটি বড় অংশই পরে আর ব্যাংকে জমা পড়ে না। আবার অনেক সময় নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ কম হওয়ায় অনেকেই এই টাকা তোলার প্রয়োজনবোধ করে না। কিন্তু বছর শেষে কম্পানি অডিটে এ ধরনের কোটি কোটি টাকা দাবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকে। যা পরে এক সময় কম্পানির অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়। এই টাকার একটি অংশও পুঁজিবাজারে আসে না। তিনি বলেন, ‘এই দুর্ভোগ এড়াতে বোনাস শেয়ারের মতো নগদ লভ্যাংশও বিনিয়োগকারীর বিও অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার প্রস্তাব করেছি বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে নগদ লভ্যাংশের একটি বড় অংশ স্টক মার্কেটেই থাকবে। এতে তারল্য সংকটও কিছুটা কমবে।’
এই প্রস্তাবনাগুলোর সঙ্গে একমত পোষণ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসাইন বলেন, ‘নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার বর্তমান পদ্ধতিতে ব্যাংক ও কুরিয়ার সার্ভিসগুলো ছাড়া আর কেউ লাভবান হচ্ছে না। বরং ব্রোকারেজ হাউসগুলোর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্টে জমা দিলে পরোক্ষভাবে বিএসইসিও লাভবান হবে। আইপিও আবেদনের ক্ষেত্রেও ব্রোকারেজ হাউসকে কিভাবে আরো সম্পৃক্ত করা যায় সে ব্যাপারে আইপিও ইস্যু রুলস-২০০৬ সংশোধনকালে সুবিবেচনা করা হবে।’

৮ মাসে ২ লাখ ২১ হাজার বিও হিসাব বেড়েছে

গত পাঁচ দিন ধরেই পুঁজিবাজারে টানা পতন ঘটলেও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি এবং প্রত্যাশিত মুনাফার আসায় বাজারে আবারও আসছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। গত ৮ মাসে পুঁজিবাজারে বেনিফিশারি ওনার্স হিসাব (বিও হিসাব) বেড়েছে প্রায় দু’ লাখ। গত জুন মাসে বিও নবায়ণ করায় তার সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২৩ লাখ। রবিবার পর্যন্ত এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ২১ হাজার ৩২৮টি। বাংলাদেশ সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ (সিডিবিএল) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
বর্তমানে বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা, অধিকাংশ কোম্পানিতে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ থাকা, সেই সঙ্গে বেশি বেশি আইপিওর অফার থাকায় এমনটি হয়েছে বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। গত জুন মাসে বিও এ্যাকাউন্ট নবায়ন না কারার কারণে ৬ লাখ বিও বাতিল হয়ে যায়। প্রতিনিয়তই কমতে থাকে বিওর সংখ্যা। এক পর্যায়ে তা কমতে কমতে ২৯ লাখ থেকে বিও নেমে আসে ২৩ লাখে। এর পর গত ৮ মাসের ব্যবধানে নতুন বিও বেড়েছে ২ লাখের বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিও খোলা হয় গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে। এই দুই মাসে বিও খোলা হয় ১ লাখ ২ হাজার। গত কয়েক মাসে বাজারে কয়েকটি কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের কারণে বিও বেড়েছে।
সিডিবিএল সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে বিও বেড়েছে প্রায় ৩২ হাজার। বর্তমানে বাজারে যে ২৫ লাখ বিও রয়েছে তার মধ্যে পুরুষ বিনিয়োগকারীর বিও রয়েছে ১৮ লাখ ৬৫ হাজার ২৮৪টি। অন্যদিকে নারী বিনিয়োগকারীর বিও সংখ্যা ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫৯৪টি। আর কোম্পানি বিও রয়েছে ৮ হাজার ৮৯৯টি। উল্লেখ্য, মোট বিওর মধ্যে প্রবাসীদের এ্যাকাউন্ট রয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯১৪টি।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি মোট বিও এ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৮৪ হাজার। সেই বছরের ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ লাখ ২০ হাজার ৩৯৮টিতে। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের বাজারে আসার খবরে বাড়ে ৪ লাখ বিও। ২০১০-এর মার্চে গিয়ে এর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ২৪৬ টিতে। পরবর্তীতে বাজার আরও ফুলে ওঠায় পুঁজিবাজারে নতুন মুখের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। এরপরে ২০১১ তে বিও সংখ্যা ৩৪ লাখ অতিক্রম করে। পরবর্তীতে বাজারে ধস নামলে ২০১১ সাল ৫ লাখ এবং ২০১২ সালে মোট ৬ লাখ বিও বাতিল হয়ে যায়। অর্থাৎ দুই বছরে প্রায় ২ লাখ বিও বাতিল হয়। এর পর সরকার এবং বাজার সংশ্লিষ্টদের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বাজারমুখী হতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। ফলে বিও সংখ্যা বাড়তে থাকে। বিষয়টি জানতে যোগাযোগ করা হলে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট মোঃ শাকিল রিজভী বলেন, দীর্ঘ মন্দা পরিস্থিতি মোকাবেলা করার পর বাজার কিছুটা হলে স্বাভাবিক হচ্ছে। আর সেই কারণেই বাজারের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। ফলে বাড়ছে বিও সংখ্যা। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে ভিন্নমত পোষণ করেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা বলেন, বিও বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়ার দরকার। অনেক হাউসে তা নেই বলে তারা অভিযোগ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য একটি ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তা জানান, আমাদের হাউসে জায়গা স্বল্পতাসহ অন্যান্য সমস্যা রয়েছে অনেক দিন থেকে। এ ব্যাপারে মালিককে কয়েকবার জানালেও এখন পর্যন্ত সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কোন উদ্যোগ তিনি নেননি। এত ছোট ঘরে বসে লেনদেন করতে আমাদেরও ভাল লাগে না। আমরা এখানে চাকরি করি। আমরা তো আর নীতিনির্ধারক নই। নিয়ম নীতি পাল্টাতে হলে মালিক পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। এর জন্য আর্থিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি তাদের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার।

 

দৈনিক জনকন্ঠ

ব্রোকারের মাধ্যমে আইপিও প্রক্রিয়া

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) অর্থ সংগ্রহ করা হবে বলে ঘোষণা করেন। তবে ইতিমধ্যে ২ বছর অতিবাহিত হলেও ঘোষণা বাস্তবায়নে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে ব্রোকারের মাধ্যমে আইপিও আবেদন প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময়েও আলোর মুখ দেখেনি।

বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি কমাতে এ উদ্যোগের কথা বলা হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রী আর কোনো পদক্ষেপ নেননি। ফলে স্বল্পতম সময়ে এবং স্বচ্ছভাবে আইপিও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয়নি। ওই বাজেটের পর আরোও একটি বাজেট শেষ হলেও বিষয়টি এখন পর্যন্ত বিএসইসি আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করেনি।

জানা যায়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির অনুমোদনের পর কোম্পানিগুলো আইপিও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গড়ে প্রায়  ৩ মাস সময় নিয়েছে। আর চাঁদা গ্রহণ সম্পন্ন করার পর রিফান্ড সম্পন্ন করতে আরো দেড় থেকে দুই মাস সময় নেয়া হয়। কোনো কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে এর থেকেও বেশি সময় নিতে দেখা গেছে। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং তদারকির অভাব থাকায় বিনিয়োগকারীদের বিপুল পরিমাণ টাকা কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে আটকে থাকে। আর ২০১১ ও ২০১২ অর্থবছরে একাধিক কোম্পানির আইপিও এবং রিফান্ডের ক্ষেত্রে এ রকম অভিযোগ ও প্রমাণ পায় তৎকালীন এসইসি। একটি কোম্পানি ও মার্চেণ্ট ব্যাংককে বিএসইসি শোকজ ও জরিমানাও করে। এরপর আইপিও প্রক্রিয়া নিয়ে ভিন্ন পরিকল্পনা নেয় কমিশন। প্রাক বাজেট আলোচনায় দুই স্টক এক্সচেঞ্জ এ ব্যাপারে সুপারিশও করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বিষয়টি বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করেন। কিন্তু নতুন কমিশন বিষয়টি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের অভিমত, এটা করা হলে কিছু স্বার্থানেষী মহলের সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। কোনো এক পক্ষের ইশারায় বিষয়টি আটকে রয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাবেক সভাপতি শেয়ারনিউজ২৪ডটকমকে বলেন, সিএসই ইতিপূর্বে সিকিউরিটিজ হাউসের মাধ্যমে আইপিও প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের ইতিবাচক বিষয়গুলো সর্ম্পকে কমিশনকে অবহিত করেছে। এটা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব বিএসইসি ও মার্চেন্ট ব্যাংকের। সিকিউরিটিজ হাউস এখানে ডিস্টিবিউটর হিসেবে কাজ করবে। এটা করা হলে ব্রোকারেজ  হাউস একটা চেকের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের টাকা জমা দিতে পারবে। রিফান্ড আসলেও স্বল্প সময়ে বিনিয়োগকারীরা পেয়ে যাবেন। আর সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো টাকা বেশিদিন মার্কেটের বাইরে আটকে থাকবে না।

তিনি আরো বলেন, আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিগুলো টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ব্যাংকে আটকিয়ে রাখে। এতে করে বাজারের তারল্য কিছুটা হলে কমে যায়। আর স্বল্পতম সময়ে এটা করা হলে বাজারের তারল্য প্রবাহ আটকে থাকবে না। বাজারের এ অবস্থায় এটা বাস্তাবায়ন করা হলে বাজারই উপকৃত হবে।

বাজার বিশ্লেষক আকতার হোসেন সান্নামাত শেয়ারনিউজ২৪ডটকমকে বলেন, ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে আইপিওর অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা সময়োপযোগী। শেয়ারবাজারের টাকা আইপিও প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন আটকে থাকার প্রবণতা এর মাধ্যমে কেটে যাবে। বাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এটা বাস্তবায়ন করা হলে তা হবে ইতিবাচক পদক্ষেপ।

শেয়ারনিউজ২৪

আইপিও অনুমোদনে বিএসইসিকে কঠোর হতে হবে- রকিবুর রহমান

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে কোনো কোম্পানিকে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন প্রদানের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) আরো কঠোর হওয়ার আহবান জানিয়েছেন ডিএসই’র প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান।সোমবার ডিএসই’র ওয়েবসাইটের বাংলা ভার্সন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

রকিবুর রহমান বিএসইসি’র প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কোম্পানির সকল তথ্য যাচাই করে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দিতে হবে। যাতে করে যেনতেন কোম্পানি বাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ না পায়।

অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। যেটা বাজারের স্বার্থে অব্যাহত রাখতে হবে। আর তা সম্ভব হলেই বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। আর বাজার স্থিতিশীল হলেই তারল্য সঙ্কট থাকবে না বলে জানান ডিএসই প্রেসিডেন্ট।

শেয়ারনিউজ২৪ডটকমের সঙ্গে আলাপকালে রকিবুর রহমান বলেন, অনেক কোম্পানি তালিকাভুক্তির আগে ভালো পারফরমেন্স দেখায়; কিন্তু পরে ধারাবাহিকতা থাকে না। এর পিছনে কারণ কি তা খুঁজে বের করা দরকার। আর এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা আছে কোম্পানির আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিএসইসি স্টক এক্সচেঞ্জের পরামর্শকে গুরুত্ব দেয় না। যে কারণে অনেক অযোগ্য কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের অর্থ লোপাট করেছে। তাই বাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং স্টক এক্সচেঞ্জকে সম্মিলিতভাবে পরামর্শ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

উল্লেখ্য, এপোলো ইস্পাতের আইপিও অনুমোদন নিয়ে এরই মধ্যে কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে বিএসইসিকে। তবে এক্ষেত্রে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ এপোলো ইস্পাতের কার্যক্রম ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল বিএসইসির কাছে।

ফ্যামিলিটেক্সের আইপিও আবেদন শুরু ৭ এপ্রিল

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পাওয়া ফ্যামিলিটেক্স (বিডি) লিমিটেডের চাঁদা উত্তোলন শুরু হবে আগামী ৭ এপ্রিল। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির আইপিওতে চাঁদা সংগ্রহ চলবে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যান্ত। তবে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য এ সুযোগ থাকছে আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজার ৩ কোটি ৪০ লাখ শেয়ার ছেড়ে ৩৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটি প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। ৫০০টি শেয়ার মার্কেট লট।

৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয় ০.৯২ টাকা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ (এনএভি) হয় ১১.৮২ টাকা।

আইপিওর মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে কোম্পানির ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে বেনকো ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

শেয়ারনিউজ২৪

আর্গনের ডেনিমসের লেনদেন ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের পর আর্গন ডেনিমসের লেনদেন আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, আর্গন ডেনিমসের ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়েছে ‘এন’, ডিএসই কোম্পানি কোড-১৭৪৫৬ এবং ডিএসই ট্রেডিং কোড হচ্ছে ‘এআরজিওএনডিইএনআইএম।’
এর আগে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন শেষে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে গত ২৬ নবেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের (এনআরবি) কাছ থেকে আবেদন জমা নেয়া হয় ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। গত ৩০ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানের আইপিও ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এ কোম্পানির আইপিওতে ৩০ কোটি টাকার বিপরীতে মোট ১৮৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকার আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ১৪৬ কোটি ৬৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা ২৪ কোটি ৭৯ লাখ ৫ হাজার টাকা, প্রবাসী বাংলাদেশীরা ১১ কোটি ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকাও মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকার আবেদন জমা পড়েছে। কোম্পানির আইপিওতে অভিহিত মূল্য (ফেস ভ্যালু) ১০ টাকার সঙ্গে প্রিমিয়াম নেয়া হয়েছে ২৫ টাকা। ২০০টি শেয়ারে মার্কেট লট নির্ধারণ করা হয়েছে। কোম্পানির আইপিওপূর্ব পরিশোধিত মূলধন ছিল ৩০ কোটি টাকা। আইপিও পরবর্তী পরিশোধিত মূলধন দাঁড়াবে ৬০ কোটি টাকা।

 

সূত্রঃ দৈনিক জনকন্ঠ