Monthly Archives: January 2013

অন্য আইপিও থেকে বঞ্চিত বিনিয়োগকারীরা

গ্লোবাল হেভী’ কেমিক্যাল কোম্পানির দায়সারা ভূমিকার কারণে অন্য কোম্পানির আইপিওতে আবেদন করতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। গত ১০ জানুয়ারি আইপিও লটারির পর দীর্ঘ ২০ দিন অতিবাহিত হলেও বিনিয়োগকারীরা রিফান্ডের টাকা না পাওয়া পরবর্তী আইপিওগুলোতে আবেদন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

এর আগে কোম্পানির শেয়ার বিভাগের কর্মকর্তা রূপম ৩০ জানুয়ারির মধ্যে (আজ) সব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।  কিন্তু বিনিয়োগকারীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জানা গেছে, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। আর এ কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের টাকা আটকে থাকায় তারা বেঙ্গল উইন্ডসোর থার্মোপ্লাস্টিকের আইপিওতে আবেদন করতে পারছেন না বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

বিনিয়োগকারী মো. আব্দুস সবুরের (বিও নং-১২০২৪১০০২৭০৯৫৫৫১) অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায়, আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের উত্তরা শাখায় যাদের ব্যাংক একাউন্ট তাদের একজনও এখনো গ্লোবাল হেভী’র রিফান্ড পাননি। বিনিয়োগকারী এনাম হোসেন (বিও নং-১২০২৩৯০০৩৩৭২২১৪৪ এবং ১২০২৩৯০০২১৪৯২৭৬৬), গাজীপুরের বিনিয়োগকারী রাসেল আহমেদ, চট্টগ্রামের বিনিয়োগকারী পুলকেশ সেনগুপ্তসহ আরো অসংখ্য বিনিয়োগকারী দীর্ঘ সময়েও গ্লোবাল হেভী’র রিফান্ড ওয়ারেন্ট না পেয়ে বেঙ্গল উইন্ডসোরের আইপিওতে আবেদন করতে পারছেন না বলে জানান।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার গ্লোবাল হেভী’র শেয়ার বিভাগের কর্মকর্তা রূপমের কাছে রিফান্ড প্রদানে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে তিনি এর দায়ভার চাপান বিনিয়োগকারী এবং ব্যাংকের উপর।

তার মতে, অন্য কোনো ব্যাংকের ক্ষেত্রে রিফান্ড প্রদানে কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু সমস্যা হয়েছে ডাচ বাংলা ব্যাংকের ক্ষেত্রে। বিনিয়োগকারীদের নাম কিংবা অন্য তথ্যের সঙ্গে একটি ডট কিংবা কোথাও একটু বেশি স্পেস থাকার কারণে রিফান্ডের টাকা কোম্পানিতে ফেরৎ দিয়েছে ডাচবাংলা ব্যাংক।

তিনি আরো বলেন, যেসব বিনিয়োগকারী এ ধরণের সমস্যায় পড়েছেন তাদের জন্য গ্লোবাল হেভী’র অফিসের পাশে কেন্দ্রীয় কচি কাঁচার মেলা ভবনের ৩য় তলা থেকে হাতে হাতে রিফান্ড বিতরণ করা হচ্ছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রিফান্ড বিতরণ করা হবে। এ সময়ের মধ্যেও কেউ যদি রিফান্ড সংগ্রহ করতে না পারেন তবে তারা পরবর্তীতে কোম্পানির অফিস থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।

কিন্তু ঢাকার বাইরে যারা থাকেন কিংবা যারা অন্য পেশায় নিয়োজিত তাদের পক্ষে হাতে হাতে রিফান্ড সংগ্রহ করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এছাড়া বাড়তি খরচও বহন করতে হবে তাদের। এর দায়ভার কে নেবে? এমন প্রশ্নের জবাবে রূপম বলেন, এখানে আমাদের কি করার আছে। আমরা তো ব্যাংকের মাধ্যমে রিফান্ড পাঠিয়েছিলাম। ব্যাংক থেকে ফেরত আসলে আমরা আর কি করতে পারি।

বিনিয়োগকারীরা কোম্পানি কর্তৃপক্ষের এমন যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের মতে, কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলে বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি হওয়ার কথা নয়। এছাড়া অনেক কোম্পানি ইচ্ছাকৃত রিফান্ডের টাকা আটকিয়ে রেখে অন্য ব্যবসা করে বলেও বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ।

এদিকে রিফান্ড বিলম্বের কারণে বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তির খবর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কানে তোলে না বলেও অভিযোগ বিনিয়োগকারীদের। অপরদিকে, লিখিত অভিযোগ দেয়া হলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বিএসইসি’র পক্ষ থেকে জানো হয়।

রাসেল আহমেদ, পুলকেশ গুপ্ত, এমদাদ হোসেনসহ অসংখ্য বিনিয়োগকারীর অভিযোগ, সম্প্রতি তালিকাভুক্ত হওয়া ১২টি কোম্পানির প্রায় প্রতিটিতে রিফান্ড জটিলতার খবর কারো অজানা নয়। এ ব্যাপারে বিএসইসিতে লিখিত অভিযোগ দিতে হবে কেন? আর অভিযোগ দিলেই যে তা আমলে নেয়া হয় এমন নজিরও দেখা যায়নি। তাই রিফান্ড জটিলতার ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা জরুরি বলে ভুক্তভোগীরা মনে করছেন।

লোকসানের অজুহাত থাকলেও আইপিওতে অর্থ ঘাটতি নেই ফান্ডগুলোর

মন্দা বাজারে মূলধন আটকে গেছে, এমন যুক্তি দেখিয়ে দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে বিনিয়োগ বিমুখ মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো। তবে আইপিও বাজারে অতিরিক্ত আবেদন প্রমান করে ফান্ডগুলোর হাতে বিনিয়োগের জন্য যথেষ্ট অর্থ রয়েছে। তারপরও কি কারণে ফান্ডগুলো বাজারের স্বার্থে অর্পিত দায়িত্ব পালন করছে না সে বিষয়টি এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

জানা যায়, সর্বশেষ গোল্ডেন হার্ভেস্টের আইপিওতে ১ লাখ ৬ হাজার ৭২টি আবেদনের বিপরীতে ৭৯ কোটি ৫৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা জমা পড়ে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত থেকে। যার মধ্যে ৯ হাজার ৫৮টি এলোটমেন্ট দেয়া হবে। এর আগে প্রিমিয়ার সিমেন্টের আইপিওতে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের কাছ থেকে ১২৭ কোটি ৩২ লাখ ৯৪ হাজার টাকার আবেদন জমা পড়েছিল।

একইভাবে জেনারেশন নেক্সটের বেলায় মিউচ্যুয়াল ফান্ডের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩০ লাখ শেয়ার। যার বিপরীতে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর কাছ থেকে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪০০টি আবেদন জমা পড়ে। টাকার অংকে যার পরিমান ১১৫ কোটি ৭০ লাখ।

আর্গন ডেনিমসের আইপিওতে বিভিন্ন মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকার আবেদন জমা দেয়।

সানলাইফের আইপিওতে ক্ষতিগ্রস্ত ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ক্যাটাগরি মিলিয়ে ১০ লাখ ৬০ হাজার ৪২৯টি আবেদনের সঙ্গে ৭৪৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা জমা পড়েছিল।

এছাড়া এনভয় টেক্সটাইলের আইপিওতে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩০ লাখ শেয়ার। ২০ টাকা প্রিমিয়ামসহ কোম্পানির এ পরিমান শেয়ারে আবেদন করতে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর লেগেছে কমপক্ষে ৯ কোটি টাকা।

সামিট পূর্বাঞ্চলের আইপিওতে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর জন্য বরাদ্দ ছিল ৩০ লাখ শেয়ার। ৩০ টাকা প্রিমিয়ামসহ এ কোম্পানিতে আবেদন করতে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর কমপক্ষে ১২ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী একটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড তাদের পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ আইপিও আবেদনের জন্য ব্যবহার করতে পারে। আর তা যে কোম্পানিতে আবেদন করা হবে সে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি হবে না।

বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৪১টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মোট পরিশোধিত মূলধন ৩ হাজার ২০৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর ১০ শতাংশ হচ্ছে ৩২০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত ফান্ডগুলো একটি কোম্পানির আইপিওতে এ পরিমান টাকার আবেদন করতে পারে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুধুমাত্র প্রিমিয়ার সিমেন্টের আইপিওতে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের পরিশোধিত মূলধনের প্রায় ৪ শতাংশ পরিমান টাকার আবেদন জমা পড়েছে। একই সময়ে একাধিক আইপিও থাকায় অন্যগুলোতে আবেদনের সক্ষমতা না থাকার কথা থাকলেও মিউচ্যুয়াল ফান্ড কোটায় অতিরিক্ত আবেদন পড়েছে। বরং অনেক কোম্পানির আইপিওতে শুধুমাত্র মিউচ্যুয়াল ফান্ডের জন্য লটারি হয়েছে। যা মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর কাছে যথেষ্ট বিনিয়োগযোগ্য তারল্য রয়েছে বলে প্রমান করে।

এদিকে এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পাগিুলো ফান্ডগুলোর সেকেন্ডারী মার্কেটে বিনিয়োগ না করার যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারেনি। একাধিক মিউচ্যুয়াল ফান্ডের এসেট ম্যানেমেন্ট কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে বিষয়টি তারা কৌশলে এড়িয়ে যান। কি কারণে ফান্ডগুলো শুধু আইপিও বাজারেই বিনিয়োগ সীমাবদ্ধ রেখেছে সে বিষয়েও তারা কথা বলতে রাজী হয়নি।

বাজারের স্বার্থে ফান্ডগুলোকে তালিকাভুক্ত করা হলেও ক্রান্তিকালে বাজারবিমুখ থাকাকে এসব প্রতিষ্ঠানের অপেশাদারিত্বের পরিচয় বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। মার্চেন্ট ব্যাংকার্সদের মতে, হাতে টাকা রেখেও ফান্ডগুলো বাজারে বিনিয়োগে ফিরছে না। একটি কোম্পানির আইপিওতে ১২৭ কোটি টাকার আবেদন তাই প্রমান করে। ফান্ডগুলো শুধু আইপিওতে বিনিয়োগের মাধ্যমেই তাদের ব্যবসা সবল রাখার চেষ্টা করছে। অথচ সঙ্কটের সময় বাজারকে সাপোর্ট দেবার জন্যই ফান্ডগুলোকে অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, গত ২০১০ সালের ধসে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগও আটকে যায়। ধস পরবর্তি মন্দায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মতো মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোও বিনিয়োগবিমুখ হয়ে পড়ে। আর কারণ হিসেবে এসেট ম্যানেজাররা বলতে থাকে ধসে তাদের অধিকাংশ মূলধন আটকে গেছে। তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তারা বিনিয়োগে ফিরতে পারছে না। টানা দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে চলেছে তাদের এ দোহাই। অথচ নতুন কোম্পানির আইপিও আবেদনের সময় ফান্ডগুলোর অতিরিক্ত আবেদনে অর্থের ঘাটতি হচ্ছে না।

বাজার সংশ্লিষ্টরা আরো বলেন, মূলত: সেকেন্ডারী মার্কেটে স্বল্প মুনাফার পাশাপাশি লোকসানের ভয় বেশি থাকার কারণেই ফান্ডগুলোর এ আচরণ হয়ে থাকতে পারে। অর্থাৎ বাজারে স্থিতিশীলতা না থাকার কারণে ফান্ডগুলো আইপিও বাজারের মাধ্যমে ব্যবসা করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সেকেন্ডারী মার্কেটে ক্রেতা না থাকলে আইপিও বাজারে ব্যবসা করার চিন্তা করা বোকামি। এতে আইপিও আবেদনে জয়ী হলেও বিক্রির জন্য ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই ফান্ডগুলোর উচিত হবে প্রাইমারী মার্কেটের পাশাপাশি সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ বাড়ানো। কারণ, বাজারে পর্যাপ্ত ক্রেতা বিক্রেতা থাকা মানেই বাজার স্থিতিশীল হয়ে উঠবে।

এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের প্রসপেক্টাস অনুমোদন

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাস অনুমোদন দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার কমিশনের ৪৬৬তম নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

সূত্র মতে, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আকার হবে ১০০ কোটি টাকা। প্রতিটি ১০ টাকা ফেস ভ্যালুর ১০ কোটি ইউনিট ছেড়ে ফান্ডটি বাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে উদ্যোক্তা অংশের ৫০ কোটি টাকা ইতিমধ্যে সংগৃহীত হয়েছে। অবশিষ্ট ৫০ কোটি টাকা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ ৪০ কোটি টাকা (ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ কোটাসহ), প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫ কোটি টাকা এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ডের জন্য ৫ কোটি টাকার সমপরিমান কোটা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফান্ডটির সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে রেস ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট কোম্পানি লিমিটেড।

লেনদেন বাড়াতে আইপিওর কোম্পানিগুলোকে দ্রুত বাজারে আনতে হবে

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়া শেষে অপেক্ষায় থাকা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত সেকেন্ডারি মার্কেটে আনা হলে লেনদেন পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এসব কোম্পানির আইপিওতে আবেদনের কারণে বাজারে কিছুটা হলেও তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়। এখন এসব কোম্পানির শেয়ার মূল বাজারে আসলে পর্যায়ক্রমে লেনদেন আবার বাড়তে শুরু করবে।

গত বছরের ৪ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ৭টি কোম্পানি বাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে ৬০২ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এখন বাজারে পর্যায়ক্রমে এসব কোম্পানির শেয়ার লেনদেন শুরু হলে টাকার অংকে দৈনিক লেনদেনের পরিমান বেড়ে যাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সেকেন্ডারি মার্কেটে আসার অপেক্ষায় রয়েছে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটি বাজার থেকে সংগ্রহ করেছে ১২ কোটি টাকা, সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ার সংগ্রহ করেছে ১২০ কোটি টাকা, আর্গন ডেনিমস ১০৫ কোটি টাকা, গ্লোবাল হেভী কেমিক্যাল লিমিটেড ২৪ কোটি টাকা, প্রিমিয়ার সিমেন্ট লিমিটেড ২৬ কোটি টাকা, গোল্ডেন হার্ভেষ্ট এগ্রো ইন্ডাষ্টিজ ৭৫ কোটি টাকা এবং ওরিয়ন ফার্মা ২৪০ কোটি টাকা সংগ্রহের কাজ শেষ করেছে। এ ৭টি কোম্পানি বাজার থেকে ৬০২ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। এছাড়া কোম্পানির আইপিওতে যারা বিজয়ী হতে পারেননি তাদের রিফান্ড ওয়ারেন্টের টাকা যার যার হিসাবে যেতে শুরু করেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ প্রিমিয়ামসহ আইপিও মার্কেটের টাকাগুলো সেকেন্ডারি মার্কেটে ফিরে আসলে লেনদেন খরা কমে যাবে। কারণ, উপরোক্ত কোম্পানিগুলোর আইপিওতে আবেদন করার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীদের বিপুল পরিমান অর্থ আটকে রয়েছে। সেই টাকাগুলো সেকেন্ডারি মার্কেটে ফেরৎ আসলে পুঁজিবাজারের বিদ্যমান অর্থাৎ তারল্য সমস্যা অনেকটা কেটে যাবে। এছাড়া নতুন কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক এবং বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীরা উদগ্রীব হয়ে থাকেন। তাই এসব কোম্পানির লেনদেন শুরু হলে বাজারে কিছুটা হলেও নগদ অর্থ প্রবেশ করবে।

তাদের মতে, বাজার দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক মন্দার কবলে রয়েছে। তবে এ মন্দা থেকে বের হতে হলে নতুন নতুন কোম্পানিকে বাজারে এনে মানি সাপ্লাই বাড়াতে হবে। এটা যেমন ঠিক, তেমনিভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেও বাজার ও বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষায় এক সঙ্গে একাধিক কোম্পানির তালিকাভুক্তির বিষয়ে যুযোপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এদিকে শেয়ারবাজার থেকে এখনও চাঁদা সংগ্রহের অপেক্ষায় রয়েছে বেঙ্গল উইন্ডসোর থার্মোপ্লাষ্টিক লিমিটেড ও এপোলো ইষ্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেড। কোম্পানি ২টি বাজার থেকে প্রিমিয়ামসহ ২৬০ কোটি টাকা তুলবে। বেঙ্গল উইন্ডসোর থার্মোপ্লাষ্টিক লিমিটেডের চাঁদা সংগ্রহ শুরু হবে ২৭ জানুয়ারি এবং চলবে ৩১ তারিখ পর্যন্ত। এপোলো ইষ্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেডের চাঁদা সংগ্রহ ৩ থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত চলবে। তবে সামনে ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন কোনো কোম্পানির আইপিও নেই।

রিফান্ড চেকে চার্জ কাটায় ক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা

পুঁজিবাজারের ক্রান্তিলগ্নেও বিনিয়োগকারীদের সম্মুখীন হতে হচ্ছে নতুন নতুন সমস্যার। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য এবার মড়ার উপর খারার ঘা হিসাবে দেখা দিয়েছে রিফান্ড চেকের চার্জ। রিফান্ডের টাকা নগদায়ন করতে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা কেটে রাখছে। চলতি বছর থেকে এ নিয়ম চালু করা হয়েছে বলে ব্যাংকগুলো বলছে।

বিনিয়োগকারীরা জানান, রিফান্ডের চেক প্রতি ৮ টাকা করে কাটা হচ্ছে। তবে ইসলামী ব্যাংক এবং ডাচবাংলা ব্যাংক সাড়ে ১১ টাকা করে কাটছে। আর ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে কিছু করার নাই বলে সাফ জানিয়ে দেয়া হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা এটা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এ নিয়ম চলবে বলে তারা বিনিয়োগকারীদের জানাচ্ছেন।

কোনো কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আবেদন করার পর আইপিওতে লটারি বিজয়ী না হলে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরৎ দেয়া হয়। যা রিফান্ড নামে পরিচিত। পূর্বে রিফান্ডের চেক নগদায়ন করলে কোনো চার্জ নিত না ব্যাংকগুলো। কিন্তু চলতি বছরের শুরু থেকে এতে ৮ শতাংশ চার্জ আরোপ করা হয়েছে। এ বিষয়টিকে বিনিয়োগকারীরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।

বিনিয়োগকারীরা জানান, এমনিতেই রিফান্ড পেতে বেশ সময় লাগে। এছাড়া অধিকাংশ কোম্পানি রিফান্ড দিতেও বিলম্ব করে। কোনো কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে রিফান্ড পেতে দেড় থেকে ২ মাস পর্যন্ত লেগে যায়। আর সেই টাকা ফেরত পেতে যদি উল্টো চার্জ পরিশোধ করতে হয় তবে তা বিনিয়োগকারীদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিনিয়োগকারীরা বলেন, যদি চার্জ কাটতেই হয় তাহলে যে কোম্পানিতে আবেদন করা হয় সেই কোম্পানি চার্জ বাবদ টাকা পরিশোধ করবে। কারণ, তারা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ইতিমধ্যে মূলধন সংগ্রহ করেছে। আর যদি শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে চার্জ কাটা হয় তবে আইপিওর প্রতি তাদের আগ্রহ একদিন কমে যাবে।

এদিকে সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে এ ধরণের চার্জ প্রত্যাহারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।

ফ্যামিলিটেক্সের আইপিও অনুমোদন

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ (বিএসইসি) কমিশন ফ্যামিলিটেক্স (বিডি) লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন করেছে। মঙ্গলবার বিএসইসির ৪৬৫তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো: সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে ৩ কোটি ৪০ লাখ শেয়ার ছেড়ে ৩৪ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। প্রিমিয়াম ছাড়াই প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা।

৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারপ্রতি আয় ০.৯২ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভি) ১১.৮২ টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে বেনকো ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

গোল্ডেন হার্ভেস্টের আইপিও ড্র শুরু

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের পর গোল্ডেন হার্ভেস্টের লটারির ড্র আজ ২৪ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায়, রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউটে শুরু হয়েছে।

গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির আইপিওতে আবেদন করা হয়। আর প্রবাসী বিনিয়োগাকরীদের জন্য এ সুযোগ ছিলো ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

প্রতিষ্ঠানটির আইপিওতে ৭৫ কোটি টাকার বিপরীতের মোট ৫৪২ কোটি ৪০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জমা পড়েছে। যা নির্ধারিত টাকার ৭.২৩ গুন বেশি। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৩৮১ কোটি ৭৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৫৫ কোটি ২৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা, প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২৫ কোটি ৭৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৭৯ কোটি ৫৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জমা পড়েছে। সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটি বাজারে ৩ কোটি শেয়ার ছেড়েছে।

এর আগে প্রতিষ্ঠানটির আইপিওতে ৬ লাখ ৬১ হাজার ৯২০টি আবেদন জমা বিপরীতে ৫০৫ কোটি ৬৯ লাখ ২০ হাজার টাকা জমা পড়ার কথা বলা হয়েছে। তবে মঙ্গলবার সিএসইর ওয়েবসাইটে চূড়ান্তভাবে টাকা জমার পরিমাণ জানানো হলেও আবেদনের সংখ্যা দেয়া হয়নি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ১০ টাকা ফেস ভ্যালুর বিপরীতে ১৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণ করে ২৫ টাকা। এর মার্কেট লট নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০টি শেয়ারে।

৩০ জুন ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৪.৭২ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভি) ২৫.৫৩ টাকা।

আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত টাকা দিয়ে কোম্পানিটি দেশেই উন্নত মানের আইসক্রিম উৎপাদন করবে। এছাড়া সারাদেশে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করবে।

প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে বেনকো ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং কো-ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে রয়েল গ্রিন ক্যাপিটাল মার্কেট লিমিটেড।

Source: sharenews24.com

আইপিওর ৩ শতাংশ কর মওকুফের সিদ্ধান্ত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির অনুমোদন পাওয়া কোম্পানির প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) ওপর থেকে ৩ শতাংশ কর মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী জুন থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে ক্যাপিটাল মার্কেট ভেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-২ (সিএমডিপি-২) এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যলোচনার জন্য অনুষ্ঠিত অর্থমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত গত ১৬ জানুয়ারী সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।