Monthly Archives: October 2012

চাঁদা সংগ্রহের অনুমতি পেল তিন কোম্পানি, আরও দুটি কোম্পানির আইপিও অনুমোদন

নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য নতুন তিনটি কোম্পানিকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর চাঁদা সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছে।
কোম্পানি তিনটি হলো এনভয় টেক্সটাইল, সামিট পূর্বাঞ্চল ও আরগন ডেনিমস। গতকাল বুধবার কমিশনের নিয়মিত এক সভায় এই অনুমতি দেওয়া হয়। কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কমিশন ইতিপূর্বে কোম্পানি তিনটির আইপিও প্রস্তাব অনুমোদন করলেও সেই সময় বাজার পরিস্থিতি খারাপ থাকায় তারা চাঁদা গ্রহণের তারিখ স্থগিত করার আবেদন জানায়। এসইসি ওই আবেদন অনুমোদন করে। গতকাল নতুন করে এসব কোম্পানিকে চাঁদা গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে সামিট পূর্বাঞ্চল ও আরগন ডেনিমসের শেয়ারের আগের অনুমোদিত বিক্রয়মূল্য কমিয়েছে কমিশন। এর কারণ হিসেবে কমিশন বাজারের সার্বিক অবস্থার কথা উল্লেখ করেছে।
কমিশনের নতুন সিদ্ধান্তে সামিট পূর্বাঞ্চলের নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ টাকা। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের (ফেসভ্যালু) সঙ্গে ৩০ টাকা অধিমূল্য বা প্রিমিয়াম যোগ করে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি বিক্রয়মূল্য কমেছে পাঁচ টাকা।
এর আগে কমিশন কোম্পানিটির শেয়ারের অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ৩৫ টাকা অধিমূল্য যোগ করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেছিল ৪৫ টাকা। কোম্পানিটি আগামী ১১ নভেম্বর থেকে নতুন নির্ধারিত মূল্যে আইপিওর চাঁদা সংগ্রহ শুরু করবে।
এ ছাড়া আরগন ডেনিমসের আগের বিক্রয়মূল্য ৪৪ থেকে কমিয়ে ৩৫ টাকায় নামিয়ে এনেছে এসইসি। আগেরবার কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি ৩৪ টাকা অধিমূল্য নির্ধারণ করা হলেও গতকাল তা ২৫ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।
এর ফলে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি বিক্রয়মূল্য নয় টাকা কমে গেল। কোম্পানিটি আগামী ১৮ নভেম্বর থেকে আইপিওর চাঁদা সংগ্রহ শুরু করবে বলে এসইসি জানিয়েছে।
এনভয় টেক্সটাইলের ইতিপূর্বে অনুমোদিত বিক্রয়মূল্যই বহাল থাকবে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য নতুন দুটি কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও আবেদন অনুমোদন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
কোম্পানি দুটি হলো গোল্ডেন হারভেস্ট অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিক লিমিটেড।
এসইসির এক সভায় গতকাল বুধবার কোম্পানি দুটির আইপিও প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গোল্ডেন হারভেস্ট তিন কোটি শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের (ফেসভ্যালু) সঙ্গে ১৫ টাকা অধিমূল্য বা প্রিমিয়াম যোগ করে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ টাকা। স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে (ফিক্সড প্রাইস মেথড) এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারের ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে রয়েছে বেনকো ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ও রয়েল গ্রিন ক্যাপিটাল মার্কেট লিমিটেড।
এসইসি আরও জানিয়েছে, কোম্পানিটি আইপিও আবেদনের সঙ্গে যে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, তাতে ২০১১ সালের জুন মাসে সমাপ্ত আর্থিক বছরে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস দেখানো হয়েছে চার টাকা ৭২ পয়সা। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদমূল্য বা এনএভি দেখানো হয়েছে ২৫ টাকা ৫৩ পয়সা।
অন্যদিকে বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিক আইপিওর মাধ্যমে এক কোটি ৬০ লাখ শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ৪০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ১৫ টাকা অধিমূল্য যোগ করে এই কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ টাকা। স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে এসইসি জানিয়েছে।
এসইসি আরও জানায়, এই কোম্পানির শেয়ারের ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে রয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট। ২০১১ সালের জুনে সমাপ্ত আর্থিক বছরে কোম্পানিটির ইপিএস দেখানো হয়েছে তিন টাকা ৬২ পয়সা। একই সময়ে কোম্পানিটির এনএভি দেখানো হয় ১৯ টাকা ৪৫ পয়সা।
এ ছাড়া কমিশনের গতকালের সভায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য প্রতিষ্ঠান পিএফআই সিকিউরিটিজকে সতর্কপত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গের জন্য এই সতর্কপত্র দেওয়া হবে বলে এসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সূত্র: প্রথম আলো, ১০ অক্টোবর ২০১২

আইপিও’র অর্থ ব্যবহারের তথ্য জানাতে দুই কোম্পানিকে এসইসি’র চিঠি

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চেয়ে সদ্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।

একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন অর্থ খরচের তথ্য জানানো হয়নি তাও জানতে চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বৃহস্পতিবার এসইসির পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে এসইসি সূত্রে জানা যায়।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি সায়হাম কটন মিলস লিমিটেড ও খাদ্য খাতের কোম্পানি রংপুর ডেইরী অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস লিমিটেডের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

সায়হাম কটনের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ কিভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে তা এসইসিকে জানানোর বিধান রয়েছে। উত্তোলিত ওই অর্থ সম্পূর্ন ব্যবহার না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাস শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এসইসিকে জানাতে হবে। কিন্তু সাহয়াম কটন সময়মতো এসইসিকে তথ্য জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। এসইসির চিঠি প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে কেন ওই তথ্য জানানো হয়নি তার ব্যাখ্যা জানাতে সায়হাম কটনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রংপুর ডেইরিকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস লিমিটেডের আইপিওর মাধ্যমের উত্তোলিত ২৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকার মধ্যে এক কোটি ৮৩ লাখ টাকা অব্যবহ্রত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এই অর্থ সম্পর্কিত তথ্য এসইসিকে জানাতে বিলম্ব করেছে। আর তাই চিঠি প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে এই বিলম্বের কারণ জানাতে বলা হয়েছে চিঠিতে।

প্রসঙ্গত, আইপিও’র মাধ্যমে সায়হাম কটন মিলস লিমিটে পুঁজিবাজার থেকে ৪ কোটি ৭৫ লাখ সাধারণ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ৯৫ কোটি টাকা উত্তোলন করে।

আর রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস লিমিটেড আইপিও’র মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানটি এক কোটি ৬৩ লাখ সাধারণ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে মোট ২৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন করে।

সূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, অক্টোবর ০৫, ২০১২

জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনের আইপিওতে ১৭ গুণ আবেদন

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন লিমিটেডের শেয়ার বরাদ্দ পাওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীরা মোট ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮৪টি আবেদন করেছেন। এরমধ্যে স্থানীয় ব্যক্তি বিনিয়োগকারী ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড কোটায় মোট ৭ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৪টি এবং প্রবাসী বিনিয়োগকারী কোটায় ২২ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনের সঙ্গে ৫০৬ কোটি ৭০ লাখ ৫৯ হাজার টাকা জমা পড়েছে যা কোম্পানির আইপিও মূল্যের চেয়ে প্রায় ১৭ গুণ বেশি। কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে এই পরিসংখ্যান দেয়া হয়েছে।

পুঁজিবাজারে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে কোম্পানিটি মোট ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করছে। এরমধ্যে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ লাখ এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ডের জন্য ৩০ লাখ শেয়ার বরাদ্দ করা হবে। বাকি ২ কোটি ৪০ লাখ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ দেয়া হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারী ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড কোটায় শেয়ারের জন্য সর্বমোট ৭ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৪টি আবেদন জমা পড়েছে। এই দুই ক্যাটাগরিতে জমা হওয়া অর্থের পরিমান ৪৯৫ কোটি ৭০ লাখ ৫৯ হাজার হাজার টাকা। আর প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২২ হাজার আবেদনের সঙ্গে ১১ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন। তিন ক্যাটাগরি মিলিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে মাত্র ৬০ হাজার জন এই কোম্পানির শেয়ার বরাদ্দ পাবেন।

পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন গত ৩১ জুলাই সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) অনুমোদন লাভ করে। কোম্পানির বর্তমান অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৮৭ কোটি ১৬ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। আইপিও প্রক্রিয়া শেষে পরিশোধিত মূলধন ১১৭ কোটি ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত হবে। আইপিও বিবরণী (প্রসপেক্টাস) তথ্য অনুযায়ী ২০১১ সালে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২ টাকা ৯ পয়সা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ছিল ২২ টাকা ৬৪ পয়সা।

সূত্র: শেয়ারনিউজ২৪.কম, ২ অক্টোবর ২০১২