Monthly Archives: July 2012

SEC halts Envoy Textiles’ public subscription

The securities regulator Sunday postponed the public subscription of Envoy Textiles for the time being, considering the present situation where investors are ‘concerned’ about new IPOs due to declining trend in the market.

The decision was taken at an urgent meeting, chaired by the Securities and Exchange Commission (SEC) Chairman Professor M Khairul Hossain.

The SEC Executive Director and its spokesperson Mohammad Saifur Rahman said the regulator took the decision of postponing the public subscription of Envoy Textiles following an application of the company.

The SEC approved the IPO (initial public offering) of Envoy Textiles on July 05, 2012, and its public subscription was supposed to take place from July 29 to August 02.

Earlier, on July 10, the securities regulator also postponed the public subscription of Summit Purbanchol Power on the same ground.

Meanwhile, after adding more than 175 points in the last two sessions, the general index of the Dhaka Stock Exchange, DGEN, lost 163.81 points Sunday, as the investors went for panicked sale ahead of forthcoming monetary policy.

The market analysts said after two days’ support, the institutional investors became inactive again, while the retail investors went for panicked sale ahead of forthcoming tight monetary policy and sensing no immediate solution to the ongoing liquidity shortage.

“Speculating no tangible impact on the government-backed institutional support, the investors went for panicked sale,” commented a stock broker.

Meanwhile, a section of investors numbering 20-30 demonstrated in front of the DSE building from 2:20pm to 3pm within the police barricade in protest against the free fall in share prices.

They also chanted slogans against SEC Chairman Prof M Khairul Hossain, DSE President Rakibur Rahman, Bangladesh Bank Governor Atiur Rahman, Finance Minister AMA Muhith and Salman F Rahman.

The day’s session started with heavy sale pressure, which continued until the end of the session with no sign of reversal and finally ended 163 points lower.

The benchmark general index of the Dhaka Stock Exchange, DGEN plunged 163.81 points or 3.93 per cent to close at 4,001.14.

The broader All Shares Price Index (DSI) went down 142.38 points or 4.02 per cent to 3,391.14. The DSE-20 Index comprising blue chips also lost 72.03 points or 2.17 per cent to close at 3,244.31.

Mr Akter H Sannamat, managing director and chief executive officer of Union Capital, said the market gained in the last two sessions thanks to institutional support. But, the institutions again became inactive which put negative impact on the market.

Source: The Financial Express, 16 July 2012

HC questions SEC’s consent to Unique Hotel IPO

A ‘consent’ accorded by SEC to Unique Hotel and Resorts Ltd, owner of The Westin Dhaka, for issuing IPO has been challenged in the High Court alleging that the approval was given negligently and without following necessary rules, sources said.

Following the letter of consent, Unique Hotel already started trading of its shares in country’s twin bourses since July 2, 2012.

Failure of discharging statutory duties in regulating pre-IPO placement and protecting investors’ interests was also brought against the stock market regulator in a writ petition filed with the High Court (HC) recently.

In the writ petition, a top executive of Pubali Bank Ltd alleged that the bank suffered a loss of approximately Tk 42.5 million due to buying Unique Hotel’s pre-IPO placement shares relying on the consent, which was accorded by SEC ‘negligently’ and in ‘undue haste’.

Upon the state-owned commercial bank’s writ petition, an HC bench has already asked the Securities and Exchange Commission (SEC) to show cause as to why the consent should not be declared illegal, lawyers concerned told the FE.

The HC also wanted to know as to why direction should not be given to the SEC to direct Unique Hotel and its issue manager ICB Capital Management Ltd to buy back the pre-IPO placement shares from Pubali Bank at the placement price of Tk 160 each with interest till date.

SEC, Unique Hotel and ICB Capital Management were asked to reply within six weeks, half of the time has already passed, according to the HC order.

Barrister Akhtar Imam assisted by Barrister Rashna Imam and Barrister Reshad Imam appeared for Pubali Bank while deputy attorney general Md Al Amin stood for the respondents.

Allegations of a gross-negligence, violation of rule 3 of the SEC Issue of Capital Rules 2001 and malafide motive were also brought against the SEC in giving the con sent to the owner of the five-star hotel.

SEC issued the ‘letter of consent’ to Unique Hotel to raise paid-up capital from Tk 2000 million to Tk 2300 million by issuing 30 million ordinary shares of Tk 10 each on May 23, 2010, after seven days of the application.

Relying on the consent, Pubali Bank acquired pre-IPO placement of 0.5 million shares at Tk 160 each (including premium of Tk 150), totaling Tk 80 million. Thus, Unique Hotel raised the entire amount of Tk 300 million, for which the consent was given.

After road show on September 1, 2010, an abnormally high indicative price of Tk 185 per share was fixed, the petitioner said.

Bidding by institutional investors for price discovery was set for taking place from February 6 to 8, 2011 under book-building method. In the meantime on January 20, 2011, SEC suspended the method but didn’t give any guidance to the bidding, which was about to be held. Subsequently, Unique Hotel also postponed its bidding.

In view of uncertainty, the bank on March 1, 2011 requested SEC to direct Unique Hotel to either refund its investment or buy back the pre-IPO placement shares. The bank later requested Unique Hotel three times to refund its investment. But none of them responded.

However, Unique Hotel obtained approval from SEC for IPO of 2,6 million ordinary shares at Tk 75 each (including premium of Tk 65) determined by fixed-price method. The public issue was completed and closed on April 19, 2012.

As the final issue price of the shares is much lower than the price paid by Pubali Bank for the same shares at the stage of pre-IPO placement, the bank suffered the huge loss. Thereafter, the bank went to the HC on June 17.

Source: The Financial Express, 16 July 2012

এনভয় টেক্সটাইলে আইপিও’র চাঁদা সংগ্রহ স্থগিত

পুঁজিবাজারে মন্দাবস্থার কারণে এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) চাঁদা সংগ্রহের তারিখ আপাতত স্থগিত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। রবিবার কমিশনের ৪৩৯তম জরুরী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। জানা গেছে, পুঁজিবাজারের সেকেন্ডারি মার্কেটের মন্দার কারণে সেকেন্ডারি মার্কেটে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো ইস্যুমূল্য ধরে রাখতে পারছে না। সেকেন্ডারি মার্কেটে মন্দা বিরাজ করার কারণে প্রতিষ্ঠানের শেয়ার আন্ডার সাবক্রাইব হতে পারে এমন আশঙ্কায় এনভয় টেক্সটাইসের পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আপাতত প্রতিষ্ঠানটির আইপিও’র চাঁদা সংগ্রহের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার আবেদন জানায়। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে এসইসি জরুরী বৈঠক ডেকে কোম্পানির আইপিও’র চাঁদা সংগ্রহের তারিখ আপাতত স্থগিত ঘোষণা করে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের চাঁদা সংগ্রহের নতুন তারিখ অবহিত করবে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে লংকা বাংলা ইনভেস্টমেন্ট এবং আইসিবি ক্যাপিটাল মানেজমেন্ট হিসেবে কাজ করছে।
এর আগে এসইসি’র ৪৩৫তম কমিশন সভায় এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেডের আইপিও অনুমোদন দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। চলতি মাসের ২৯ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত এনভয় টেক্সটাইলসের আইপিও’র চাঁদা সংগ্রহের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। আর প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৯ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত আইপিও’র চাঁদা সংগ্রহের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। প্রসপ্রেক্টাস অনুযায়ী শেয়ারবাজারে ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে ৯০ কোটি টাকা উত্তোলন করার কথা। এ ক্ষেত্রে ১০ টাকা মূল্যের প্রতিটি শেয়ার ২০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। উত্তোলন করা টাকা মেশিনারিজ ক্রয়, চলতি মূলধন এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে। ২০১০-১১ অর্থবছরের আর্থিক নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের বেসিক শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৪.৪২ টাকা।

সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ, ১৬ জুলাই ২০১২

ইউনিক হোটেলের প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়ে আইনী জটিলতায় এসইসি

ইউনিক হোটেল এ্যান্ড রিসোর্টের প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়ে আবারও আইনী জটিলতায় পড়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। বাজারে তালিকাভুক্ত একমাত্র পাঁচ তারকা হোটেলের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের আগে উচ্চ হারে প্লেসমেন্ট নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা আদালতের যাওয়ার পরে এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
আদালতে রিটে গত ২ জুলাই থেকে লেনদেন শুরু করা কোম্পানি আইপিও প্রক্রিয়ার যথাযথভাবে না মানা এবং এসইসির বিরুদ্ধে অবেহলার অভিযোগও আনা হয়েছে। গত ১৭ জুন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরুদ্ধে আইপিও’র আগে প্লেসমেন্টধারী বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে এই রিট আবেদন করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক পূবালী ব্যাংক লমিটেডের উর্ধতন কতর্ৃৃপক্ষ আদালতে অভিযোগ করেছেন, প্রতিষ্ঠানটি এসইসির অবহেলায় ইউনিক হোটেলের প্লেসমেন্ট শেয়ার কিনে ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা ক্ষতির শিকার হয়েছে। ব্যাংকের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে এসইসিকে ইউনিক হোটেলের আইপিও অনুমোদনের বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলেছে। আদালত এও বলেছে, কেন ইউনিক হোটেল এবং ইস্যু ম্যানেজার আইসিবি ক্যাপিটালকে পূবালী ব্যাংকের এই শেয়ার ১৬০ টাকা বাই ব্যাক করতে নির্দেশনা জারি করবে না? এছাড়া এসইসি, আইসিবি এবং ইউনিক হোটলকে এই বিষয়ে জবাব পাঠাতে ছয় সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছে, যার অর্ধেক সময় ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে। আদালতে পূবালী ব্যাংকের পক্ষে ব্যারিস্টার আকতার ইমাম, ব্যারিস্টার রেশমা ইমাম ও রাশেদ ইমাম এবং রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী এ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ আল আমিন শুনানিতে অংশ নেন।
আদালতে এসইসির বিরুদ্ধে ক্যাপিটাল রুলসের ৩ ধারা এবং সার্বিক পর্যায়ে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়। এর আগে ২০১০ সালে আবেদনের সাত দিনের মধ্যে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে শেয়ার ছেড়ে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর অনুমতি দেয়। কোম্পানির শেয়ার ছেড়ে পরিশোধিত মূলধন ২০০ কোটি থেকে ২৩০ কোটিতে উন্নীত করার আবেদন করে। এরই প্রেক্ষিতে পূবালী ব্যাংক লিমিটেড আইপিও’র আগে ৫ লাখ শেয়ার ১৬০ টাকার কেনে। যার প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫০ টাকা। উচ্চহারে প্রিমিয়াম নিয়ে ব্যাংক মোট ৮ কোটি টাকার প্লেসমেন্ট নেয়।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে রোড শোর পরে কোম্পানির নির্দেশক মূল্য নির্ধারিত হয় ১৮৫ টাকা। ২০১১ সালের ৬ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি বুক বিল্ডিং আইনের আওতায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বিডিং প্রক্রিয়ায় এই দর নির্ধারণ করে। ২০১১ সালের ২০ জানুয়ারি এসইসি বুক বিল্ডিং আইন বাতিল করলেও ইতোমধ্যে যে সমস্ত কোম্পানি বিডিং প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে সে সম্বন্ধে কিছুই বলেনি। হোটেলও বিডিং বন্ধ ঘোষণা করে। ২০১১ সালের ১ মার্চ ব্যাংক এসইসিকে তার বিনিয়োগ রিফান্ড বা প্লেসমেন্ট শেয়ার পুনরায় ক্রয় করতে বলে। কিন্তু কেউই তাতে সাড়া দেয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এরপরে এসইসি হোটেলটি এসইসির কাছ থেকে ৭৫ টাকা দরে ২ কোটি ৬ লাখ সাধারণ শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন লাভ করে। ফিক্সড প্রাইজ আইনে যার প্রক্রিয়া গত ১৯ এপ্রিল শেষ হয়েছে। হোটেলের শেয়ারের দাম এখন আগের চেয়ে অনেক কমে যাওয়ায় পূবালী ব্যাংক ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফিনিক্স সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কাদের চৌধুরী বলেন, পূবালী ব্যাংকের আদালতের যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক। নায্য দাবির জন্য তারা আদালতে যেতেই পারে।

সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ, ১৬ জুলাই ২০১২

সামিট পূর্বাঞ্চলের আইপিওর চাঁদা গ্রহণ স্থগিত

সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের চাঁদা গ্রহণের তারিখ আপাতত (আইপিও) স্থগিত করেছে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। মঙ্গলবার এসইসির ৪৩৮তম কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরে চাঁদা গ্রহণের নতুন তারিখ ঘোষণা করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোঃ সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পুঁজিবাজারের মন্দাবস্থার কারণে কোম্পানি বাজারে আসতে চায়নি। যার ফলে কোম্পানির পক্ষ থেকে এসইসির কাছে আইপিও স্থগিত করার জন্য আবেদন করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এসইসি আইপিও স্থগিত করে। কোম্পানি এরই মধ্যে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সাথে ৩৫ টাকা প্রিমিয়ামে মোট ৪৫ টাকায় আইপিওতে আসার অনুমতি পেয়েছিল। কোম্পানির আইপিও আবেদন গ্রহণের জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। কোম্পানি বাজারে ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে ১৩৫ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমতি ছিল এসইসির। এছাড়া ১০০টি শেয়ারে ১টি লট নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ, ১১ জুলাই ২০১২

প্রাইমারি মার্কেটেও মন্দার প্রভাব

উচ্চ প্রিমিয়ামে আইপিওর শেয়ারে লোকসান

পুঁজিবাজারের সেকেন্ডারি মার্কেটে চলমান মন্দার প্রভাব পড়েছে প্রাইমারি মার্কেটেও। সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেন হওয়া কয়েকটি কম্পানির শেয়ারের দর গত কয়েক দিনে প্রাথমিক বাজারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) জন্য ধার্য করা মূল্যেরও নিচে বা কাছাকাছি চলে আসায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম ধার্য করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিমত। এ জন্য প্রিমিয়াম নির্ধারণে এসইসিকে আরো সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। ফেসভ্যালুতে দর নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে।
দুই বছর আগেও আইপিও ছিল সোনার হরিণ। আইপিওতে একটি লট পাওয়া মানেই ছিল বিনিয়োগের কয়েক গুণ মুনাফা। কিন্তু দিন বদলে গেছে। আইপিও আবেদনে বিনিয়োগকারীদের সেই উদ্দীপনা আর দেখা যায় না। আইপিও আবেদনকারী বিনিয়োগকারীদের ভিড় দেখা যায় না ব্যাংকের লাইনে। ফলে আইপিও পাওয়া এখন অনেক সহজ হলেও তা থেকে মুনাফা পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্যই হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি বাজারে আসা কয়েকটি শেয়ার এমন বার্তাই দিল বিনিয়োগকারীদের।
গত কয়েক মাসে প্রিমিয়ামসহ বাজারে এসেছে আমরা টেকনোলজিস লিমিটেড, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড, সায়হাম কটন মিলস লিমিটেড, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কম্পানি লিমিটেড এবং জিবিবি পাওয়ার লিমিটেড।
১৪ টাকা প্রিমিয়ামসহ ২৪ টাকা ইস্যু মূল্যের আমরা টেকনোলজিসের লেনদেন শুরু হয়েছে গত ৪ জুন। প্রতিটি শেয়ার গতকাল রবিবার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ২৪ টাকা দরে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ২৩ টাকা ৮০ পয়সা দরে লেনদেন হয়।
এদিকে ৬৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৭৫ টাকার ইউনিক হোটেলের শেয়ারের লেনদেন শুরু হয় ২ জুন থেকে। প্রথম দিন ৭৮ টাকা দরে লেনদেন হয়। পরের দুদিন দর কমে ইস্যু মূল্যের কাছাকাছি চলে আসে। গতকাল রবিবার সর্বশেষ লেনদেন শেষ হয় ৭৭ টাকা ৮০ পয়সায়। গত ২৪ জুন সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেন শুরু হয়েছে সায়হাম কটনের। শুরুর দিন থেকে ২০ টাকা ইস্যু মূল্যের কমে বিক্রি হয় এর শেয়ার। গতকাল রবিবার ইস্যু মূল্যের নিচে লেনদেন হয়েছে সায়হাম কটনের শেয়ার। এদিন এই শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয় ১৮ টাকা ৫০ পয়সা।
বিদ্যুৎ খাতের কম্পানি জিবিবি পাওয়ারের শেয়ারেও লোকসান গুনছেন বিনিয়োগকারীরা। ৪০ টাকা ইস্যু প্রাইসের এ শেয়ারের লেনদেন শুরু হয় গত ১৩ জুন থেকে। শুরুর দিনে ৪৩ টাকা দরে লেনদেন হয়। ২০ জুন লেনদেন হয়েছে ৩৪ টাকা ৩০ পয়সায়। গতকাল রবিবার জিবিবির লেনদেন হয়েছে ৩৮ টাকা ৮০ পয়সা দরে। এর আগে সরকারি শেয়ার বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ৪০০ টাকা প্রিমিয়ামযুক্ত ৫০০ টাকার আরপিওতে আবেদনের পর শেয়ার বরাদ্দ পেয়ে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার বিনিয়োগকারী। গতকাল রবিবার এর শেয়ারের লেনদেন হয়েছে ২৫৩ টাকা দরে।
আইপিওর শেয়ারে লোকসান হওয়া বা কাঙ্ক্ষিত মুনাফা না হওয়ার পেছনে এসইসির কর্মকর্তারা সেকেন্ডারি মার্কেটের মন্দা পরিস্থিতির প্রভাবকে দায়ী করেছেন। তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা উচ্চ প্রিমিয়ামকেই দায়ী করছেন। তাঁদের মতে, প্রিআইপিও শেয়ারের প্রাইভেট প্লেসমেন্ট কেনা বড় বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি আংশিক পুষিয়ে দিতেই কম্পানিগুলোকে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে এসইসি। বড়দের বাঁচাতে গিয়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে এসইসি।
পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ওসমান ইমাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ইউনিক হোটেল ও সাব মেরিন কেবলসের শেয়ার আইপিওতে আন্ডারসাবসক্রাইবড (অবিক্রীত) হয়েছে। এর প্রভাব সেকেন্ডারি মার্কেটে পড়েছে। এর জন্য উচ্চ প্রিমিয়াম নির্ধারণ দায়ী হতে পারে। তিনি বলেন, মন্দাবাজারে যেকোনো কম্পানির আইপিওর প্রিমিয়াম নির্ধারণের আগে এসইসিকে আরো বেশি সতর্ক হতে হবে। নইলে প্রাইমারি মার্কেটের ধস শুরু হলে সেকেন্ডারি মার্কেটের পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।
ডিএসইর সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, বাজারই শেয়ারের দর নির্ধারণ করে দেয়। এই দর বুঝিয়ে দিল, এসইসি কয়েকটি কম্পানির অতিরিক্ত দর নির্ধারণ করে দিয়েছিল। সেকেন্ডারি মার্কেটের মন্দা প্রাইমারি মার্কেটে পড়েছে।
তিনি বলেন, আইপিওতে ইস্যুকৃত মূল্যের চেয়ে সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেন হলে আইপিওর প্রতি আগ্রহ কমে যাবে। এতে বিভিন্ন কম্পানির শেয়ার আন্ডারসাবক্রাইবড (অবিক্রীত) হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে শেয়ারের সরবরাহের পাইপলাইন থেমে যেতে পারে, যা পুঁজিবাজারের জন্য অশনিসংকেত বয়ে আনতে পারে।
এসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সেকেন্ডারি বাজারের মন্দা পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে। তাই প্রাথমিকভাবে ধার্যকৃত শেয়ারের দাম হারাচ্ছে কম্পানি। তিনি বলেন, আইপিওতে ধার্যকৃত দামের দ্বিগুণ দর পেয়েছে_এমন ১০টি কম্পানিরও অনুমোদন দিয়েছে পুনর্গঠিত এসইসি।
এদিকে ওই কয়েকটি কম্পানির দর বিবেচনায় নিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির অপেক্ষায় থাকা আইপিওর বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি করেছেন বিনিয়োগকারীরা। এই কম্পানিগুলো ইতিমধ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অনুমোদন পেয়ে ডিএসইর তালিকাভুক্তির জন্য অপেক্ষায় রয়েছে।
পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আতাউল্লাহ নাঈম বলেন, আইপিওর আবেদন করা কম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম নেওয়ার সুযোগ বন্ধ রেখে শুধু ফেসভ্যালুতে আইপিওর অনুমোদন দেওয়া উচিত।

সূত্র: কালের কণ্ঠ, ৯ জুলাই ২০১২

ইউনিক হোটেলের লেনদেন শুরু হয়েছে ২ জুলাই

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের প্রক্রিয়া শেষে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সোমবার ইউনিক হোটেল এ্যান্ড রিসোর্টসের লেনদেন শুরু হয়েছে। উচ্চহারে প্রিমিয়াম নিয়ে আইপিও’র অনুমোদন দেয়া শুরু থেকেই এ কোম্পানির পুঁজিবাজারে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। পরে তা স্থগিত করে নতুন করে ৬৫ টাকা প্রিমিয়াম নির্ধারণ করে দেয়া হয়।
ডিএসই’র ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, লেনদেন শুরুর দিন থেকে পরবর্তী বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এ কোম্পানির শেয়ার ‘এন’ ক্যাটাগরির অধীনে লেনদেন হবে। নিয়মানুসারে সোমবার থেকে পরবর্তী ৩০ কার্যদিবস এ শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা কোন প্রকার মার্জিন লোন সুবিধা পাবেন না।
সকালে ইউনিক হোটেল এ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড ডিএসই’র সঙ্গে তালিকাভুক্তির চুক্তি করে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নূর আলী, পরিচালক এমএস চৌধুরী, ডিএসইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোশাররফ এম হোসেন, কোম্পানি সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মাদ উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারে ১০ টাকা ফেস ভ্যালুর ৬৫ টাকা প্রিমিয়াম নেয়া হয়েছে। ফলে প্রতিলটের জন্য বিনিয়োগকারীদের দিতে হয়েছে ৭ হাজার ৫০০ টাকা। কোম্পানি পুঁজিবাজারে ২ কোটি ৬০ লাখ শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে মোট ১৯৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। ৩১ ডিসেম্বর (জানু-ডিসেম্বর’১১) সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক নিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির কর পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১০৪ কোটি ৭৩ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪.৫৫ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল যথাক্রমে ১১৯ কোটি ২৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ৫.৫২ টাকা।
পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করা ১৯৫ কোটি টাকা দিয়ে কোম্পানি ওয়েস্টিন-২, লা মেরিডিয়ান ও লাক্সারিয়ান মেরিডিয়ান নামে আরও তিনটি ফাইভস্টার হোটেল নির্মাণ করবে। এ ছাড়া অবশিষ্ট অর্থ কোম্পানি ব্যাংকঋণ পরিশোধ ও প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বাবদ খরচ করবে।

সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ, ৩ জুলাই, ২০১২

উচ্চ প্রিমিয়াম রোধে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট প্রণয়ন জরুরী

প্রিমিয়ামসহ শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশনের কোন কর্তৃত্ব নেই। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন করা কোম্পানিগুলো উচ্চ হারে প্রিমিয়াম নির্ধারণ করে চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট ফার্র্ম ও ইস্যু ম্যানেজারের সহযোগিতায়। চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট ফার্মগুলো সম্পদ মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। কিন্তু কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনের অসঙ্গতি খুঁজে বের করার দায়িত্ব অডিটর ফার্মগুলোর। বাজারের মন্দাবস্থার কারণে সম্প্রতি নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো দুয়েক দিন পরেই নেতিবাচকভাবে লেনদেন শুরু করে। আর এই কারণে ফাইনান্সিয়্যাল রিপোর্টিং এ্যাক্ট জরুরীভিত্তিতে প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। এটি বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাবে বলে তারা মনে করছেন।
এর আগে পুঁজিবাজারে অনেক কোম্পানি উচ্চহারে প্রিমিয়াম নিয়ে বাজারে এসে নির্ধারিত মূল্যের নিচে লেনদেন শুরু করে। আইপিওয়ে শেয়ার পাওয়া বিনিয়োগকারীরা এতে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনিক হোটেল এ্যান্ড রিসোর্টও লেনদেনের দ্বিতীয় দিনেই বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে। যদিও লেনদেনের প্রথম দিনেই কোম্পানিটির লেনদেন বেশি হলেও বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী করতে পারে। দ্বিতীয় দিনে কোম্পানিটির দর আগের দিনের চেয়ে ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। একইভাবে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডও বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন লেনদেনের প্রথম দিনেই এ ক্যাটাগরি থেকে জেড ক্যাটাগরিতে লেনদেন হচ্ছে। মঙ্গলবার এই কোম্পানিটিকে নিয়ে ডিএসই ও চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জে (সিএসই) বৈঠকও করেছে।
জানা গেছে, গত রবিবার এসইসি ও সিএসইর বৈঠকে কমিশন চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন উচ্চ হারে প্রিমিয়ামের প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। বৈঠকে উপস্থিত সিএসইর এক উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে এসইসির চেয়ারম্যান স্টক একচেঞ্জের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, এসইসি কোম্পানির তালিকাভুক্তির জন্য প্রিমিয়াম নির্ধারণ করে না। কোম্পানিগুলোর সিএ ফার্ম, ইস্যু ম্যানেজার ও অডিটর ফার্মগুলো এটি নির্ধারণ করে থাকে। তাদের প্রতিবেদনেই এসব উল্লেখ থাকে। এগুলো খতিয়ে দেখতে ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট জরুরী। অচিরেই এটির কাজ শুরু করা হবে।
এদিকে বাজারে স্থিতিশীলতার স্বার্থে কোম্পানিগুলোকে উচ্চহারে প্রিমিয়াম নিয়ে আইপিওয়ের অনুমোদন না দিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডিএসইর প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান। তিনি আরও জানান, এর আগে বেশ কিছু কোম্পানি উচ্চ হারে প্রিমিয়াম নিয়ে অতি মূল্যায়িত হয়ে বাজারে ঢুকেছে। এছাড়া কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনেও কিছুটা তথ্যগত সমস্যা থাকে। এগুলোকে সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করতে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল গঠনের দাবিও জানান তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত চলতি অর্থবছরের (২০১১-২০১২) বাজেট প্রস্তাবে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন ও ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত তার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পুঁজিবাজারে কারসাজি বন্ধ করার লক্ষ্যে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর এ উদ্যোগ নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কেন তা বাস্তবায়ন করা হয়নি এমন প্রশ্ন বাজার সংশ্লিষ্টদের।
সরকার কর্তৃক ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন ও ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার সংশ্লিষ্টরা মনে করেছিলেন, অবশেষে বন্ধ হতে যাচ্ছ অডিট ফার্মগুলোর প্রকাশিত উদ্দেশপ্রণোদিত অডিট রিপোর্ট তৈরির কার্যক্রম। কারসাজি বন্ধের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ দেরিতে নেয়া হলেও ভবিষ্যতের জন্য সুফল বয়ে আনবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুঁজিবাজারে আসা আগে অনেক কোম্পানি অডিট ফার্মের দ্বারা তাদের অডিট রিপোর্টে মুনাফা দেখিয়ে থাকে। যদিও কোম্পানিটি বাস্তবে লোকসানি অবস্থায় রয়েছে। এমতাবস্থায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ওই অনৈতিকভাবে তৈরি অডিট রিপোর্ট দেখে বিনিয়োগ করে থাকেন। ফলে বাধ্যতামূলকভাবে লোকসান গুনতে হয় বিনিয়োগকারীদের। তবে এ আইন কার্যকর হলে বিভিন্ন কোম্পানি প্রকাশিত অডিট রিপোর্টগুলোর মনোনয়ন হবে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
এর আগে ১০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়ে ২০০৫ সালে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সর্বপ্রথম এ আইন প্রণয়ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়ে ছিল। এমনকি আইনটির একটি খসড়াও তৈরি করা হয়। কিন্তু পরে তা স্থগিত করা হয়। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে আবারও আইনটি প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় আইন প্রণয়ন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ২০০৫ সালে আইনটি তৈরি করতে ১০ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে আইন প্রণয়নে ৪ কোটি টাকা এবং বাকি ৬ কোটি টাকা ফাইন্যান্সিয়াল কাউন্সিল পরিচালনার জন্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আইন প্রণয়ন স্থগিত হওয়ায় বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া অর্থ যথাসময়ে ফেরত দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাবেক প্রেসিডেন্ট ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, সরকার ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন ও ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল গঠনের যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। সিএসই বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে প্রস্তাব করে এসেছে। সিএসই’র বিশ্বাস এ পদক্ষেপ তালিকাভুক্ত কোম্পানিরগুলোর ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং বাজারে স্বচ্ছতা আসবে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর এখনও কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না তা আমার জানা নেই।

সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ, ৪ জুলাই, ২০১২