Monthly Archives: March 2011

এমজেএল ও এমআই সিমেন্টকে তালিকাভুক্ত করবে না ডিএসই

ঢাকা, ২৪ মার্চ (শীর্ষ নিউজ ডটকম): মবিল যমুনা বাংলাদেশ (এমজেএল) ও এমআই সিমেন্ট কোম্পানির তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেবে না ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জ(ডিএসই)। আজ বৃহস্পতিবার ডিএসই’র বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএসই’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটো। লেনদেন চালুর ৬ মাস পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ারের বরাদ্দ মূল্যের চাইতে বাজার দর কমে গেলে কোম্পানির শেয়ার প্রিমিয়ামের হিসাব থেকে প্রাইমারি শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব আইন সিদ্ধ না হওয়ায় ডিএসই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
টিটো শীর্ষ নিউজ ডটকমকে জানান, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (এসইসি) যে শর্তে এমজেএল ও এমআই সিমেন্টের তালিকাভুক্তির জন্য ডিএসইকে চিঠি দিয়েছে তা আইনসিদ্ধ না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রোববার এ দুটি কোম্পানির তালিকাভুক্তি না দেয়ার বিষয়টি এসইসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
বরাদ্দ মূল্যের তুলনায় বাজার মূল্য কমে গেলে প্রাইমারি শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার শর্তে ২২ মার্চ এমজেএল’র তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেয় এসইসি। এ কোম্পানির তালিকাভুক্তির জন্য সেদিনই ডিএসইতে চিঠি পাঠায় এসইসি। একই শর্তে এমআই সিমেন্ট কোম্পানিও ক্ষতিপূরণ দেয়ার অঙ্গীকার করে বুধবার এসইসিতে চিঠি পাঠায়। এমজেএল’র তালিকাভুক্তির বিষয়ে এসইসির চিঠি পাওয়ার পরই ডিএসই’র তালিকাভুক্তি কমিটি কোম্পানি আইন বিষয়ে কয়েকজন আইন বিশেষজ্ঞের মতামত নেয়। আইনজীবীরা জানান, শেয়ার প্রিমিয়াম হিসাব থেকে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আইনসিদ্ধ নয়। এ অবস্থায় ডিএসই’র তালিকাভুক্তি কমিটি বুধবার ওই শর্তে কোম্পানি দু’টিকে তালিকাভুক্ত না করার বিষয়ে মতামত প্রদান করে। আজ ডিএসই’র বোর্ড সভায় চূড়ান্তভাবে কোম্পানি দুটিকে তালিকাভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। টিটো জানান, ডিএসই এ শর্তে কোম্পানি দুটিকে তালিকাভুক্তি দেবে না। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত এসইসিকেই নিতে হবে।

Source: sheershanews.com

আবারো তালিকাভুক্তি জটিলতায় এমজেএল ও এমআই সিমেন্ট

মবিল যমুনা বাংলাদেশ (এমজেএল) ও এমআই সিমেন্টের তালিকাভুক্তি নিয়ে আবারো জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) বেঁধে দেয়া শর্ত আইনসিদ্ধ না হওয়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তালিকাভুক্তি সংক্রান্ত কমিটি কোম্পানি দু’টিকে তালিকাভুক্ত করতে রাজি হয়নি। বুধবার তালিকাভুক্তি সংক্রান্ত কমিটির বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার ডিএসইর বোর্ড সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএসইর সিনিয়র সহসভাপতি মো. আহসানুল ইসলাম টিটো।
ইস্যু মূল্যের তুলনায় বাজার মূল্য কমে গেলে প্রাইমারি শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার শর্তে এমজেএল ও এমআই সিমেন্টের তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেয় এসইসি। এ দু’টি কোম্পানির তালিকাভুক্তি বিষয়ে এসইসির চিঠি পাওয়ার পরই ডিএসইর তালিকাভুক্তি কমিটি কোম্পানি আইন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ড. এম. জহিরের মতামত নেয়। শর্তটি আইনসিদ্ধ নয় বলে ড. জহির ডিএসইকে জানান। এ অবস্থায় ডিএসই তালিকাভুক্তি কমিটি ওই শর্তে কোম্পানি দু’টিকে তালিকাভুক্ত না করার বিষয়ে মতামত প্রদান করে বলে সূত্র জানায়।
এ বিষয়ে ডিএসইর সিনিয়র সহসভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটো জানান, তালিকাভুক্তির জন্য যে প্রস্তাবটি এসেছে, তা জটিল এবং গ্রহণযোগ্য নয়। পৃথিবীর কোথাও লোকসানে শেয়ার বিক্রি করলে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নজির নেই। তিনি বলেন, কোম্পানি যদি ক্ষতিপূরণের অর্থ না দেয়, তবে ব্রোকারেজ হাউজ বা ডিএসই বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণের কোনো নিশ্চয়তা দেবে না। তবে তালিকাভুক্তির বিষয়ে কোম্পানি যদি ব্যাংক গ্যারান্টিসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে শেয়ার কিনে নেয়ার লিখিত নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে এ দু’টি কোম্পানির তালিকাভুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে ডিএসই। সেটা না হলে তালিকাভুক্তির নিয়মানুযায়ী ৭৫ দিনের মধ্যে তালিকাভুক্ত না হলে কোম্পানি আইপিও আবেদনকারীদের অর্থ ফেরত প্রদান করবে।
এদিকে এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এসইসি এ বিষয়ে ২ সি-সি ধারায় বিশেষ নির্দেশনা জারি করে উভয় শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষকে তালিকাভুক্তির নির্দেশ দিতে পারে। সেক্ষেত্রে কোনো পক্ষের এ বিষয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকবে না।

Source: sheershanews.com, 24 March, 2011

MI Cement to compensate shareholders

MI Cement, an aspirant company to be listed with the two bourses of the country has agreed to compensate their primary shareholders if the prices fall below offer prices within six months of start of the trading.

Earlier, another listed aspirant company Mobil Jamuna Lubricants (MJL) agreed to compensate share if the price falls below the offer price after trading starts in the market under book building system.

Sources in the Securities and Exchange Commission has confirmed that the authorities of MI Cement gave an undertaking to the capital market regulator in this connection on Tuesday

Earlier, SEC sent a letter to MI Cement and MJL, asking them to buy back their IPOshares only once those fall below the offer prices.

Shah Alam, Company Secretary of MI Cement told FE that if the price falls below the cut off price after the start of trading, we will give compensation to the investor from the premium account.

MI Cement already raised money from the investor by floating 30 million share with face value of Tk 10 per share. Under the book building system, MI cement authority has taken Tk 101.60 premium per share with each share issued at Tk 111.60 to the investors.

As per the submitted financial data of MI cement to the DSE, Earning Per Share(EPS) of MI Cement was Tk 93.87 and Net Asset Value (NAV) 37.01 per share as on June 2009.

Capital market insiders feared that as MI cement authorities have taken high premium against the share, its price might came down below the issue price when it hits market. That will ultimately bring huge financial lose for MI cement primary shareholders.

Chief Financial Officer of MI Cement Md Mukter Hossian Talukder told FE that according to the SEC directives the Board of Directors of MI cement have agreed to compensate the primary shareholders.

Giving explanation of the procedure of the compensation package, Md Mukhtar Hossain Talukder said, if any shareholder of MI cement sell his primary share with Tk 90 per share within six months of resumption of the trade, he will entitled to get back Tk 21.60 per share from the MI cement authority.

“In that case, the investor has to be certified by the DSE authority before coming to MI cement authority. After getting proper document MI cement will compensate the investors from the premium account” he added.

Sources in the DSE said, the DSE authority will decide the fate of MJL and MI cement listing application in a board meeting scheduled to be held on today (Thursday).

According to the SEC Rules, companies’ initial public offering (IPO) will be scrapped once they fail to be listed within 75 days of subscription. Closing date for MJL IPO subscription was January 3, while MI Cement was January 13.

Meanwhile, MJL faces listing complexity as the prime bourse is yet to allow its listing as the Companies Act, 1994 remains vague about the compensation that will be paid from premium fund.

The complexity comes after the SEC Tuesday paved the way of MJL’s listing after the company gave its assurance in written that it would pay compensation to shareholders if the market price goes below the offer price within six months after the date of listing.

On the same day the SEC told Dhaka Stock Exchange (DSE) to take necessary measures for the listing of MJL.

The company accorded with the regulator’s condition to pay compensation to its shareholders from the premium fund.

The DSE’s legal expert argued that the Companies Act 1994 said nothing clearly about the listing of MJL under the condition of paying compensation from premium fund.

The section 57 (2) of the Companies Act 1994 says: the share premium account may be applied by the company in paying up un-issued shares of the company to be issued to member of the company as fully paid bonus shares, in writing of the preliminary expenses of the company, in writing off the expenses of, or the commission paid or discount allowed, on any issue of shares or debentures of the company, or in providing for the premium payable on the redemption of any redeemable preference shares or of any debentures of the company.

The listing committee of DSE Wednesday ended its meeting without any decision regarding the listing of the company following the argument of their legal expert.

Source: The financial express, 24 March, 2011

শেয়ারবাজারে অনৈতিকতার নেপথ্যে ॥ প্লেসমেন্ট বাণিজ্য!

শেয়ারবাজারে অনৈতিক প্লেসমেন্ট শেয়ার দেয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। স্টক এক্সচেঞ্জের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ‘উপঢৌকন’ দেয়া হয়েছে এ পেস্নসমেন্ট শেয়ার। বিভিন্ন কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের তালিকাভুক্তির ৰেত্রে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য পেস্নসমেন্ট শেয়ার বরাদ্দ রাখা পুঁজিবাজারের অলিখিত রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল। বাজারে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে ওই গোষ্ঠীটি সরকার ও সরকারের বাইরের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও এই শেয়ার উপহার হিসেবে দিয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এ তালিকা থেকে বাদ যাননি। পুঁজিবাজারে বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান ও কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে গঠিত তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে ইতোমধ্যেই পেস্নসমেন্ট বাণিজ্যের কিছু চিত্র বেরিয়ে এসেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ জনকণ্ঠকে বলেন, সম্পূর্ণ নিরপেৰ অবস্থান থেকে পুঁজিবাজারে বিপর্যয়ের কারণ ও বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই অনেক অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত কাজ শেষ করে অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেব। এর ভিত্তিতে কী ধরনের পদৰেপ নেয়া হবে সেটা সম্পূর্ণভাবে সরকারের বিষয়।
পেস্নসমেন্ট বাণিজ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির পেস্নসমেন্ট বরাদ্দের সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ জড়িত হয়ে পড়েছে। ফলে কে কীভাবে এসব শেয়ার পেয়েছে এবং তারা বাজারে অনিয়মের ৰেত্রে কোন ভূমিকা রেখেছে কিনা_ সে সংক্রানত্ম সব তথ্য খুঁজে বের করা কঠিন। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতির আলামত হিসেবে কয়েকটি ঘটনা চিহ্নিত করে তদনত্ম প্রতিবেদনের অনত্মর্ভুক্ত করা হবে। সরকার চাইলে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও তদনত্ম করতে পারে।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুঁজিবাজারের বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। মূলত শেয়ারবাজারে কারসাজির সুযোগ অবাধ করার জন্যই সুযোগসন্ধানীরা গুরম্নত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে লেনদেনের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এৰেত্রে বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়া একটি বিশেষ সিন্ডিকেট ‘পেস্নসমেন্ট শেয়ারকে’ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। পুঁজিবাজার সংশিস্নষ্টদের অনিয়ম খুঁজতে গিয়ে দু’টি মার্চেন্ট ব্যাংকের ৫টি এ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ পেস্নসমেন্ট শেয়ার লেনদেনের তথ্য পেয়েছে তদনত্ম কমিটি। এরমধ্যে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) একজন উপ মহাব্যবস্থাপকের স্ত্রীর নামে খোলা একটি হিসাব থেকে কোটি কোটি টাকার পেস্নসমেন্ট শেয়ার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সময়ে বাজারে আসা অধিকাংশ কোম্পানি ও মিউচু্যয়াল ফান্ডের পেস্নসমেন্ট শেয়ার এই হিসাবে জমা হয়েছে। পরে এসব শেয়ার বিক্রি করে অর্জিত কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানানত্মর করা হয়েছে। এছাড়া এখান থেকে ৩ কোটি টাকা স্থানানত্মর করে ওই উপমহাব্যবস্থাপক নিজের নামে এফডিআর করেছেন। ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানোর ৰেত্রে প্রচলিত নিয়ম-কানুন উপেৰা করায় সংশিস্নষ্টদের বিরম্নদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে তদনত্ম কমিটি। এসইসির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা আইসিবিতে থাকাকালে ওই উপমহাব্যবস্থাপক সরাসরি তাঁর অধীনে কর্মরত ছিলেন। এ কারণে সংশিস্নষ্ট হিসাবটির সঙ্গে এসইসির ওই শীর্ষ কর্মকর্তার সংশিস্নষ্টতা রয়েছে কিনা_ তা খতিয়ে দেখছে তদনত্ম কমিটি।
সূত্র জানায়, ডিএসইর একজন পরিচালকের স্ত্রীর নামে পরিচালিত একটি বিনিয়োগ হিসাবেও একই ধরনের লেনদেনের তথ্য পেয়েছে তদনত্ম কমিটি। শীর্ষস্থানীয় একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের ওই হিসাবটির সঙ্গে এসইসি-ডিএসইর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্ক রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিএসইর একজন সাবেক সভাপতির ভাগ্নের নামে পরিচালিত বিভিন্ন হিসাবেও বিপুল পরিমাণ পেস্নসমেন্ট শেয়ারের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত বেশ কয়েকজন রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীর সম্পর্কে পেস্নসমেন্ট শেয়ারের বিশেষ সুবিধা গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এসইসি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার জনকণ্ঠকে বলেন, পেস্নসমেন্টের শেয়ারকে নিতে পারবে বা পারবে না_ সে বিষয়ে কোন নীতিমালা নেই। এসইসি কর্মকর্তারা বাদে যে কেউ শেয়ার বরাদ্দ নিতে পারেন। শুধু এসইসিতে কর্মরত কেউ কোনভাবেই শেয়ার ব্যবসায় জড়িত হতে পারে না। এর বাইরে কেউ পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে শেয়ার পেলে এসইসির কিছু করার থাকে না।
তিনি বলেন, ‘এসইসির কোন কর্মকর্তা এ ধরনের কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত আছেন বলে আমার মনে হয় না। এসব বিষয়ে এসইসিকে জড়ানোর কোন মানে নেই। তদনত্ম কমিটি সব দোষ এসইসির ওপর চাপালে আমরা অবশ্যই আত্মপৰ সমর্থন করব।’
জানা গেছে, প্রাইভেট পেস্নসমেন্টের নামে গত কয়েক বছরে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অনৈতিক বাণিজ্য চলেছে। কোম্পানির মূলধন সংগ্রহের (ক্যাপিটাল রেইজিং) নামে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগেই পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। মিউচু্যয়াল ফান্ডের তহবিল সংগ্রহের জন্যও পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে ইউনিট বিতরণ করা হয়। এই সুযোগে দু’বছর ধরে পেস্নসমেন্ট নিয়ে চলেছে বড় ধরনের বাণিজ্য। বিষয়টি এক রকম ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও দীর্ঘদিন পর্যনত্ম এ ধরনের প্রবণতা রোধে এসইসি কোন পদৰেপই নেয়নি। তবে সেকেন্ডারি বাজারে মিউচু্যয়াল ফান্ডের দর অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে ২০১০ সালের প্রথম দিকে বেশকিছু সিদ্ধানত্ম নেয় এসইসি। এর প্রভাবে বাজারে মিউচু্যয়াল ফান্ডের দর ব্যাপকহারে কমে যায়। এতে এ খাতের পেস্নসমেন্ট বরাদ্দে অনেকেই নিরম্নৎসাহিত হয়ে পড়ে। তবে তালিকাভুক্তির আগে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার নিয়ে পেস্নসমেন্ট বাণিজ্য আগের মতই অব্যাহত রয়েছে। কোন কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা অতিক্রম করলে প্রাথমিক গণ-প্রসত্মাবের (আইপিও) মাধ্যমে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক হওয়ার পরও শেয়ারবাজারের বাইরে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহের এই প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়।
ব্যাপক সমালোচনার মুখে ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে প্রাইভেট পেস্নসমেন্ট নিয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধানত্ম নিয়েছিল এসইসি। সেই সময় সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইসু্য) বিধিমালা সংশোধন করে আইপিওর ৰেত্রে ১৫০ কোটি টাকার কম পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানির জন্য প্রাইভেট পেস্নসমেন্ট বন্ধ করা হয়। এছাড়া প্রাথমিকভাবে আইপিও প্রক্রিয়ার আগে কোম্পানির মূলধন সংগ্রহের জন্য স্টক এঙ্চেঞ্জের ওটিসি মার্কেটকে কাজে লাগানোর চিনত্মা করা হয়েছিল। তবে পেস্নসমেন্টের জন্য আলাদা নীতিমালা না করে ৩০ এপ্রিল ওটিসি সংক্রানত্ম বিধিমালা সংশোধনের সিদ্ধানত্ম সম্পর্কে সংশিস্নষ্টদের মতামত চেয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ওটিসি মার্কেটের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের এই চিনত্মাকে অবাসত্মব হিসেবে আখ্যায়িত করেন দুই স্টক এঙ্চেঞ্জের নেতারা। তালিকাচু্যত এবং তালিকা-বহির্ভূত কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের জন্য চালু হওয়া ওটিসি মার্কেটকে মূলধন সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব নয় বলে তাঁরা মতামত ব্যক্ত করেন। পেস্নসমেন্টের জন্য ওটিসি মার্কেটকে ব্যবহার উদ্যোগ বাসত্মবসম্মত না হওয়ায় শেষ পর্যনত্ম ওই সিদ্ধানত্ম কার্যকর করেনি এসইসি। পরে পেস্নসমেন্ট নিয়ে অনৈতিক বাণিজ্য বন্ধে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের জন্য এসইসি সদস্য মনসুর আলমকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু এর পর প্রায় এক বছর এসইসিতে থাকলেও পেস্নসমেন্ট সংক্রানত্ম নীতিমালা প্রণয়নে তিনি কোন কার্যকর উদ্যোগ নেননি।

Source: The daily janakantha, 24 March, 2011

মবিল যমুনার তালিকাভুক্তি অনুমোদন করেছে এসইসি

প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি করে লোকসান হলে সংশিস্নষ্ট শেয়ারহোল্ডারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের শর্তে মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্টকে (এমজেএল) শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দিয়েছে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় কোম্পানির এ সংক্রান্ত আবেদন অনুমোদন করা হয়। কোম্পানিটির তালিকাভুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদৰেপ গ্রহণের জন্য মঙ্গলবারই দুই স্টক এঙ্চেঞ্জকে লিখিতভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি ও লেনদেন শুরুর পর ৬ মাসের মধ্যে কোন শেয়ারহোল্ডার বরাদ্দ মূল্যের কমে মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্টের প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি করে লোকসানের মুখে পড়লে কোম্পানির পৰ থেকে তাকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। এক্ষেত্রে বরাদ্দ মূল্যের চেয়ে বিক্রয় মূল্যের যে পার্থক্য হবে মবিল যমুনার শেয়ার প্রিমিয়াম হিসাব থেকে সেই টাকা পরিশোধ করা হবে। কোম্পানির পৰ থেকে এসইসিতে এ সংক্রান্ত অঙ্গীকারনামা জমা দেয়া হয়। কোম্পানির এই অঙ্গীকার ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৫৭(গ) ধারার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়ায় কমিশন সভায় তালিকাভুক্তির আবেদন অনুমোদন দেয়া হয়।
জানা গেছে, সভায় ৰতিপূরণ প্রদানের পদ্ধতিও নির্ধারণ করা হয়েছে। এৰেত্রে প্রাথমিক শেয়ারধারীদের মধ্যে যারা লোকসান দেবেন দুই স্টক এঙ্চেঞ্জে তাদের ব্রোকারেজ হাউস থেকে সেই তালিকা সংগ্রহ করবে। পরে কোম্পানির কাছে ৰতিপূরণ প্রদানের জন্য তালিকাটি পাঠিয়ে দেয়া হবে। এরপর সংশিস্নষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের কাছে লোকসানের সমপরিমাণ ৰতিপূরণের অর্থ পাঠিয়ে দেয়া দেয়া হবে। এৰেত্রে বিভিন্ন কোম্পানির লভ্যাংশ বিতরণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে।
উলেস্নখ্য, মবিল যমুনা লুব্রিকান্ট লিমিটেড (এমজেএল) পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৪ কোটি শেয়ার বরাদ্দ করেছে। ১৪২ টাকা ৪০ পয়সা প্রিমিয়ামসহ বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানির শেয়ারের বরাদ্দ মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৫২ টাকা ৪০ পয়সা। ফলে ৪০ কোটি টাকার শেয়ার ছেড়ে কোম্পানিটি বাজার থেকে ৬০৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্টের সর্বশেষ বার্ষিক হিসাবে ইপিএস ২ টাকা ৪৫ পয়সা। এই কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫২ টাকা ৪০ পয়সা।
পুঁজিবাজার পরিস্থিতি নিয়ে গত ২২ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ডাকা বৈঠকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতির অপব্যবহার করে পুঁজিবাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ তুলে নেয়ার প্রবণতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। বৈঠকে মবিল যমুনা ও এমআই সিমেন্টের নির্ধারিত মূল্যকে কোম্পানির মৌলভিত্তির তুলনায় অস্বাভাবিক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বৈঠকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংক্রানত্ম বিধি সংশোধন করে স্থায়ীভাবে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে মবিল যমুনা ও এমআই সিমেন্টের আইপিও আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ায় এ দু’টি কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে শেয়ার কিনে নেয়ার শর্ত আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

Source: The daily janakantha, 23 March, 2011

মঙ্গলবার তালিকাভুক্ত হচ্ছে না মবিল যমুনা

নির্ধারিত সময় শেষ হলেও আগামীকাল মঙ্গলবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না মবিল যমুনা।  তবে এরইমধ্যে কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) ৬ মাস পর্যন্ত শেয়ার বাইব্যাকের মুচলেকা দিয়েছে।

দুই স্টক এক্সচেঞ্জের লিস্টিং কমিটির বৈঠক না হওয়ায় কোম্পানিটি নির্ধারিত সময়ে তালিকাভুক্ত হতে পারছে না বলে জানা গেছে।

জানা যায়, এর আগে মবিল যমুনা ও এমআই সিমেন্টকে বাজারে নিয়ে আসার জন্য ৬ মাস শেয়ার বাইব্যাকের শর্ত দিয়েছে এসইসি। অর্থাৎ এ সময়ের মধ্যে শেয়ার দর ফেসভ্যালুর নিচে নেমে এলে কোম্পানিকে শেয়ার কিনতে হবে। এ শর্তের পরিপ্রেক্ষিতে মবিল যমুনা এসইসিতে তালিকাভুক্তির সময় ২ মাস বাড়িয়ে চায়। গত ১৩ মার্চ এসইসি এ আবেদন নাকচ করে দেয়। এবং  স্বল্প সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে ব্যর্থ হলে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানায় সংস্থাটি।

এসইসির কঠোরতার কারণে কোম্পানিটি ৬ মাস বাইব্যাকের শর্তে রাজি হয়ে এ ব্যাপারে এসইসিতে মুচলেকা দিয়েছে। কিন্তু দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে নির্ধারিত সময়ে তালিকাভুক্ত হতে ব্যর্থ হলো কোম্পানিটি।

এদিকে ডিএসই সূত্রে জানা যায়, মবিল যমুনার তালিকাভুক্তির সময় না বাড়ানোর জন্য এসইসি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আজ সোমবার দুই স্টক এক্সচেঞ্জ চিঠি আকারে পেয়েছে। কোনো কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে হলে স্টক এক্সচেঞ্জের লিস্টিং কমিটির বৈঠকে অনুমোদন নিতে হয়।

কিন্তু এসইসির নির্দেশনা আজকে পাওয়ায় এ ব্যাপারে কোনো বৈঠক স্টক এক্সচেঞ্জ করতে পারেনি। আগামী বৃহস্পতিবার স্টক এক্সচেঞ্জের বৈঠক হবে। ওই দিন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে চলতি সপ্তাহে কোম্পানিটির তালিকাভুক্ত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

এ ব্যাপারে সিএসইর প্রেসিডেন্ট ফখরুদ্দীন আলী আহমেদ বলেন, এসইসির নির্দেশনা আমরা আজকে চিঠি আকারে পেয়েছি। ফলে আজকের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে না। লিস্টিং কমিটির বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানিটি তালিকাভুক্ত হতে পারবে না।

এদিকে এসইসি সূত্রে জানা যায়, তবে নির্ধারিত সময়ে তালিকাভুক্ত হতে না পারলে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসইসি বিশেষ ক্ষমতাবলে এ কোম্পানিকে সময় বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে কোম্পানিটি কোনো আইনি জটিলতার মধ্যে পড়বে না।

Source: banglanews24.com, 22 March, 2011

MJL agrees to buy back IPO shares, MI Cement yet to decide

The authorities of Mobil Jamuna Lubricants (MJL) have agreed to buy back their shares within six months of trading if the prices fall below offer prices, while the MI Cement Factory authorities are yet to take decision in this connection.

The authorities of MJL gave an undertaking to the capital market regulator in this connection Sunday, MJL official sources told the FE Monday.

The MJL authorities had received a letter from the Securities and Exchange Commission (SEC) to sign a deal in this connection three days back.

It is expected that the company will sign an agreement with the bourses to be listed today (Tuesday) or tomorrow (Wednesday).

When asked, officials at the MI Cement Factory said they will hold a meeting today (Tuesday) to discuss about the SEC letter relating to buy back of shares.

MI Cement officials said they received a letter from the SEC in this connection Monday.

Chief Financial Officer of MI Cement Md Mukter Hossian Talukder told the FE: “We will discuss about it and will try to follow the SEC directives.”

The SEC sent letters to the authorities of the two companies asking them to buy back their IPO shares only once those fall below the offer prices.

According to the SEC Rules, companies’ initial public offering (IPO) will be scrapped once they fail to be listed within 75 days of subscription.

The IPO of MJL will be suspended today (Tuesday) if it fails to be listed with the bourses, while the MI Cement expires on March 29.

Closing date for MJL IPO subscription was January 3, while MI Cement was January 13.

Source: The financial express, 22 March, 2011

বুকবিল্ডিং পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি

প্রাথমিক শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বুকবিল্ডিং পদ্ধতির সংস্কার বিষয়ে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) প্রস্তাবের ওপর মতামত দেয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় নিয়েছে পুঁজিবাজার সংশিস্নষ্ট চারটি প্রতিষ্ঠান। সংশিস্নষ্ট বিধিমালার সংশোধনী চূড়ান্ত করতে সোমবার এসইসিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সময় দেয়া হয়। দুই স্টক এঙ্চেঞ্জ, বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিপিএলসি) এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) নেতারা তাৎৰণিকভাবে কোন মতামত প্রদানে অসম্মত হওয়ায় চূড়ানত্ম সিদ্ধানত্ম গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
এসইসি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিশনের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা চৌধুরী বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংস্কারের জন্য পাবলিক ইসু্য বিধিমালা, ২০০৬-এর প্রসত্মাবিত সংশোধনী সম্পর্কে কমিশনের প্রসত্মাব তুলে ধরেন। এতে কোন কোম্পানির প্রাথমিক শেয়ারের নির্দেশক মূল্য ও আয়ের (পি/ই) অনুপাত ১৫ এর কম এবং শেয়ারপ্রতি এনএভির পাঁচ গুণের নিচে রাখার প্রসত্মাব করা হয়। এসইসির প্রসত্মাবে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের সর্বোচ্চ সীমার পাশাপাশি নূ্যনতম মূল্য নিশ্চিত করার উপরও গুরম্নত্ব দেয়া হয়েছে। কোন প্রতিষ্ঠান সংশিস্নষ্ট কোম্পানির এনএভির কম নির্দেশক মূল্য প্রসত্মাব করতে পারবে না। আর মূল্য নির্ধারণে কোম্পানির তিন বছরের আয়ের গড়ের ভিত্তিতে পিই নির্ধারিত হবে। নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের লৰ্যে রোড শো’ আয়োজনের কমপৰে ৫ দিন আগে কোম্পানির বিবরণীর (প্রসপেক্টাস) খসড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের কাছে পাঠাতে হবে। তবে এতে কোনভাবেই নির্দেশক মূল্যের কোন প্রসত্মাব করা যাবে না। কোম্পানির আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনার জন্য আইসিএবি, আইসিএমএবি, দুই স্টক এঙ্চেঞ্জের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে এতে কোম্পানির সঙ্গে সংশিস্নষ্ট কোন ব্যক্তি থাকতে পারবেন না।
কমিশনের প্রসত্মাবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দর প্রসত্মাব (বিডিং) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বরাদ্দ শেয়ার বিক্রির নিষেধাজ্ঞা ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৬০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। দর প্রসত্মাব প্রক্রিয়ার সময়সীমা তিন দিনের পরিবর্তে দু’দিন করার কথা বলা হয়েছে। দর প্রসত্মাবের মাধ্যমে চূড়ানত্ম মূল্য নির্ধারণের দু’দিনের মধ্যে আইপিও বিবরণী (প্রসপেক্টাস) এসইসিতে জমা এবং ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরম্নর বাধ্যবাধকতা আরোপ করার কথা বলা হয়।
এসইসির প্রসত্মাবের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে বিএপিএলসির চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে জটিলতা এড়াতে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি বাতিলের প্রসত্মাব করেন। তিনি নির্ধারিত মূল্য (ফিঙ্ড প্রাইস) পদ্ধতির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির প্রসত্মাব করেন। তবে ডিএসই-সিএসই, বিএমবিএ প্রতিনিধি এবং এসইসি কর্মকর্তারা তার এই প্রসত্মাবের বিরোধিতা করেন। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন পরীৰা-নিরীৰার পর বুকবিল্ডিং পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন পদ্ধতি হিসেবে এর কিছু অপব্যবহার হয়েছে। কিন্তু মাথাব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলা কোন সমাধান হতে পারে না। দুর্বলতাগুলো দূর করে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি কার্যকর করতে হবে।
পরে দুই স্টক এঙ্চেঞ্জ, বিএপিএলসি এবং বিএমবিএ প্রতিনিধিরা তাৎৰণিকভাবে এসইসির প্রসত্মাবের ওপর কোন মতামত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, বৈঠকের আগে এসইসির প্রসত্মাবগুলোর লিখিত আকারে না পাওয়ায় তাদের পৰে মতামত দেয়া সম্ভব নয়। তারা সংশিস্নষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তীতে এসইসির প্রসত্মাবের ওপর মতামত পেশ করার কথা বলেন। এসইসি কর্মকর্তারা এতে সম্মত হলে পরবর্তীতে আরেকটি বৈঠক করে সব প্রতিষ্ঠানের মতামত গ্রহণের সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়।
বৈঠক শেষে এসইসির মুখপাত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, দুই স্টক এঙ্চেঞ্জ, বিএপিএলসি এবং বিএমবিএ নেতারা বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংশোধনের বিষয়ে এসইসির প্রসত্মাবগুলো নিয়ে গেছেন। নিজ নিজ ফোরামে আলোচনার পর তাঁরা কমিশনের কাছে মতামত পেশ করবে। এর ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনে আরও আলাপ-আলোচনার পর সংশোধনী চূড়ানত্ম করা হবে।
বিএপিএলসির চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান বলেন, এসইসির প্রসত্মাবের আগামী ২৮ মার্চ আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। নিজস্ব ফোরামে আলোচনার পর প্রতিটি সংগঠন ওই দিনের বৈঠকে তাদের মতামত পেশ করবে। ওইদিনই বুকবিল্ডিং পদ্ধতির সংশোধনী চূড়ানত্ম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, মূলত প্রাথমিক শেয়ারের একটি গ্রহণযোগ্য মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ঠিক করার বিষয়টিই গুরম্নত্ব দেয়া হচ্ছে। তবে বাজারে আসার পর শেয়ারের দর অস্বাভাবিক হারে কমে গেলে কী ধরনের পদৰেপ নেয়া হবে তাও ভাবতে হবে।
ডিএসইর সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বর্তমানে বুকবিল্ডিং পদ্ধতির কাযর্কারিতা স্থগিত রয়েছে। এটিকে পুনরায় কার্যকর করাই মূল লৰ্য।
তিনি বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আলাপ-আলোচনার পর বুকবিল্ডিং পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়েছে। পুঁজিবাজারের জন্য এটি অবশ্যই প্রয়োজনীয়। কিন্তু এই পদ্ধতির কয়েকটি ধারার অপব্যবহার করে কেউ কেউ বাজার থেকে বাড়তি সুবিধা আদায় করেছে। এই প্রবণতা বন্ধ করতে সংশিস্নষ্ট ধারাগুলো কীভাবে সংশোধন করা যায়_ সে বিষয়েই আলোচনা হচ্ছে।
এসইসি সদস্য মো. ইয়াসিন আলী ও মো. আনিসুজ্জামান, নির্বাহি পরিচালক ফরহাদ আহমেদ, এটিএম তারিকুজ্জামান, সাইফুর রহমান, ডিএসইর সিইও সতিপতি মৈত্র, সিএসইর সিনিয়র সহ-সভাপতি আল মারম্নফ খান, সিইও অধ্যাপক ড. আবদুলস্নাহ মামুন, বিএমবিএ সভাপতি শেখ মোতর্জা আহমেদ প্রমুখ বৈঠকে উপস্থি ছিলেন।

Source: The daily janakantha, 22 March, 2011

বুক বিল্ডিং পদ্ধতি চূড়ান্ত হচ্ছে ২৮ মার্চ

বুক বিল্ডিং পদ্ধতির খসড়া সংশোধনী চূড়ান্ত হবে আগামী ২৮ মার্চ। ওইদিন এ নিয়ে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রস্তাব যাচাইয়ের পর নিজেদের প্রস্তাব পেশ করবেন স্টেক হোল্ডাররা। আলোচনার পর তা চূড়ান্ত হবে। আজ সোমবার বুক বিল্ডিং পদ্ধতি নিয়ে এসইসিতে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন বিএপিএলসি’র সভাপতি সালমান এফ রহমান।
তিনি বলেন, এ পদ্ধতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ। এটি কিভাবে নির্ধারণ করা হবে সে বিষয়টি আরো পর্যালোচনার প্রয়োজন। এছাড়া কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন কিভাবে যাচাই ও শেয়ারের ইস্যু মূল্য বাজারে আসার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য বাংলাদেশ পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ এসোসিয়েশন (বিএপিএলসি), মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন ও দুই স্টক এক্সচেঞ্জের লিস্টিং কমিটি এসইসির প্রস্তাব যাচাই করবে। এরপর বুক বিল্ডিং পদ্ধতি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডাররা নিজেদের প্রস্তাব ২৮ মার্চ উপস্থাপন করবে এবং সেদিনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
বুক বিল্ডিং পদ্ধতির প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করতে সোমবার সকাল ১১টায় দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, বিএপিএলসি, মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে এসইসি। এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকারের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন এসইসির সদস্য মো. ইয়াসিন আলী, মো. আনিসুজ্জামান, বিএপিএলসি’র সভাপতি সালমান এফ রহমান, বিএমবিএ’র সভাপতি শেখ মর্তুজা আহমেদ, দুই স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিনিধিসহ এসইসির নির্বাহি পরিচালকরা। বৈঠকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতির খসড়া বিষয়ে এসইসির প্রস্তাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বিস্তারিত আলোচনা করেন।
জানা গেছে, বুক বিল্ডিং পদ্ধতির প্রস্তাবিত সংশোধনে শেয়ারের নির্দেশক মূল্য ও পিই রেশিও (মূল্য আয় অনুপাত) বেঁধে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী এ সংক্রান্ত আইন সংশোধন হলে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ও প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) বিবেচনায় নিয়ে শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে লেনদেন শুরুর আগে কোনো কোম্পানির শেয়ারের মূল্য ও আয়ের (পি/ই) অনুপাত ১৫ এর বেশি হতে পারবে না। একইসঙ্গে শেয়ারের নির্দেশক মূল্য কোম্পানির শেয়ার প্রতি এনএভির ৫ গুণের নিচে থাকতে হবে।
এছাড়া মূল্য নির্ধারণে কোম্পানির তিন বছরের আয়ের গড়ের ভিত্তিতে পিই নির্ধারিত হবে। নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের লক্ষ্যে রোড শো’ আয়োজনের কমপক্ষে ৫ দিন আগে কোম্পানির বিবরণীর (প্রসপেক্টাস) খসড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের কাছে পাঠাতে হবে। তবে এতে কোনোভাবেই নির্দেশক মূল্যের কোনো প্রস্তাব করা যাবে না। এছাড়া কোম্পানির আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনার জন্য আইসিএবি, আইসিএমএবি, দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে এতে কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি থাকতে পারবেন না বলে খসড়া প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিশনের প্রস্তাবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দর প্রস্তাব (বিডিং) প্রক্রিয়ার মধ্যে বরাদ্দ শেয়ার বিক্রির নিষেধাজ্ঞা ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৬০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

Source: sheershanews.com, 22 March, 2011

প্লেসমেন্ট বাণিজ্য: ব্যাপক ক্ষতির মুখে বড় বিনিয়োগকারীরা

প্রাইভেট প্লেসমেন্টের নামে পুঁজিবাজারে অনৈতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে কয়েকটি কোম্পানি হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন প্লেসমেন্টধারীরা। পুঁজিবাজারের বিপর্যয় অথবা কারসাজির কারণে সব সময় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির শিকার হলেও এবার বড় বিনিয়োগকারীরাও বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) প্রস্তাব অনুযায়ী বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংশোধন হলে কমপক্ষে হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির শিকার হবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় থাকা বিভিন্ন কোম্পানির প্লেসমেন্টধারী বড় বিনিয়োগকারী। এদিকে, বেআইনিভাবে স্টক এক্সচেঞ্জের বাইরে উচ্চমূল্যে প্লেসমেন্ট বিক্রি করলেও পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় সেসব শেয়ার ফেরত নেয়ার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তবে, মূলধন বৃদ্ধির অনুমোদনের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) নিজেই অবৈধ প্লেসমেন্ট ব্যবসার সুযোগ করে দেয়ার মাধ্যমে কিছু কোম্পানিকে বেআইনিভাবে লাভবান করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, এসব প্লেসমেন্টধারীর অধিকাংশই পুঁজিবাজারের বড় বিনিয়োগকারী, স্টক ব্রোকার ও সরকারের বিভিন্ন প্রভাবশালী কর্মকর্তা। ২০১০ সালে শেয়ারের অতি মূল্যায়নের ফলে পুঁজিবাজার থেকে বিপুল পরিমাণের অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করে। পুঁজি সংগ্রহের প্রাথমিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এসব কোম্পানি এসইসির নিকট থেকে মূলধন বৃদ্ধির অনুমোদন নেয়। কমিশন থেকে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডার বা নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য শেয়ার বরাদ্দের অনুমোদন দেয়া হলেও অনেক কোম্পানি অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে গণহারে প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করছে। এক্ষেত্রে শেয়ারের মালিকানা হস্তান্তরের নির্ধারিত ফরমে (১১৭) আগাম স্বাক্ষর দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অনৈতিক। মূলধন বৃদ্ধির অনুমোদন পাওয়া এসব কোম্পানি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের স্টক ব্রোকার, ডিলার, বড় বিনিয়োগকারীসহ সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বর্ধিত মূলধন উচ্চমূল্যে বিক্রি করে। এতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো প্লেসমেন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করে হাজার হাজার কোটি টাকার শেয়ার।
ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের (ডিএসই) হিসাব মতে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ১৪টি কোম্পানি রোড শো করেছে। জানা গেছে, এসব কোম্পানির প্রায় প্রতিটি বিক্রি করছে শত শত কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার। ডিএসইর তালিকার বাইরে অন্তত ১০টি কোম্পানি রয়েছে যারা প্লেসমেন্ট বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণের অর্থ পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করেছে। এরমধ্যে একমাত্র ইউনিক হোটেল এন্ড রিসোর্ট লিমিটেডকে এসইসি আইপিও’র অনুমোদন দিয়েছিল। যদিও পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে সে আইপিও অনুমোদন বাতিল হয়ে যায়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বড় ধরনের প্লেসমেন্ট বিক্রি করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেড, ইউনিক হোটেল এন্ড রিসোর্ট লিমিটেড, লংকা বাংলা সিকিউরিটিজ, জিএমজি এয়ারলাইন্স, এসটিএস হোল্ডিংস (এপোলো হাসপাতাল), আনন্দ শিপইয়ার্ড অন্যতম। এসব প্রতিষ্ঠান প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করেছে বলে জানা যায়। বিতর্কিত বুক বিল্ডিং পদ্ধতির আশ্রয় নিয়ে এসব কোম্পানি উচ্চমূল্যে এ প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করেছে। এছাড়াও নাভানা রিয়েল এস্টেট, এলায়েন্স হোল্ডিংস, কেওয়াসিআর কয়েল, সামিট শিপিং, গোল্ডেন হারভেস্ট এগ্রো ইন্ড্রাস্ট্রিজ, ফারইস্ট নিটিং এন্ড ডাইং, পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ বিপুল পরিমাণের প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করেছে। এসব কোম্পানি বুক বিল্ডিং পদ্ধতি ছাড়াও ফিঙ্ড প্রাইস পদ্ধতিতে তালিকাভুক্তির জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। তবে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক ধসের কারণে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া বাতিল করা হলে এসব কোম্পানির প্লেসমেন্টধারীরা বিপাকে পড়েন। দীর্ঘ সময়ের জন্য বিনিয়োগ করা অর্থ আটকে যাওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে তৈরি হয়েছে নতুন সঙ্কট। পূর্বের বুক বিল্ডিং পদ্ধতি বাতিল করে নতুনভাবে সংশোধণের যে প্রস্তাব এসেছে তাতে এসব প্লেসমেন্টধারীরা বিপুল পরিমাণের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। এসইসির প্রস্তাবানুযায়ী, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কোনো কোম্পানির শেয়ারের দর নির্ধারনের ক্ষেত্রে পিই রেশিও সর্বোচ্চ ১৫ অথবা শেয়ারের সম্পদ মূল্যের ৫ গুণ পর্যন্ত বলা হয়েছে। তবে এসইসির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পিই রেশিও অথবা সম্পদ মূল্যের মধ্যে যেটি কম হবে সেটিই শেয়ারের নির্দেশক মূল্য ধরতে হবে। নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসইসির এ প্রস্তাব গৃহীত হলে শেয়ারের দর যৌক্তিক পর্যায়ে থাকবে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, এ পদ্ধতি কার্যকর করা হলে তালিকাভুক্তির সময়েই শেয়ারের অতি মূল্যায়নের বিষয়টি আর থাকবে না। যেমনটি পূর্বে কয়েকটি কোম্পানির তালিকাভুক্তির সময়ে অতিমূল্যায় হয়েছিল।
জানা যায়, উল্লেখিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ প্লেসমেন্ট বরাদ্দ দিয়েছে ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেড। কোম্পানিটি তার পরিশোধিত মূলধন থেকে ৭৫ কোটি টাকার শেয়ার প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিক্রি করেছে ৫শ ২৫ কোটি টাকায়। ঘোষণা অনুযায়ী প্লেসমেন্ট বরাদ্দের ক্ষেত্রে ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেড ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ার বিক্রি করেছে ৭৫ টাকায়। তবে, কয়েক হাত ঘুরে এ শেয়ার আরো বেশি দরে বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১০ সালে এ কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হচ্ছে ৩ দশমিক ৪১ টাকা। সম্পদ পুনঃমূল্যায়নের পর এ কোম্পানির শেয়ার প্রতি সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৩৭ টাকা। এসইসির প্রস্তাব অনুযায়ী বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংশোধন হলে এ কোম্পানির নির্দেশক মূল্য হবে ৫১ দশমিক ১৫ টাকা। এরপর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে শেয়ারের দর ২০ শতাংশ কম-বেশি হতে পারে। সেক্ষেত্রে শেয়ারের দর সর্বোচ্চ ৬১ দশমিক ৩৮ টাকা হতে পারে। এ হিসাবে প্লেসমেন্টধারীর শেয়ার প্রতি লোকসান হবে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ৬২ টাকা।
প্লেসমেন্ট বিক্রির ক্ষেত্রে এরপরের অবস্থান হচ্ছে ইউনিক হোটেল এন্ড রিসোর্ট লিমিটেডের। কোম্পানিটি পরিশোধিত মূলধন থেকে মাত্র ৩০ কোটি টাকার শেয়ার প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিক্রি করেছে ৪শ ৮০ কোটি টাকায়। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ার প্লেসমেন্টে বিক্রি করেছে ১শ ৬০ টাকায়। এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য ধরা হয়েছে ১শ ৮৫ টাকা। ডিএসইর ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১০ সালের ছয় মাসের প্রতিবেদনে এ কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় সর্বোচ্চ ৬ টাকা দেখানো হয়েছে। যদিও পূর্ববর্তী বছরগুলোর সাথে ২০১০ সালের এ পরিসংখ্যান মেলানো দুস্কর। ২০০৯ সালে এ কোম্পানির ইপিএস ২ দশমিক ০৬ টাকা, ২০০৮ সালে দশমিক ৫৪ টাকা এবং ২০০৭ সালে ইপিএস ছিল দশমিক ২২ টাকা। যদি ২০১০ সালের ইপিএস ধরা হয়, তাহলে এসইসির বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংশোধনীর প্রস্তাব অনুযায়ী এ কোম্পানির নির্দেশক মূল্য সর্বোচ্চ ৯০ টাকা হতে পারে। সেক্ষেত্রে এ কোম্পানির প্লেসমেন্টধারীরা বিনিয়োগের প্রায় অর্ধেক পরিমাণ অর্থ লোকসানের সম্মুখীন হবেন।
একইভাবে লংকা বাংলা সিকিউরিটিজ, জিএমজি এয়ারলাইন্স, এসটিএস হোল্ডিংস (এপোলো হাসপাতাল), নাভানা রিয়েল এস্টেট, এলায়েন্স হোল্ডিংস, কেওয়াসিআর কয়েল, সামিট শিপিং, গোল্ডেন হারভেস্ট এগ্রো ইন্ড্রাস্ট্রিজ, ফারইস্ট নিটিং এন্ড ডাইং, পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজের প্লেসমেন্ট শেয়ার কিনে শত শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে চলেছেন পুঁজিবাজারের বড় বিনিয়োগকারীরা।
এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেন, প্লেসমেন্ট এমনিতেই একটি অনৈতিক বাণিজ্য। এসইসির কারণেই পুঁজিবাজারে রমরমা প্লেসমেন্ট বাণিজ্য হয়েছে। মার্কেটের শেয়ারের অতি মূল্যায়নের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা প্লেসমেন্ট শেয়ার কিনে যদি কেউ লোকসানে পড়েন তাহলে কি বলার আছে। কারণ এ বাণিজ্য তো স্টক এঙ্চেঞ্জের বাইরে হয়েছে। তিনি বলেন মূলত প্লেসমেন্টের শেয়ারের ক্রেতা ছিলেন কিছু বড় বিনিয়োগকারী এবং স্টক ব্রোকাররা। যদি বুক বিল্ডিং আইন সংশোধন হয় তাহলে তাদের আর্থিক ক্ষতির সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

Source: sheershanews.com, 22 March, 2011