Monthly Archives: November 2010

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ২ কোম্পানির ৯৪৩ কোটি টাকার আইপিও অনুমোদন

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে দুই কোম্পানির ৯৪৩ কোটি টাকার আইপিও অনুমোদন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।

বৃহস্পতিবার এসইসির কমিশন সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। কোম্পানি ২টি হলো মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্ট বাংলাদেশ লিমিটেড (এমজেএলবিএল) ও এম আই সিমেন্ট লিমিটেড। এদের মধ্যে মবিল যমুনার আইপি‘র আকার ৬০৯ কোটি টাকা এবং এম আই সিমেন্টের আকার ৩৩৪ কোটি টাকা।

কমিশনের বৈঠক শেষে এসইসির নির্বাহি পরিচালক এটিএম তারিকুজ্জামান বলেন, যমুনা মবিল ৬০৯ কোটি টাকার আইপিও’র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি পুঁজিবাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আইপিও। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৪ কোটি শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়বে। প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য ধরা হয়েছে ১৫২.৪০ টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে ১৪০ কোটি টাকা।

অন্যদিকে অনুমোদন পাওয়া এম আই সিমেন্ট পুঁজিবাজার থেকে ৩৩৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের পরিমাণ ৩ কোটি। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য হচ্ছে ১১১.৬০ টাকা। কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৭০ কোটি টাকা। আইপিও পরবর্তিত পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা।

Source: banglanews24.com.bd, 28 Nov, 2010

Book-building rules altered

Some changes have been brought about in book-building method.

The Securities and Exchange Commission at a meeting presided over by its Chairman Ziaul Haque Khondker yesterday decided to go for such changes to make the pricing mechanism more transparent.

As per the amendments, the companies seeking to go public in line with the book-building are not allowed to mention expec-ted or future earnings in the prospectuses.

“Institutional investors will determine the indicative price of a company’s shares analysing the previous years’ earnings,” said Farhad Ahmed, the spokesman and an executive director of SEC.

He said such investors who will intend to participate in the bidding to discover a company’s share price, they will have to inform the Dhaka and Chittagong stock exchanges, Bangladesh Association of Publicly Listed Companies, Bangladesh Merchant Bankers Association and Bangladesh Insurance Association at least five days before the bidding.

The bidders will also have to

participate in the road show organised by an issuer company or an issue manager, he said.

Ahmed said from now on IPO process under book-building method will have to be completed within 15 days of the bidding time, instead of 25 days.

The SEC official said the commission also decided to cut the bidding period to two days from five days.

Source: The Daily Star, 28 Nov, 2010

অস্তিত্ব সঙ্কটে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত!

সব ধরনের বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহের কারণে পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের ভবিষ্যত নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রাইভেট পেস্নসমেন্ট, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) এবং সেকেন্ডারি মার্কেটে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে মিউচু্যয়াল ফান্ডের কদর। মাত্র এক বছর আগেও পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে মিউচু্যয়াল ফান্ডের ইউনিট বরাদ্দ পেতে ব্যাপক প্রতিযোগিতা থাকলেও এখন ফান্ড ব্যবস্থাপকদের ধর্ণা দিতে হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দ্বারে দ্বারে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ না থাকায় মিউচু্যয়াল ফান্ডের আইপিওতে নির্ধারিত ইউনিটের চেয়ে কম আবেদন পড়ছে (আন্ডার সাবস্ক্রাইবড)।
ইসলামী ফাইন্যান্স মিউচু্যয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকারীদের। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই মিউচু্যয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের জন্য কোন বিনিয়োগকারীই আর আগ্রহী হবেন না। আর এ আশঙ্কা সত্যি হলে পুঁজিবাজারের জন্য অত্যনত্ম গুরম্নত্বপূর্ণ এ খাতটি অসত্মিত্ব সঙ্কটে পড়বে বলে মনে করছেন সংশিস্নষ্টরা।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচু্যয়াল ফান্ড ইউনিটের দর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের অক্টোবরে এ খাতের জন্য মার্জিন ঋণ সুবিধা বাতিল করেছিল এসইসি। পাশাপাশি ১০ বছর অতিক্রানত্ম মেয়াদহীন ফান্ডগুলো বিলুপ্তির ঘোষণা এবং একাধিক মামলা নিয়ে জটিলতার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিউচু্যয়াল ফান্ডের প্রতি অনাগ্রহ তৈরি হয়। এর মধ্যে তিন দফায় সীমিত আকারে ঋণ সুবিধা বাড়ানো হলেও সামগ্রিক লেনদেনে কোন প্রভাব পড়েনি। কারণ মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো মিউচু্যয়াল ফান্ড লেনদেনে ঋণ সুবিধা বন্ধ রেখেছে।
মিউচু্যয়াল ফান্ডের বাজার মূল্য এর প্রকৃত সম্পদ মূল্যের (এনএভি) তুলনায় ১৫০ শতাংশ বেশি না হলে ওই ফান্ডের বিপরীতে মার্জিন ঋণ প্রদানের সুযোগ দিয়েছে এসইসি। এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০টি মিউচু্যয়াল ফান্ডের মধ্যে সর্বশেষ বাজার মূল্য অনুযায়ী ২৮টি ফান্ডই ঋণ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠানই গ্রাহকদের ঋণ দিচ্ছে না। গ্রাহকদের অভিযোগ, মিউচু্যয়াল ফান্ড ইউনিট কেনার জন্য ঋণ সুবিধা চাইলেও সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অপারগতা প্রকাশ করছে। এজন্য একেক হাউসে একেক কারণ দেখানো হচ্ছে। তবে অধিকাংশ ৰেত্রেই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধানত্মেই ঋণ সুবিধা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সেকেন্ডারি মার্কেটের পাশাপাশি আইপিওর ৰেত্রেও মিউচু্যয়াল ফান্ডের প্রতি অনাগ্রহী হয়ে উঠেছেন বিনিয়োগকারীরা। ২০০৯ সালে বাজারে আসা ফান্ডগুলোর আইপিওতে যেখানে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি আবেদন জমা পড়েছে, সেখানে গত তিন মাসে বাজারে আসা মিউচু্যয়াল ফান্ডগুলোতে আবেদন জমা পড়েছে নির্ধারিত ইউনিটের চেয়ে সামান্য বেশি। তবে কয়েকটি মিউচু্যয়াল ফান্ডের ৰেত্রে স্থানীয় ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের কোটায় বরাদ্দকৃত ইউনিটের চেয়ে কম আবেদন জমা পড়েছে। মিউচু্যয়াল ফান্ড কোটায় বেশি আবেদন পড়ায় সামগ্রিকভাবে আবেদনের পরিমাণ নির্ধারিত ইউনিটের তুলনায় সামান্য বেশি হয়েছে।
শুধু তাই নয়, সর্বশেষ কয়েকটি মিউচু্যয়াল ফান্ডের পেস্নসমেন্টের ইউনিট বরাদ্দ নেয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীদের কাছে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানকে ধর্ণা দিতে হয়েছে বলে শোনা যায়। অথচ পেস্নসমেন্টে মিউচু্যয়াল ফান্ডের ইউনিট বরাদ্দ পেতে কয়েক মাস আগেও নানা অনৈতিক প্রতিযোগিতা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে এসইসির এক উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, শেয়ারবাজারে মিউচু্যয়াল ফান্ডের পরিমাণ যত বাড়বে, বাজার তত বেশি স্থিতিশীল ও ঝুঁকিমুক্ত হবে। কারণ মিউচু্যয়াল ফান্ডের উদ্যোক্তারা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মূলধন নিয়ে তহবিল গঠন করে তা আবার শেয়ারবাজারেই বিনিয়োগ করে। এৰেত্রে নিয়মিত পর্যবেৰণের মাধ্যমে কোম্পানির মৌল ভিত্তি এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে মিউচু্যয়াল ফান্ডগুলো কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করে। শেয়ারের অতিমূল্যায়ন বা অবমূল্যায়ন রোধে মিউচু্যয়াল ফান্ডগুলো প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে ফান্ডগুলো যে মুনাফা অর্জন করে, তার পুরোটাই আনুপাতিকহারে বিনিয়োগকারীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। ফলে মিউচু্যয়াল ফান্ডের পুরো অর্থও ঘুরেফিরে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হয়।
এ কারণে শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক তহবিলের গুরম্নত্ব বাড়াতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যেই মিউচু্যয়াল ফান্ডের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কমিশনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পুঁজিবাজারের বিনিয়োগের গভীরতা বাড়াতে প্রতি মাসে কমপৰে দু’টি নতুন মিউচু্যয়াল ফান্ড অনুমোদনের নীতিগত সিদ্ধানত্ম নিয়েছে এসইসি। সেই আলোকে নিয়মিতভাবেই একের পর এক মিউচু্যয়াল ফান্ড বাজারে আসছে। এই অবস্থায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ না থাকলে মিউচু্যয়াল ফান্ড নিয়ে মন্ত্রণালয় ও এসইসির এই প্রচেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Source: The Daily Janakantha, 24 Nov, 2010

শেয়ার অফলোডের অগ্রগতি বিষয়ে বৈঠক আজ

অব্যাহত শেয়ার সঙ্কটের মুখে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সরকারি কোম্পানির শেয়ার অফলোডের অগ্রগতি জানতে আজ বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। আজ বিকেলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার এবং শিল্প, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ ও নৌ-পরিবহন সচিব, রূপালী ব্যাংক ও ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত থাকবেন।
শেয়ার সঙ্কটের কারণে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে তালিকাভুক্ত সরকারি কোম্পানিগুলোর আরো শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়া হবে বলে গত ৩১ অক্টোবর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ঘোষণা দিয়েছিলেন। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ হতে শেয়ার অফলোডের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। তবে আরো শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা দেয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৯টি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে শেয়ার বিক্রির বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলো চূড়ান্ত পর্যায়ে কাজ শুরু করতে পারেনি। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পার হলেও তালিকাভুক্ত এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার অফলোড করা যায়নি। এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ এসইসির চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। দ্রুত পুঁজিবাজারে ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সরকারের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে কেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কোম্পানিগুলো শেয়ার অফলোড করতে ব্যর্থ হলো সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে বলেও জানা গেছে।
তালিকাভুক্ত এসব কোম্পানির শেয়ারের পরিমাণ হবে- রূপালী ব্যাংকের ২৪ শতাংশ, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ১৭.৫ শতাংশ, পাওয়ার গ্রিডের ১৬.২৫ শতাংশ, ডেসকোর ১৫ শতাংশ, তিতাস গ্যাসের ১৫ শতাংশ, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ১৭ শতাংশ, যমুনা অয়েলের ১৭ শতাংশ, ন্যাশনাল টিউবসের ১.৯৪ শতাংশ এবং ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টের ১৭.৩০ অংশ। ইতিমধ্যেই পদ্মা অয়েল, উসমানিয়া গ্লাস এবং এটলাস বাংলাদেশের ৪৯ শতাংশের মতো শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ছেড়ে দেয়ায় নতুন করে এসব কোম্পানির কোনো শেয়ার
বিক্রি করা হবে না।

Source: http://www.sheershanews.com , 24 November, 2010

৯ কোম্পানির ৪ হাজার কোটি টাকার শেয়ার ছাড়ছে সরকার

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৯টি কোম্পানির আরও ৪ কোটি ১২ লাখ ৯৪ হাজার ২৫৪টি শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমান বাজার দরে এসব শেয়ারের সর্বমোট মূল্য প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। শেয়ারবাজারে জমে ওঠা বিপুল পরিমাণ মূলধনকে জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাজারে বিদ্যমান শেয়ার সঙ্কট কাটাতে সরকারী শেয়ার বিক্রির এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রূপালী ব্যাংকের অতিরিক্ত ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রির মধ্য দিয়ে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু হবে। আগামী ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে বলে সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সরকারী শেয়ার বিক্রির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রবিবার সাংবাদিকদের জানান, সামগ্রিক প্রস্তুতির জন্য কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যেই তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাজারে ছাড়া শুরু হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের প্রেৰিতে গত ৩১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তালিকাভুক্ত সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারের হাতে থাকা শেয়ারের একাংশ বিক্রির অনুমোদন দিয়েছেন। একইসঙ্গে পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তালিকাভুক্তির প্রস্তাবও অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে লিখিত অনুমোদন পাওয়ার পর গত ২ নবেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে তালিকাভুক্ত ৮টি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণকারী ৪ মন্ত্রণালয় এবং রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি দেয়া হয়। চিঠিতে ১৫ দিনের মধ্যে সংশিস্নষ্ট কোম্পানিগুলোর নির্ধারিত পরিমাণ শেয়ার বিক্রির বিষয়ে সরকারী সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তা বাস্তবায়ন করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়।
জানা গেছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে রূপালী ব্যাংকের সর্বোচ্চ ২৪.৫৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করা হবে। বর্তমানে এ ব্যাংকের ৯৪.৫৫ শতাংশ শেয়ার সরকারের হাতে রয়েছে। সরকারের এ শেয়ার থেকে সর্বমোট ৩০ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫০টি বিক্রি করা হবে।
সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর ইতোমধ্যে রূপালী ব্যাংকের শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া শুরম্ন হয়েছে। গত ১০ নবেম্বর রূপালী ব্যাংকের পৰ থেকে শেয়ার ছাড়ার অগ্রগতি বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়। ১৫ নবেম্বর মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে রূপালী ব্যাংকের শেয়ার দ্রম্নত অফলোডের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়ে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এবং ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) নির্দেশনা দেয়া হয়। ব্যাংকটির অতিরিক্ত শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া চূড়ানত্ম পর্যায়ে রয়েছে। এ সপ্তাহের মধ্যেই রূপালী ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি শুরম্ন করা হবে।
অন্যদিকে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন যমুনা অয়েল কোম্পানির ১৭ শতাংশ (৭৬ লাখ ৫০ হাজার), মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ৭৮ লাখ ৫৪ হাজার), ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টের ১৭.৩০ শতাংশ (১ লাখ ৭১ হাজার ৯৬২), তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ১৫ শতাংশ (১ কোটি ২৮ লাখ ৪৭ হাজার ৩৭), বিদু্যত বিভাগের আওতাধীন ঢাকা ইলেকট্রিক সাপস্নাই কোম্পানির (ডেসকো) ১৫ শতাংশ (২৪ লাখ ২ হাজার ৫৫৭), পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ১৬.২৫ শতাংশ (৬৯ লাখ ২০ হাজার ৮১৯), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ১৭.৫০ শতাংশ (৩ লাখ ৫০ হাজার) এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল টিউবস লিমিটেডের ১.৯৪ শতাংশ (২৯ হাজার ১২৯) শেয়ার বিক্রি করা হবে।
সর্বশেষ বাজার দর অনুযায়ী যমুনা অয়েলের শেয়ার বিক্রি করে সরকার পুঁজিবাজার থেকে ২৯৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ার থেকে ২১২ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টের শেয়ার থেকে ১৩ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ৩৬০ টাকা, তিতাস গ্যাসের শেয়ার বিক্রি করে ১ হাজার ২৯৮ কোটি ৮৩ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৭ টাকা, ডেসকোর শেয়ার থেকে ৫৬৫ কোটি ৮০ লাখ ২১ হাজার ৭৩৫ টাকা, পিজিসিবি থেকে ৮০১ কোটি ৪৩ লাখ ৮ হাজার ৪০২ টাকা, ন্যাশনাল টিউব থেকে ৪ কোটি ৩৪ লাখ ২ হাজার ২১০ টাকা, বিএসসি থেকে ১১৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং রূপালী ব্যাংকের নির্ধারিত পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করে ৬১২ কোটি ৮২ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫০ টাকা সংগ্রহ করতে পারবে। সব মিলিয়ে ৯টি কোম্পানির ৪ কোটি ১২ লাখ ৯৪ হাজার ২৫৪টি শেয়ার বিক্রি করে বর্তমান বাজারমূল্যে সরকার ৩ হাজার ৯১৮ কোটি ৭৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৬৪ টাকা সংগ্রহ করতে পারবে, যা সরকারের বাজেট বাসত্মবায়নে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেস্নষকরা মনে করেন।
সূত্র জানায়, ডিসেম্বরের আগে রূপালী ব্যাংক ছাড়া অন্য কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রি শুরম্ন করা সম্ভব নাও হতে পারে। সংশিস্নষ্ট কোম্পানির সরকারী শেয়ারের তত্ত্বাবধায়নকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ চূড়ানত্মভাবে অনুমোদন করার পর স্বল্পসময়ের মধ্যেই শেয়ার বিক্রি প্রক্রিয়া শুরম্ন করা হবে। সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি শেষ হলে শেয়ার বিক্রির জন্য দু’তিন দিন সময় লাগবে। প্রস্তুতি শেষ করে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার বিক্রি শুরম্ন হতে পারে।
আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রউফ জানান, তালিকাভুক্ত সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডে বিও হিসেব খোলা রয়েছে। এমনকি এসব কোম্পানির শেয়ারের ডিমেট প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা আছে। সংশিস্নষ্ট কোম্পানিগুলো শেয়ার ছাড়তে চাইলে মাত্র দু’দিনের মধ্যেই তা করা সম্ভব।
উলেস্নখ্য, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ৬ মাসের মধ্যে ২৬টি সরকারী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে ছাড়ার নির্দেশ দেন। এর মধ্যে কয়েকটি কোম্পানিকে মে মাসে এবং বাকিগুলোকে জুন মাসের মধ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য সময় বেঁধে দেয়া হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকারী বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) দায়িত্ব দেয়া হয়। শেয়ার ছাড়ার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য গত ২০ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক থেকেও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আলাদা আলাদাভাবে সময় নির্ধারণ করা হয়। তবে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এখন পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

Source: The Daily Janakantha, 22 Nov, 2010

Six listed SoEs asked to state their shares offloading status

The Ministry of Finance (MoF) has asked six listed state-owned enterprises (SoEs) to inform the ministry about their status of offloading additional shares.

It also has decided to offload another 24.55 per cent shares of Rupali Bank in a move to increase supply of good fundamental shares to the overheated market. General investors hold 5.45 per cent shares of the bank.

In a recent letter, the MoF has told the concerned SoEs to submit reports on their share-offloading status to the Bank and Financial Institution Division of the MoF.

The companies, which have been asked to proceed on offloading additional shares, are Jamuna Oil, Meghna Petrolium, Eastern Lubricants, Titas Gas Transmission and Distribution Company Limited, DESCO and Power Grid.

In the letter sent to the SoEs, the MoF has fixed the number of additional shares, which will have to be offloaded as per government’s decision.

According to the letter of MoF sent to energy and mineral resources division, the government will offload 17 per cent shares of Jamuna Oil, 17 per cent shares of Meghna Petrolium, 17.30 per cent shares of Eastern Lubricants and 15 per cent shares of Titas Gas.

The finance ministry has also asked the Power Division to offload 15 per cent and 16.25 per cent shares of DESCO and Power Grid respectively.

At present the government is holding 70 per cent shares of Jamuna Oil, 70 per cent shares of Meghna Petroleum, 87.3 per cent shares of Eastern Lubricants, 75 per cent shares of Titas Gas, 75 per cent shares DESCO and 76.25 per cent shares of Power Grid.

Finance Minister Abul Maal Abdul Muhith Sunday said the ministry will sit with the companies within next three or four days as they are making delay in offloading their shares.

“We instructed them to offload shares but they are yet to comply with the directive,” he said adding: “We want to know what is the problem and we will settle this thing.”

The letter added that the Prime Minister had approved the proposal of offloading the additional amount of shares of concerned SoEs.

The copies of letters have also been sent to the Securities and Exchange Commission (SEC).

In another letter sent to the SEC and Investment Corporation of Bangladesh (ICB), the MoF sought their help to offload additional 24.55 per cent shares of Rupali Bank Limited.

Presently, the government is holding 94.55 per cent shares of Rupali Bank.

Source: The financial express, 22 November, 2010

শেয়ারবাজারে আসছে র‌্যাডিসন ওয়াটার গার্ডেন হোটেল

শেয়ারবাজারে আসছে পাঁচ তারকা র‌্যাডিসন ওয়াটার গার্ডেন হোটেল, ঢাকা। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বাজারে শেয়ার বিক্রি করবে প্রতিষ্ঠানটি। অভিহিত মূল্যে যার পরিমাণ ৩০ কোটি টাকা। শেয়ার সংখ্যা তিন কোটি। শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। শেয়ার বিক্রি থেকে সংগৃহীত অর্থে চট্টগ্রামে নতুন একটি হোটেল স্থাপন করা হবে। র‌্যাডিসনের আইপিও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এ ছাড়াও আরও পাঁচটি কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
র‌্যাডিসন ওয়াটার গার্ডেন হোটেল ঢাকার বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৬০ কোটি টাকা। শিগগিরই প্রতিষ্ঠানটি রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন দ্বিগুণে অর্থাৎ ১২০ কোটি টাকায় উন্নীত করবে। কোম্পানির উদ্যোক্তা আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এবং সেনাকল্যাণ সংস্থা। এর মধ্যে আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ৮০ শতাংশ এবং সেনাকল্যাণ সংস্থা ২০ শতাংশ শেয়ারের মালিক। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ইতিমধ্যে শেয়ার ইস্যু এবং আইসিবিকে ইস্যু ম্যানেজারের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। শিগগিরই আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে জানিয়েছেন আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রউফ।
রাজধানীর এয়ারপোর্ট রোডে অবস্থিত র‌্যাডিসন ওয়াটার গার্ডেন হোটেল ঢাকা দেশের অপেক্ষাকৃত নবীন ও সর্বাধুনিক হোটেল। এর পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে আন্তর্জাতিক হোটেল চেইন র‌্যাডিসন, যারা বিশ্বব্যাপী ২৪০টি হোটেল পরিচালনা করছে।
র‌্যাডিসন ছাড়া সরকারি-বেসরকারি আরও পাঁচটি কোম্পানির শেয়ার ইস্যুর কাজ করছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট। কোম্পানিগুলো হচ্ছে_ ওরিয়ন ল্যাবরেটরিজ, এনার্জি প্রিমা, নাভানা রিয়েল এস্টেট, হোটেল শেরাটন, সাবমেরিন কেবল, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) এবং প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে শেয়ার বিক্রি করবে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৬৭ কোটি টাকা। শেয়ার সংখ্যা ছয় কোটি ৭০ লাখ। শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে ত্রিশ কোটি টাকা মূল্যের তিন কোটি শেয়ার ইস্যু করবে। কোম্পানির আইপিও পরবর্তী মূলধন হবে ৯৭ কোটি টাকা।
সাবেক টেলিগ্রাফ অ্যান্ড টেলিফোন বোর্ডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল ২০০৮ সালে একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এর ব্যান্ডউইথ (তথ্য আদান-প্রদান) ক্ষমতা সেকেন্ডে ৪৪ দশমিক ৬০ গিগাবাইট। বর্তমানে এ ক্ষমতার মাত্র ২৫ ভাগ ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশে তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে দ্রুতই এর কার্যক্ষমতার ব্যবহার বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। কার্যক্ষমতার মাত্র ২৫ শতাংশ ব্যবহার সত্ত্বেও ২০০৮-০৯ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ১১ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে শেয়ার বিক্রি করবে ওরিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড। দেশের অন্যতম শীর্ষ এই ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে শতভাগ রফতানিমুখী একটি নতুন ইউনিট স্থাপন করবে। কোম্পানির ভাষ্য অনুসারে বিনিয়োগের পরিমাণ, ফ্যাক্টরি এলাকা এবং উৎপাদিত ওষুধের সংখ্যার দিক থেকে এটি হবে দেশের সবচেয়ে বড় ওষুধ কারখানা। ওষুধ মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ, যুক্তরাজ্যের এমএইচআরএ, কানাডার হেলথ কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার টিজিএর গ্রহণযোগ্য মান নিশ্চিত করা হবে কোম্পানিটির নতুন প্রকল্পে। এছাড়া সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ বিনিয়োগ করা হবে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে।
আলোচিত কোম্পানিগুলোর শেয়ার ইস্যু বিষয়ে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রউফ বলেন, বাজারে শেয়ার সরবরাহ বাড়াতে তার প্রতিষ্ঠান সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একসঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ইস্যুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেলে একে একে এসব কোম্পানি বাজারে আসবে।

Source: The Daily Samakal, 21 Nov, 2010

বিদ্যুত ও অবকাঠামো খাতে বুকবিল্ডিংয়ের শর্ত শিথিল

1জাতীয় উন্নয়নে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচিত বিদ্যুত, গ্যাসসহ অবকাঠামো খাতের কোম্পানির জন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির শর্ত শিথিল করেছে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এখন থেকে এক বছর লাভজনকভাবে উৎপাদনে থাকলেই এসব খাতের কোম্পানি বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করে পুঁজিবাজারে আসতে পারবে। বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) প্রসত্মাবের ভিত্তিতেই সংশিস্নষ্ট বিধিমালা সংশোধন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের পর পুঁজিবাজারে আসতে হলে সাধারণভাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নূ্যনতম তিন বছরে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকতে হয়। শুধু তাই নয়, এই তিন বছরের মধ্যে নূ্যনতম দুই বছর মুনাফা অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি এসইসিতে আবেদন করার সময় প্রতিষ্ঠানটির কোন পুঞ্জীভূত লোকসান থাকা চলবে না। বিদু্যত, গ্যাসসহ অবকাঠামো খাতের নতুন কোম্পানিগুলোর জন্য এসব শর্ত পূরণ করা সম্ভব ছিল না। কারণ বাংলাদেশে বেসরকারী খাতে বিদু্যত উৎপাদন এবং অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ খুব বেশি দিন আগের নয়। তাছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচনের লৰ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করতে বিদু্যত ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন। এৰেত্রে দেশের পুঁজিবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিদু্যত ও গ্যাসসহ অবকাঠামো খাতের জন্য বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারণের শর্ত শিথিল করা হলো। তবে অন্যান্য খাতের কোম্পানির জন্য আগের সব শর্তই বহাল থাকবে।
এসইসি কর্মকর্তারা জানান, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গ্যাস, বিদু্যত ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারও এ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে বিদু্যত সমস্যা নিরসনের জন্য সরকার বেসরকারী খাতকে কাজে লাগানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অবকাঠামো খাতেও সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্ব (পিপিপি) গুরম্নত্ব পাচ্ছে। এ অবস্থায় এসব খাতের উদ্যোক্তাদের পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহে উৎসাহিত করতে বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংশিস্নষ্ট শর্ত কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে এসব খাতের শেয়ারের সরবরাহ বাড়বে, যা বাজারের বর্তমান শেয়ারের ঘাটতি পূরণে বেশ সহায়ক হবে বলে তাঁরা মনে করেন।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বিদু্যত ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির লৰ্যে সংশিস্নষ্ট আইন সংশোধনের জন্য বিএপিএলসি’র পৰ থেকে গত আগস্ট মাসে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বিদু্যত ও অবকাঠামো খাতের নতুন প্রকল্পগুলোকে আইপিওর মাধ্যমে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে আসার জন্য তিনটি শর্ত থেকে অব্যাহতি দেয়ার প্রসত্মাব করেছিল বিএপিএলসি। প্রসত্মাবগুলো হলো_ বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে আসতে হলে সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা হিসেবে অবশ্যই কোন তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে থাকতে হবে। উদ্যেক্তা কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন অবশ্যই ১৫০ কোটি টাকা হতে হবে। এ প্রতিষ্ঠানকে টানা ৭ বছর উৎপাদন অব্যাহত রেখে মুনাফা অর্জনের রেকর্ড থাকতে হবে। উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের কোন পুঞ্জীভূত লোকসান, খেলাপী আয়কর এবং খেলাপী ঋণ থাকা যাবে না। তবে গত ১৪ নবেম্বর জারি করা এসইসি’র প্রজ্ঞাপনে এসব বিষয়ে কোন সংশোধনী আনা হয়নি।
বিএপিএলসি’র প্রসত্মাব অনুযায়ী, নতুন কোম্পানির শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের ৰেত্রে উৎপাদন শুরম্নর ৫ বছরের সম্ভাব্য শেয়ার প্রতি আয়ের (ইপিএস) চেয়ে ১৫ গুণের মধ্যে সীমিত রাখার কথা বলা হয়। এৰেত্রে কোম্পানির আয় হিসাবের জন্য বিদু্যত ও জ্বালানি সরবরাহের লৰ্যে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিপি) বা পলস্নী বিদু্যতায়ন বোর্ডের (আরইবি) সঙ্গে স্বাৰরিত চুক্তিতে উলেস্নখিত দর এবং অবকাঠামো খাতের জন্য সরকারের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে আয় নির্ধারণের কথা বলা হয়। তবে এখন পর্যনত্ম এসব প্রসত্মাবের বিষয়ে কোন সিদ্ধানত্ম নেয়নি এসইসি।

Source: The Daily Janakantha, 21 Nov, 2010