৪৫০০ কোটি টাকার আইপিও আসছে

পুঁজিবাজারে শেয়ারের সঙ্কট কাটাতে আসন্ন ঈদের পর আসছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার আইপিও। এর মধ্যে তিনটি কোম্পানি ও দুটি মিউচুয়াল ফান্ড রয়েছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় শেয়ারের সরবরাহ অনেক কম। এছাড়া সামপ্রতিক সময়ে বাজারে যে ব্যাপক ধস নেমেছিল, শেয়ার সরবরাহ কম থাকা অন্যতম কারণ বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ইতিমধ্যে ওইসব কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া সরকারি কোম্পানির তালিকাভুক্তির জন্য এসইসি মূল্যায়নকারী নিয়োগ দিয়েছে বলে জানা গেছে। পুঁজিবাজারে ব্যাপক ধসের পরে পুনর্গঠিত করা হয় এসইসি। নতুন কমিশন আসার চার মাস পরে টেক্সটাইল খাতের জাহিন টেক্স ও খাদ্য খাতের কোম্পানি রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্ট লিমিটেডের প্রাথমিক আইপিও অনুমোদন দেয়া হয়। এসইসি সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানি দু’টি বাজার থেকে আইপিও’র মাধ্যমে যথাক্রমে ৫০ কোটি ও ৩০ কোটি টাকা তুলবে। এর মধ্যে জাহিন টেক্স ২ কোটি শেয়ার ছাড়বে। শেয়ারের প্রতি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ টাকা। এর মধ্যে ফ্যাস ভ্যালু ১০ টাকা ও প্রিমিয়াম ১৫ টাকা। কমিশনে সর্বশেষে জমা দেয়া আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ১.৮৩ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য (এনএভি) ৪৬.০১ টাকা। রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্ট লিমিটেড আইপিও’র মাধ্যমে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৪১ হাজার ৪০০ শেয়ার বাজারে ছেড়ে ২৯ কোটি ৪১ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা সংগ্রহ করবে। অবহিত মূল্য ১০ টাকা এবং প্রিমিয়াম নির্ধারণ ৮ টাকা। ওই দুই কোম্পানি ছাড়াও গত ফেব্রুয়ারি মাসে গঠিত বাংলাদেশ ফান্ড বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। জানা গেছে, আগামী ঈদুল ফিতরের পরই বাংলাদেশ ফান্ডের আইপিও কার্যক্রম শুরু হবে। তবে এ আইপিওর পর কোন লটারি হবে না। আবেদনকারী সবাই বাংলাদেশ ফান্ডের ইউনিট পাবেন। গত ১৭ই আগস্ট এসইসি এ ফান্ডের অনুমোদন দেয়। সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আইপিও মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করা হবে। বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে এ টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর আগে ৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে দেড় হাজার কোটি টাকা নিয়ে ফান্ডের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এ বছরের প্রথম দিকে শেয়ারবাজারে ভয়াবহ ধসের পরিপ্রেক্ষিতে তড়িঘড়ি করে উদ্যোক্তা অংশ দিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। বাংলাদেশ ফান্ড সম্পর্কে প্রধান উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামান বলেন, আমরা উদ্যোক্তারা পাঁচ হাজার কোটি টাকা থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছি। বাকি সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমোদন দিয়েছে এসইসি। ঈদের পর একটি রোড শো করা হবে। এরপর আইপিওর মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করা হবে। বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম মিউচুয়াল ফান্ডের ৫শ’ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে, যা গত চলতি মাসের শুরুতে এসইসি অনুমোদন দিয়েছে। ৫শ’ কোটি টাকার ফান্ডের মধ্যে উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে ২০০ কোটি টাকা। আর অবশিষ্ট ৩০০ বিনিয়োগকারীদের থেকে সংগ্রহ করা হবে। তবে বিনিয়োগকারীদের ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে ৫০ কোটি টাকা প্লেসমেন্টের মাধ্যমে এবং ২০০ কোটি টাকা সাধারণ  মানুষের কাছ থেকে তোলা হবে। ফান্ডটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। অন্যদিকে, বর্তমানে বাজারে তালিকাভুক্ত সুহূদ ইন্ডাস্ট্রিজ ১৪ কোটি টাকা ও সরকারি মালিকানাধীন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ৩১৩ কোটি টাকা আরপিও’র মাধ্যমে সংগ্রহ করবে। এছাড়াও পুঁজিবাজারে সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির লক্ষ্যে সম্পদ ও দায় পুনঃমূল্যায়নের জন্য ভ্যালুয়ার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ১১টি কোম্পানির দ্বারা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির লক্ষ্যে সরকারি কোম্পানিগুলোর সম্পদ ও দায় পুনঃমূল্যয়ন করা হবে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জে কমিশনের (এসইসি) গত ৩৯৪তম (জরুরি) কমিশন সভায় ভ্যালুয়ার কোম্পানিগুলোর নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাজারে শেয়ারে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকাটা পুঁজিবাজারের
সূচক ব্যাপক ওঠানামার জন্য দায়ী বলে মনে করেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। এ ব্যাপারে অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বাজার প্রতিদিন বড় হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের ডেকে আনা হচ্ছে। কিন্তু শেয়ার সরবরাহ করা হচ্ছে না। বর্তমান কমিশন যে আইপিও’র অনুমোদন দিয়েছে তা অপ্রতুল। তিনি বলেন, বড় বড় কোম্পানিকে বাজারে নিয়ে আসতে হবে। তাছাড়া বাজার স্থিতিশীল করা যাবে না। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে নতুন আইপিও’র কোন বিকল্প নেই। সরকারকে উদ্যোগী হয়ে সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিকে বাজারে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে হবে। শিল্পায়নের জন্য পুঁজিবাজারই উত্তম জায়গা বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

Source: Manabzamin

This entry was posted in News on by .

About bdipo Team

Started our journey in Jan 2009. A simple idea is getting bigger. A baby born and learning to walk, talk, imitate and express. This page is dedicated to that eternal urge of expression. The humane and emotional side of bdipo.