অস্তিত্ব সঙ্কটে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত!

সব ধরনের বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহের কারণে পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের ভবিষ্যত নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রাইভেট পেস্নসমেন্ট, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) এবং সেকেন্ডারি মার্কেটে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে মিউচু্যয়াল ফান্ডের কদর। মাত্র এক বছর আগেও পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে মিউচু্যয়াল ফান্ডের ইউনিট বরাদ্দ পেতে ব্যাপক প্রতিযোগিতা থাকলেও এখন ফান্ড ব্যবস্থাপকদের ধর্ণা দিতে হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দ্বারে দ্বারে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ না থাকায় মিউচু্যয়াল ফান্ডের আইপিওতে নির্ধারিত ইউনিটের চেয়ে কম আবেদন পড়ছে (আন্ডার সাবস্ক্রাইবড)।
ইসলামী ফাইন্যান্স মিউচু্যয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকারীদের। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই মিউচু্যয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের জন্য কোন বিনিয়োগকারীই আর আগ্রহী হবেন না। আর এ আশঙ্কা সত্যি হলে পুঁজিবাজারের জন্য অত্যনত্ম গুরম্নত্বপূর্ণ এ খাতটি অসত্মিত্ব সঙ্কটে পড়বে বলে মনে করছেন সংশিস্নষ্টরা।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচু্যয়াল ফান্ড ইউনিটের দর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের অক্টোবরে এ খাতের জন্য মার্জিন ঋণ সুবিধা বাতিল করেছিল এসইসি। পাশাপাশি ১০ বছর অতিক্রানত্ম মেয়াদহীন ফান্ডগুলো বিলুপ্তির ঘোষণা এবং একাধিক মামলা নিয়ে জটিলতার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিউচু্যয়াল ফান্ডের প্রতি অনাগ্রহ তৈরি হয়। এর মধ্যে তিন দফায় সীমিত আকারে ঋণ সুবিধা বাড়ানো হলেও সামগ্রিক লেনদেনে কোন প্রভাব পড়েনি। কারণ মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো মিউচু্যয়াল ফান্ড লেনদেনে ঋণ সুবিধা বন্ধ রেখেছে।
মিউচু্যয়াল ফান্ডের বাজার মূল্য এর প্রকৃত সম্পদ মূল্যের (এনএভি) তুলনায় ১৫০ শতাংশ বেশি না হলে ওই ফান্ডের বিপরীতে মার্জিন ঋণ প্রদানের সুযোগ দিয়েছে এসইসি। এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০টি মিউচু্যয়াল ফান্ডের মধ্যে সর্বশেষ বাজার মূল্য অনুযায়ী ২৮টি ফান্ডই ঋণ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠানই গ্রাহকদের ঋণ দিচ্ছে না। গ্রাহকদের অভিযোগ, মিউচু্যয়াল ফান্ড ইউনিট কেনার জন্য ঋণ সুবিধা চাইলেও সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অপারগতা প্রকাশ করছে। এজন্য একেক হাউসে একেক কারণ দেখানো হচ্ছে। তবে অধিকাংশ ৰেত্রেই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধানত্মেই ঋণ সুবিধা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সেকেন্ডারি মার্কেটের পাশাপাশি আইপিওর ৰেত্রেও মিউচু্যয়াল ফান্ডের প্রতি অনাগ্রহী হয়ে উঠেছেন বিনিয়োগকারীরা। ২০০৯ সালে বাজারে আসা ফান্ডগুলোর আইপিওতে যেখানে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি আবেদন জমা পড়েছে, সেখানে গত তিন মাসে বাজারে আসা মিউচু্যয়াল ফান্ডগুলোতে আবেদন জমা পড়েছে নির্ধারিত ইউনিটের চেয়ে সামান্য বেশি। তবে কয়েকটি মিউচু্যয়াল ফান্ডের ৰেত্রে স্থানীয় ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের কোটায় বরাদ্দকৃত ইউনিটের চেয়ে কম আবেদন জমা পড়েছে। মিউচু্যয়াল ফান্ড কোটায় বেশি আবেদন পড়ায় সামগ্রিকভাবে আবেদনের পরিমাণ নির্ধারিত ইউনিটের তুলনায় সামান্য বেশি হয়েছে।
শুধু তাই নয়, সর্বশেষ কয়েকটি মিউচু্যয়াল ফান্ডের পেস্নসমেন্টের ইউনিট বরাদ্দ নেয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীদের কাছে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানকে ধর্ণা দিতে হয়েছে বলে শোনা যায়। অথচ পেস্নসমেন্টে মিউচু্যয়াল ফান্ডের ইউনিট বরাদ্দ পেতে কয়েক মাস আগেও নানা অনৈতিক প্রতিযোগিতা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে এসইসির এক উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, শেয়ারবাজারে মিউচু্যয়াল ফান্ডের পরিমাণ যত বাড়বে, বাজার তত বেশি স্থিতিশীল ও ঝুঁকিমুক্ত হবে। কারণ মিউচু্যয়াল ফান্ডের উদ্যোক্তারা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মূলধন নিয়ে তহবিল গঠন করে তা আবার শেয়ারবাজারেই বিনিয়োগ করে। এৰেত্রে নিয়মিত পর্যবেৰণের মাধ্যমে কোম্পানির মৌল ভিত্তি এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে মিউচু্যয়াল ফান্ডগুলো কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করে। শেয়ারের অতিমূল্যায়ন বা অবমূল্যায়ন রোধে মিউচু্যয়াল ফান্ডগুলো প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে ফান্ডগুলো যে মুনাফা অর্জন করে, তার পুরোটাই আনুপাতিকহারে বিনিয়োগকারীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। ফলে মিউচু্যয়াল ফান্ডের পুরো অর্থও ঘুরেফিরে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হয়।
এ কারণে শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক তহবিলের গুরম্নত্ব বাড়াতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যেই মিউচু্যয়াল ফান্ডের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কমিশনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পুঁজিবাজারের বিনিয়োগের গভীরতা বাড়াতে প্রতি মাসে কমপৰে দু’টি নতুন মিউচু্যয়াল ফান্ড অনুমোদনের নীতিগত সিদ্ধানত্ম নিয়েছে এসইসি। সেই আলোকে নিয়মিতভাবেই একের পর এক মিউচু্যয়াল ফান্ড বাজারে আসছে। এই অবস্থায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ না থাকলে মিউচু্যয়াল ফান্ড নিয়ে মন্ত্রণালয় ও এসইসির এই প্রচেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Source: The Daily Janakantha, 24 Nov, 2010

This entry was posted in News on by .

About bdipo Team

Started our journey in Jan 2009. A simple idea is getting bigger. A baby born and learning to walk, talk, imitate and express. This page is dedicated to that eternal urge of expression. The humane and emotional side of bdipo.